ঢাকা   মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
English
ই-পেপার
ইছামতী
সর্বশেষ

ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বাস্থ্য খাতের অগ্রযাত্রা,তবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের তাগিদ রাষ্ট্রপতির

দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও জনবান্ধব করে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার ধ্বংসস্তূপ থেকে কাজ শুরু করেছে। সেই বিবেচনায় স্বাস্থ্য খাতের অগ্রযাত্রা ইতিবাচক হলেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা জরুরি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীতে বাংলাদেশ সোসাইটি অব কোলন অ্যান্ড রেক্টাল সার্জনস (বিএসসিআরএস) আয়োজিত ‘বিএসসিআরএস কংগ্রেস ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, অতীতে অপরিকল্পিত উদ্যোগ ও দুর্নীতির কারণে দেশের স্বাস্থ্য খাত প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শুধু সাময়িক পদক্ষেপ নিলে হবে না; বরং স্বাস্থ্য খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা পরিচালনা ও সরকারি অর্থ ব্যয়ের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বরাদ্দ দিয়েছে। তবে শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে না। বরাদ্দ করা অর্থের যথাযথ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে প্রকৃত সুফল পান। অর্থের অভাবে চিকিৎসাবঞ্চিত হওয়া চলবে না রাষ্ট্রপতি বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো মানুষ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। চিকিৎসা মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে কাউকে চিকিৎসা না পেয়ে দুর্ভোগের শিকার হতে দেওয়া উচিত নয়। তিনি মনে করেন, স্বাস্থ্যসেবাকে প্রকৃত অর্থে জনমুখী করতে হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সেবার মান উন্নত করতে হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহজলভ্য করার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বিদেশমুখী চিকিৎসা কমাতে সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের মানুষকে যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিদেশে যেতে না হয়, সে লক্ষ্যে দেশীয় চিকিৎসাব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। এ জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসার অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি এবং আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতির প্রসার ঘটানো প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতির মতে, দেশের হাসপাতালগুলোতে আধুনিক চিকিৎসাসুবিধা সম্প্রসারণ এবং বিশেষায়িত চিকিৎসায় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা গেলে দেশের ভেতরেই আরও উন্নত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এতে রোগীদের বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন কমানোর পাশাপাশি দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাও বাড়বে। বিশেষায়িত সার্জারিতে দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্ব কোলন ও রেক্টাল সার্জারিসহ বিশেষায়িত চিকিৎসাক্ষেত্রে দক্ষ চিকিৎসক তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রজন্মের সার্জন ও চিকিৎসকেরা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞান, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন। তিনি বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চিকিৎসকদের নিয়মিত জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, বৈজ্ঞানিক আলোচনা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে সম্মেলনের গুরুত্ব বাংলাদেশ সোসাইটি অব কোলন অ্যান্ড রেক্টাল সার্জনসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিএসসিআরএস কংগ্রেস ২০২৬ চিকিৎসকদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশাগত আয়োজন। সংগঠনটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে কোলন ও রেক্টাল সার্জারির সাম্প্রতিক অগ্রগতি, আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রসারে এ ধরনের আয়োজন দেশের চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে পারে। সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি তার কার্যকর ব্যবহার, সুশাসন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পরিকল্পিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করে তোলা সম্ভব হবে।

যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের ঢল,প্রধান অতিথি রুহুল কবির রিজভী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে সরকারি সফরে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চার দিনের এ সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন সহযোগিতা আরও গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রীর জাপানের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে। সফরে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিক এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা। সফরসূচি অনুযায়ী, টোকিওতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী জাপানের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেবেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নে জাপানের সহযোগিতা দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে অবকাঠামো নির্মাণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এবারের সফরে এসব খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশে নতুন জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। বাংলাদেশে শিল্পকারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়গুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। এ ছাড়া জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এবং দেশটির বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। এসব আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। সফরের শেষ পর্যায়ে জাপানের নাগোয়া শহরে যাওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে টয়োটা মোটর করপোরেশনের একটি কারখানা এবং শিল্প ও প্রযুক্তিবিষয়ক জাদুঘর পরিদর্শনের কথা রয়েছে। এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে জাপানের শিল্পায়ন, আধুনিক উৎপাদনব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তারেক রহমানের এই সফরকে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে সফরটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।চার দিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশে ফেরার কথা রয়েছে ২৯ অক্টোবর। সফরে আলোচনার ভিত্তিতে কোনো সমঝোতা, চুক্তি বা নতুন সহযোগিতা উদ্যোগ গৃহীত হলে তা দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মেঘনাঘাট–হরিপুর জাতীয় গ্রিডে ত্রুটি,ভোগান্তিতে বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা / ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়,কারণ জানাল পিডিবি

