নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়ন ভূমি অফিস এখন সাধারণ মানুষের কাছে এক আতঙ্কের নাম। সরকারের ভূমি সেবাকে জনবান্ধব করার নির্দেশনা থাকলেও এখানে চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মুফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট গড়ে তোলা, নজিরবিহীন ঘুষ বাণিজ্য এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। তার অনিয়মের কাছে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন অত্র ইউনিয়নের কয়েক হাজার ভূমি মালিক।অভিযোগের পাহাড়স্থানীয়দের অভিযোগ, কাচিনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না। জমির নামজারি (মিউটেশন), ডিসিআর কাটা কিংবা খাজনা দাখিলা—প্রতিটি ধাপে নায়েব মুফিজুলকে গুনতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা। সরকারি নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা দাবি করা এখানে নিয়মে পরিণত হয়েছে। কেউ টাকা দিতে অস্বীকার করলে তার ফাইলে নানা অজুহাতে ভুল ধরে মাসের পর মাস ঘুরানো হয়।সরেজমিনে ভুক্তভোগীদের বক্তব্যনাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সেবাগ্রহীতা জানান:হয়রানি: সাধারণ মানুষ জমি সংক্রান্ত কাজে গেলে নায়েব মুফিজুল তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন এবং দালালদের মাধ্যমে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।ঘুষের রেট: নামজারির ক্ষেত্রে সরকারি ফি নামমাত্র হলেও, এখানে ক্ষেত্রভেদে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ফাইল গায়েব বা দীর্ঘসূত্রতার শিকার হতে হয়।পার্থিব ভোগান্তি: বয়স্ক ও প্রান্তিক কৃষকরা দিনের পর দিন অফিসে এসেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে চোখের জল ফেলে ফিরে যাচ্ছেন।সিন্ডিকেট শাসনঅভিযোগ রয়েছে, নায়েব মুফিজুল অফিসের বাইরে একটি নিজস্ব দালাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন। অফিসের নথিপত্র অনেক সময় বাইরের লোকজনের হাতে দেখা যায়, যা গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার চরম লঙ্ঘন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই চলে টাকার লেনদেন, যাতে সরাসরি কোনো প্রমাণ না থাকে।কর্তৃপক্ষের নিরবতাদীর্ঘদিন ধরে কাচিনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এমন অরাজকতা চললেও রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—একজন সরকারি কর্মকর্তার এতো সাহস কোথা থেকে আসে? কার খুঁটির জোরে তিনি সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দুর্নীতির পাহাড় গড়েছেন?দাবি ও প্রতিকারকাচিনা ইউনিয়নের ভুক্তভোগী জনসাধারণ এই "দুর্নীতির আখড়া" থেকে মুক্তি পেতে এবং নায়েব মুফিজুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ অবিলম্বে তাকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। সরকারের ডিজিটাল ভূমি সেবার সুফল নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা।