প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
লালবাগ রাজস্ব সার্কেলে জনবান্ধব সেবার নতুন দিগন্ত
স্টাফ রিপোর্টার ||
দেশব্যাপী তিন দিনব্যাপী আয়োজিত “ভূমিসেবা মেলা-২০২৬” গত ১৯ মে শুরু হয়ে গতকাল ২১ মে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একযোগে শেষ হয়েছে। এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য ছিল— *“জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা: সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ”*। মেলাকে কেন্দ্র করে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, সেবা সহজীকরণ এবং দ্রুততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন যুগান্তকারী উদ্যোগ ও কার্যক্রম সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ভূমি-সংক্রান্ত অধিকার ও সেবা সম্পর্কে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় এবার।রাজধানীর তেজগাঁও সাতরাস্তা এলাকায় অবস্থিত ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরে (DLRS) আয়োজিত মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে বিভিন্ন রাজস্ব সার্কেলের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহকালে জানা যায়, লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সেবামূলক স্টল ও তাদের বর্তমান কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া এবং গভীর কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।হয়রানি ও দালালমুক্ত সেবার নতুন দৃষ্টান্ত :অনুসন্ধানে ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শরিফুল হক দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এই সার্কেলের সেবার মানে এক আমূল পরিবর্তন এসেছে। তিনি কার্যক্রমে গতি বৃদ্ধি এবং জনভোগান্তি শূন্যে নামিয়ে আনতে নানামুখী কার্যকর ও সাহসী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তার কঠোর নজরদারির কারণে কার্যালয়টি এখন সম্পূর্ণ দালালচক্রের প্রভাবমুক্ত। সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান কর্মকর্তার দায়িত্বকালে তারা পূর্বের তুলনায় কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই, অত্যন্ত দ্রুত সময়ে এবং পানির মতো সহজ প্রক্রিয়ায় ই-নামজারি (e-Mutation) সহ বিভিন্ন সেবা পাচ্ছেন।মেলা প্রাঙ্গণে সেবাগ্রহীতাদের স্বস্তি ও ইতিবাচক :মেলায় লালবাগ সার্কেলের স্টলে অংশ নেওয়া একাধিক সেবাগ্রহীতা ও সাধারণ নাগরিক এই প্রতিবেদকের কাছে তাদের সন্তুষ্টির কথা জানান। লালবাগ এলাকা থেকে মেলায় আসা এক প্রবীণ নাগরিক বলেন,"একটা সময় ছিল যখন ভূমি অফিসে যাওয়া মানেই ছিল অন্তহীন ভোগান্তি আর দীর্ঘসূত্রতা। কিন্তু এখন প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এবং প্রশাসনের আন্তরিকতায় চিত্রটা পুরো বদলে গেছে। লালবাগ সার্কেলে এখন ঘরে বসেই অনেক কাজ ট্র্যাক করা যায়, অফিসে গেলেও অতিরিক্ত ঝামেলা পোহাতে হয় না।"অন্যান্য সেবাগ্রহীতারাও জানান, দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হওয়ায় এবং অপ্রয়োজনীয় টেবিল-ওয়ার্ক বা দীর্ঘসূত্রতা কমে আসায় ভূমি প্রশাসনের ওপর সাধারণ মানুষের হারিয়ে যাওয়া আস্থা আবার ফিরতে শুরু করেছে।প্রযুক্তিনির্ভর ও সুশাসনভিত্তিক ভূমি ব্যবস্থাপনা :স্থানীয় সচেতন মহল ও মেলায় আসা দর্শনার্থীদের মতে, বর্তমান সরকারের 'স্মার্ট ভূমি সেবা'র যে রূপকল্প, লালবাগ রাজস্ব সার্কেল যেন তারই বাস্তব প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর ও শতভাগ জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের এই আস্থা দিন দিন আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। তারা মনে করেন, মাঠ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা যদি সততা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করেন, তবে পুরো ব্যবস্থার চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব— লালবাগ সার্কেলই তার বড় প্রমাণ। এই ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ দেশের প্রতিটি ভূমি অফিসে ছড়িয়ে দিলে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ এবং সুশাসনভিত্তিক ভূমি সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞরা
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরমান চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ইছামতি