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে সরকারি সফরে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চার দিনের এ সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন সহযোগিতা আরও গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রীর জাপানের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে। সফরে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিক এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা। সফরসূচি অনুযায়ী, টোকিওতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী জাপানের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেবেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নে জাপানের সহযোগিতা দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে অবকাঠামো নির্মাণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এবারের সফরে এসব খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশে নতুন জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। বাংলাদেশে শিল্পকারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়গুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। এ ছাড়া জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এবং দেশটির বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। এসব আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। সফরের শেষ পর্যায়ে জাপানের নাগোয়া শহরে যাওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে টয়োটা মোটর করপোরেশনের একটি কারখানা এবং শিল্প ও প্রযুক্তিবিষয়ক জাদুঘর পরিদর্শনের কথা রয়েছে। এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে জাপানের শিল্পায়ন, আধুনিক উৎপাদনব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তারেক রহমানের এই সফরকে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে সফরটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।চার দিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশে ফেরার কথা রয়েছে ২৯ অক্টোবর। সফরে আলোচনার ভিত্তিতে কোনো সমঝোতা, চুক্তি বা নতুন সহযোগিতা উদ্যোগ গৃহীত হলে তা দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সাদমা টেক্সটাইলে ভাঙচুর,দুই পাশে দীর্ঘ যানজট;পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের চেষ্টা / বেতন-ভাতা ও বোনাস বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ,ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে সরকারি সফরে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চার দিনের এ সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন সহযোগিতা আরও গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রীর জাপানের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে। সফরে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিক এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা। সফরসূচি অনুযায়ী, টোকিওতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী জাপানের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেবেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নে জাপানের সহযোগিতা দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে অবকাঠামো নির্মাণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এবারের সফরে এসব খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশে নতুন জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। বাংলাদেশে শিল্পকারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়গুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। এ ছাড়া জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এবং দেশটির বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। এসব আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। সফরের শেষ পর্যায়ে জাপানের নাগোয়া শহরে যাওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে টয়োটা মোটর করপোরেশনের একটি কারখানা এবং শিল্প ও প্রযুক্তিবিষয়ক জাদুঘর পরিদর্শনের কথা রয়েছে। এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে জাপানের শিল্পায়ন, আধুনিক উৎপাদনব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তারেক রহমানের এই সফরকে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে সফরটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।চার দিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশে ফেরার কথা রয়েছে ২৯ অক্টোবর। সফরে আলোচনার ভিত্তিতে কোনো সমঝোতা, চুক্তি বা নতুন সহযোগিতা উদ্যোগ গৃহীত হলে তা দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
কড়াইলে রাজকীয় বাড়ি ও বনানীতে চাঁদাবাজি: বিতর্কে যুবদলের সাবেক নেতা শাহজাহান

কড়াইলে রাজকীয় বাড়ি ও বনানীতে চাঁদাবাজি: বিতর্কে যুবদলের সাবেক নেতা শাহজাহান

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে ২৫ বাংলাদেশি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ; উন্মুক্ত শ্রমবাজারের দাবিতে অনিশ্চয়তা

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে ২৫ বাংলাদেশি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ; উন্মুক্ত শ্রমবাজারের দাবিতে অনিশ্চয়তা

চামড়া সংরক্ষণে  বিনামূল্যে ৩০ হাজার টন লবণ দেবে সরকার

চামড়া সংরক্ষণে বিনামূল্যে ৩০ হাজার টন লবণ দেবে সরকার

যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের মতবিনিময় সভা

যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের মতবিনিময় সভা

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬

পুরোনো রাউটারকে বানিয়ে ফেলুন ওয়াই-ফাই এক্সটেন্ডার

পুরোনো রাউটারকে বানিয়ে ফেলুন ওয়াই-ফাই এক্সটেন্ডার

সাগরপথে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন বন্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর

সাগরপথে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন বন্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের দাবি সমাবেশ

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের দাবি সমাবেশ

চাচা-ভাতিজির অনৈতিক সম্পর্কে ভাতিজির বিবাহ বিচ্ছেদ, এলাকায় তোলপাড়

চাচা-ভাতিজির অনৈতিক সম্পর্কে ভাতিজির বিবাহ বিচ্ছেদ, এলাকায় তোলপাড়

যাত্রাজগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র আনসার উল্লাহর মৃত্যুতে বাংলাদেশ যাত্রাশিল্পী কল্যাণ পরিষদের গভীর শোক

যাত্রাজগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র আনসার উল্লাহর মৃত্যুতে বাংলাদেশ যাত্রাশিল্পী কল্যাণ পরিষদের গভীর শোক

সংস্কার বাস্তবায়ন থেকে আইনশৃঙ্খলা—বিভিন্ন ইস্যুতে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক

সংস্কার বাস্তবায়ন থেকে আইনশৃঙ্খলা—বিভিন্ন ইস্যুতে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক

ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বাস্থ্য খাতের অগ্রযাত্রা,তবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের তাগিদ রাষ্ট্রপতির

ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বাস্থ্য খাতের অগ্রযাত্রা,তবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের তাগিদ রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে নতুন প্রত্যাশা,দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ ব্রিফিংয়ে তারেক রহমান

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে নতুন প্রত্যাশা,দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ ব্রিফিংয়ে তারেক রহমান

যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের ঢল,প্রধান অতিথি রুহুল কবির রিজভী

যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের ঢল,প্রধান অতিথি রুহুল কবির রিজভী

ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়,কারণ জানাল পিডিবি

ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়,কারণ জানাল পিডিবি

বেতন-ভাতা ও বোনাস বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ,ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ

বেতন-ভাতা ও বোনাস বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ,ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ

আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্যে তোলপাড়,দেশে ফিরে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: ডা. জাহেদ উর রহমান

আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্যে তোলপাড়,দেশে ফিরে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: ডা. জাহেদ উর রহমান

রাজধানীতে বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প মালিক সমিতির ত্রিবার্ষিক নির্বাচন,ভোট গ্রহণ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত

রাজধানীতে বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প মালিক সমিতির ত্রিবার্ষিক নির্বাচন,ভোট গ্রহণ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে তারেক রহমান-সানায়ে তাকাইচি বৈঠক,গুরুত্ব পাচ্ছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে তারেক রহমান-সানায়ে তাকাইচি বৈঠক,গুরুত্ব পাচ্ছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ

 মহেশপুর যুবসমাজের উদ্যোগে শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্ট, প্রধান অতিথি মেহেদী হাসান রনি

মহেশপুর যুবসমাজের উদ্যোগে শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্ট, প্রধান অতিথি মেহেদী হাসান রনি

ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বাস্থ্য খাতের অগ্রযাত্রা,তবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের তাগিদ রাষ্ট্রপতির

দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও জনবান্ধব করে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার ধ্বংসস্তূপ থেকে কাজ শুরু করেছে। সেই বিবেচনায় স্বাস্থ্য খাতের অগ্রযাত্রা ইতিবাচক হলেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা জরুরি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীতে বাংলাদেশ সোসাইটি অব কোলন অ্যান্ড রেক্টাল সার্জনস (বিএসসিআরএস) আয়োজিত ‘বিএসসিআরএস কংগ্রেস ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, অতীতে অপরিকল্পিত উদ্যোগ ও দুর্নীতির কারণে দেশের স্বাস্থ্য খাত প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শুধু সাময়িক পদক্ষেপ নিলে হবে না; বরং স্বাস্থ্য খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা পরিচালনা ও সরকারি অর্থ ব্যয়ের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বরাদ্দ দিয়েছে। তবে শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে না। বরাদ্দ করা অর্থের যথাযথ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে প্রকৃত সুফল পান। অর্থের অভাবে চিকিৎসাবঞ্চিত হওয়া চলবে না রাষ্ট্রপতি বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো মানুষ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। চিকিৎসা মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে কাউকে চিকিৎসা না পেয়ে দুর্ভোগের শিকার হতে দেওয়া উচিত নয়। তিনি মনে করেন, স্বাস্থ্যসেবাকে প্রকৃত অর্থে জনমুখী করতে হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সেবার মান উন্নত করতে হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহজলভ্য করার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বিদেশমুখী চিকিৎসা কমাতে সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের মানুষকে যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিদেশে যেতে না হয়, সে লক্ষ্যে দেশীয় চিকিৎসাব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। এ জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসার অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি এবং আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতির প্রসার ঘটানো প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতির মতে, দেশের হাসপাতালগুলোতে আধুনিক চিকিৎসাসুবিধা সম্প্রসারণ এবং বিশেষায়িত চিকিৎসায় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা গেলে দেশের ভেতরেই আরও উন্নত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এতে রোগীদের বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন কমানোর পাশাপাশি দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাও বাড়বে। বিশেষায়িত সার্জারিতে দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্ব কোলন ও রেক্টাল সার্জারিসহ বিশেষায়িত চিকিৎসাক্ষেত্রে দক্ষ চিকিৎসক তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রজন্মের সার্জন ও চিকিৎসকেরা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞান, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন। তিনি বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চিকিৎসকদের নিয়মিত জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, বৈজ্ঞানিক আলোচনা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে সম্মেলনের গুরুত্ব বাংলাদেশ সোসাইটি অব কোলন অ্যান্ড রেক্টাল সার্জনসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিএসসিআরএস কংগ্রেস ২০২৬ চিকিৎসকদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশাগত আয়োজন। সংগঠনটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে কোলন ও রেক্টাল সার্জারির সাম্প্রতিক অগ্রগতি, আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রসারে এ ধরনের আয়োজন দেশের চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে পারে। সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি তার কার্যকর ব্যবহার, সুশাসন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পরিকল্পিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করে তোলা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে নতুন প্রত্যাশা,দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ ব্রিফিংয়ে তারেক রহমান

বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে আলোচনার বিষয়বস্তু ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়ে বক্তব্য দেন। পরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওতে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কার্যালয় ‘কান্তেই’-তে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চার দিনের সরকারি সফরে জাপানে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ অক্টোবর তিনি টোকিও পৌঁছান। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পায়। যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান এবং উভয় দেশের জনগণের সমৃদ্ধির শক্তিশালী ভিত্তিতে রূপ দেওয়ার প্রত্যাশা তুলে ধরেন। তিনি জাপানি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন এবং জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর বিষয়টিও সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক ও যৌথ ব্রিফিং শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা অংশ নেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এ মধ্যাহ্নভোজ দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির অংশ ছিল। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেওয়ার এবং জাপানের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচিও রয়েছে। এসব আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। অবকাঠামো, পরিবহন, জ্বালানি ও শিল্প খাতে দেশটির সহযোগিতা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর সফরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলো এগিয়ে চলছে।

সব বিভাগের খবর

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে নতুন প্রত্যাশা,দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ ব্রিফিংয়ে তারেক রহমান

বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে আলোচনার বিষয়বস্তু ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়ে বক্তব্য দেন। পরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওতে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কার্যালয় ‘কান্তেই’-তে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চার দিনের সরকারি সফরে জাপানে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ অক্টোবর তিনি টোকিও পৌঁছান। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পায়। যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান এবং উভয় দেশের জনগণের সমৃদ্ধির শক্তিশালী ভিত্তিতে রূপ দেওয়ার প্রত্যাশা তুলে ধরেন। তিনি জাপানি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন এবং জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর বিষয়টিও সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক ও যৌথ ব্রিফিং শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা অংশ নেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এ মধ্যাহ্নভোজ দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির অংশ ছিল। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেওয়ার এবং জাপানের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচিও রয়েছে। এসব আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। অবকাঠামো, পরিবহন, জ্বালানি ও শিল্প খাতে দেশটির সহযোগিতা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর সফরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলো এগিয়ে চলছে।

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে তারেক রহমান-সানায়ে তাকাইচি বৈঠক,গুরুত্ব পাচ্ছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্য নিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) জাপানের রাজধানী টোকিওতে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কার্যালয় ‘কান্তেই’-তে দুই দেশের সরকারপ্রধানের এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে জাপানে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সফরসূচি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কান্তেইতে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হওয়ার কথা ছিল। বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পায় বলে বৈঠকের ঘোষিত আলোচ্যসূচিতে উল্লেখ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের অন্যতম লক্ষ্য বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ করা। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশে জাপানের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতা রয়েছে। বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প, যোগাযোগব্যবস্থা, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানের অংশগ্রহণ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে। নতুন বিনিয়োগ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্য সম্প্রসারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের জন্য জাপানের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করা এবং নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টি নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের বিষয়টিও সফরের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডার অংশ। এ চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে এবং বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে পারে। দুই দেশের সহযোগিতার সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, ডিজিটাল রূপান্তর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কারিগরি শিক্ষা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন। এসব খাতে জাপানের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ, মৎস্য, অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক ও চুক্তির বিষয়ও সফরের আগে আলোচনায় এসেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক খাতের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজ আয়োজন করবেন বলে সফরসূচিতে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া জাপানের সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক, শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন এবং বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তারেক রহমানের এ সফর বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। জাপানের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে সফরটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।তবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলোর বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত, চুক্তি ও সমঝোতার বাস্তবায়নের ওপর। বৈঠক শেষে যৌথ ঘোষণা বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হলে দুই দেশের সহযোগিতার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য,প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা / তারেক রহমানের সঙ্গে তারো আসোর সৌজন্য সাক্ষাৎ,জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্বারোপ

টোকিও,জাপান | ২৬ অক্টোবর ২০২৬ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের (Japan-Bangladesh Parliamentary Friendship League—JBPFL) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ৩টায় জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসোর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের অব্যাহত ভূমিকার জন্য তারো আসোকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি ২০০৬ সালে জাপান সফরের স্মৃতিচারণ করেন। সে সময় বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তারো আসোর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল। অন্যদিকে, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের স্মৃতিও তুলে ধরেন। তাঁদের আলোচনায় দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা এবং পারস্পরিক বন্ধুত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকালে তারো আসো বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সাক্ষাতে উভয় পক্ষ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে। বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী জাপানি কোম্পানি বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে আলোচনায় তারো আসো বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ। এ বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তারো আসো আরও বলেন, এ পরিস্থিতিতে জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী। দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব বলেও আলোচনায় উঠে আসে। জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে তাঁর সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বিনিয়োগ কার্যক্রম সহজ করা, ব্যবসা পরিচালনায় বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা কমানো এবং প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারের বিষয়েও সরকার কাজ করছে। এ ছাড়া শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়নে সহযোগিতা কামনা বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (Economic Partnership Agreement—EPA) স্বাক্ষরের পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে তারো আসোর সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্যের জাপানি বাজারে প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের সম্ভাবনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনাকে বাস্তব অর্থনৈতিক সুফলে রূপ দিতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, দক্ষ জনশক্তি, কার্যকর নীতিমালা এবং চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জাপানের পক্ষে প্রতিনিধিদলে তারো আসোর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দেশটির সাবেক মন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরা (Yasutoshi Nishimura), ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশি (Tatsunori Ibayashi) এবং জাপানের সংসদের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা। ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তারেক রহমানের জাপান সফরের প্রেক্ষাপটে এ সাক্ষাৎকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ জনশক্তি গঠন এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ ও উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের আরও শক্তিশালী ভিত্তিতে রূপ দেওয়াই এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের অন্যতম লক্ষ্য।

জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান,দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে সরকারি সফরে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চার দিনের এ সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন সহযোগিতা আরও গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রীর জাপানের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে। সফরে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিক এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা। সফরসূচি অনুযায়ী, টোকিওতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী জাপানের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেবেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নে জাপানের সহযোগিতা দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে অবকাঠামো নির্মাণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এবারের সফরে এসব খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশে নতুন জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। বাংলাদেশে শিল্পকারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়গুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। এ ছাড়া জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এবং দেশটির বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। এসব আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। সফরের শেষ পর্যায়ে জাপানের নাগোয়া শহরে যাওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে টয়োটা মোটর করপোরেশনের একটি কারখানা এবং শিল্প ও প্রযুক্তিবিষয়ক জাদুঘর পরিদর্শনের কথা রয়েছে। এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে জাপানের শিল্পায়ন, আধুনিক উৎপাদনব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তারেক রহমানের এই সফরকে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে সফরটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।চার দিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশে ফেরার কথা রয়েছে ২৯ অক্টোবর। সফরে আলোচনার ভিত্তিতে কোনো সমঝোতা, চুক্তি বা নতুন সহযোগিতা উদ্যোগ গৃহীত হলে তা দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সাইবার হামলার আলামত: জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাময়িক বন্ধ, সচলের চেষ্টা চলছে

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে সাইবার হামলার আলামত শনাক্ত হওয়ার পর আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে তা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ওয়েবসাইটটিতে অন্তত দুটি স্থানে স্প্যাম ও ম্যালওয়্যারের চিহ্ন পাওয়া গেছে। টানা পাঁচ দিনের ছুটি শেষে ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হলেও আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ওয়েবসাইটটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়নি।ব্যাংকটির তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ওয়েবসাইটের দুটি স্থানে হামলার আলামত শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ত্রুটি ও নিরাপত্তা ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করে পুরো ব্যবস্থা নিরাপদ করার কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আজকের মধ্যেই ওয়েবসাইটটি পূর্ণ নিরাপদ অবস্থায় সচল করা যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।এদিকে, জনতা ব্যাংকে বর্তমানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদটি শূন্য থাকায় এ বিষয়ে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। গত ১৯ অক্টোবর তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবুর রহমানের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে সরকার। এর পরপরই দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ব্যাংক খাতে টানা পাঁচ দিনের ছুটি শুরু হয়।উল্লেখ্য, সম্প্রতি বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপি (PHP)-তে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার বড় ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ২১ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা 'এনিসা' (ENISA) ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিশ্বব্যাপী যৌথ সতর্কতা জারি করে।

ট্রাম্পের জোরালো ইঙ্গিত, ইরানে যেকোনো সময় যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক হামলা!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফ্লোরিডার এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান যদি একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে না আসে, তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে আবারও সামরিক অভিযান চালাতে পারে। এই সংবাদের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো: ট্রাম্প তার বক্তব্যে সরাসরি উল্লেখ করেছেন যে, পরিস্থিতি সাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্র আবারও 'অপারেশন এপিক ফিউরি' (Operation Epic Fury) এর মতো সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারে। তিনি গণমাধ্যমের সামনে বলেন, "খুব দ্রুতই হয়তো নতুন কিছু ঘটতে পারে, তবে একটি সুন্দর ও বড় সমঝোতা চুক্তির সম্ভাবনাও খোলা রয়েছে।" মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, একদিকে যেমন ওয়াশিংটন কূটনীতির দরজা খোলা রাখতে চায়, তেমনি অন্যদিকে তেহরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে। তবে ট্রাম্প সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন যে, ইরান আদৌ কোনো চুক্তি মেনে চলবে কি না বা তা টিকিয়ে রাখবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।মার্কিন হামলার এমন জোরালো ইঙ্গিতের পর তেহরানও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, যদি নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের সাবমেরিন বা আন্ডারসি ইন্টারনেট কেবল এবং কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিগুলোতে কোনো 'রেড লাইন' বা ছাড় দেওয়া হবে না। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী এবং তেল সরবরাহ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও চরমে পৌঁছেছে। এই সম্ভাব্য সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্ব নেতারা। তুরস্ক ও ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি দেশ এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার বিরুদ্ধে কড়া সতর্কতা জানিয়েছে।

ইতিহাসের সেরা ব্যালন ডি’অরজয়ী বাছতে সমর্থকদের ভোটাভুটি শুরু

ইতিহাসের সেরা ব্যালন ডি’অরজয়ী বাছতে সমর্থকদের ভোটাভুটি শুরু

 ফুটবল ইতিহাসের সেরা ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম বেছে নিতে সমর্থকদের জন্য বিশেষ ভোটাভুটির সুযোগ চালু করেছে ব্যালন ডি’অরের অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্ম। চলতি অক্টোবরের শুরু থেকে বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের জন্য এই ঐতিহাসিক ভোটাভুটি উন্মুক্ত করা হয়েছে।প্যারিসের স্থানীয় সময় আগামী ২৭ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত ফুটপ্রেমীরা তাদের পছন্দের সেরা মৌসুমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে বিশ্ব ফুটবলের ১০ জন কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের ব্যালন ডি’অরজয়ী স্মরণীয় মৌসুমগুলো থেকে নিজেদের পছন্দের সেরা মৌসুমটি বেছে নিতে পারছেন সমর্থকেরা। ভোটাভুটির এই বিশেষ তালিকায় লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন— রোনালদো নাজারিও, মার্কো ফান বাস্তেন, মিশেল প্লাতিনি, কার্ল-হাইন্ৎস রুমেনিগে, কেভিন কিগান, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, ইয়োহান ক্রুইফ এবং আলফ্রেদো দি স্তেফানো। চলতি প্রক্রিয়ার এক ব্যতিক্রমী দিক হলো, প্রতিবার ভোট দেওয়ার জন্য একজন সমর্থককে ১ ইউরো প্রদান করতে হচ্ছে। এর বিনিময়ে প্রতিটি ভোটের সাথে ভোটাররা ট্রফির একটি বিশেষ ছবি ডাউনলোড করার পাশাপাশি চলতি বছরের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের দুটি টিকিট জেতার লটারিতে অংশ নেওয়ার দারুণ সুযোগ পাচ্ছেন। সংস্থাতার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একজন সমর্থক চাইলে একাধিকবার ভোট দিতে পারবেন; এমনকি একই পছন্দের খেলোয়াড় বা একই মৌসুমের পক্ষেও বারবার ভোট দেওয়া যাবে। ফুটবলপ্রেমীরা সরাসরি প্ল্যাটফর্মটিতে প্রবেশ করে ভোটের রিয়েল-টাইম শতাংশ এবং বর্তমান ট্রেন্ডও দেখতে পারছেন।

রুটকে টপকে বিশ্বরেকর্ড পুনরুদ্ধার: টেস্টে সর্বোচ্চ ক্যাচের চূড়ায় স্টিভ স্মিথ

রুটকে টপকে বিশ্বরেকর্ড পুনরুদ্ধার: টেস্টে সর্বোচ্চ ক্যাচের চূড়ায় স্টিভ স্মিথ

টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ক্যাচের রেকর্ডটি আবার নিজের নামে লিখিয়ে নিলেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটার স্টিভ স্মিথ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ডারবানের কিংসমিডে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনে গতকাল (রোববার, ১১ অক্টোবর) চমৎকার ফিল্ডিংয়ের প্রদর্শনীতে এই নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি। ম্যাচের এক ইনিংসে স্লিপে দুর্দান্ত চার-চারটি ক্যাচ তালুবন্দী করে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের মোট ক্যাচ সংখ্যা ২২৩-এ উন্নীত করেছেন ৩৭ বছর বয়সী এই অজি তারকা। এর মাধ্যমে তিনি ইংল্যান্ডের জো রুটকে পেছনে ফেলে বিশ্বরেকর্ডটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।রোববার দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে নাথান লায়নের বলে টেম্বা বাভুমাকে ক্যাচ বানিয়ে জো রুটের (২২০টি) সমতায় পৌঁছান স্মিথ। এরপরই আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত—প্যাট কামিন্সের বলে ৪৯ রানে ব্যাট করতে থাকা ডেভিড বেডিংহামের ব্যাটের প্রান্ত ছুঁয়ে আসা বলটি স্লিপে বাঁ দিকে ডাইভ দিয়ে দর্শনীয়ভাবে ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। এটিই ছিল স্মিথের রেকর্ড সৃষ্টকারী ২২১তম ক্যাচ। স্মিথ এখানেই ক্ষান্ত হননি; পরবর্তীতে এক হাতে অবিশ্বাস্য আরেক ক্যাচে কাইল ভেরেনকে এবং ইনিংসের শেষ উইকেটে আনরিখ নরকিয়াকে ফেরাতে চতুর্থ ক্যাচ নিয়ে নিজের মোট সংখ্যা নিয়ে যান ২২৩-এ। টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ক্যাচগ্রহীতা ফিল্ডার (উইকেটরক্ষক ব্যতিত): ১. স্টিভ স্মিথ (অস্ট্রেলিয়া) - ২২৩টি ক্যাচ ২. জো রুট (ইংল্যান্ড) - ২২০টি ক্যাচ ৩. রাহুল দ্রাবিড় (ভারত) - ২১০টি ক্যাচ ৪. মাহেলা জয়বর্ধনে (শ্রীলঙ্কা) - ২০৫টি ক্যাচ ৫. জ্যাক ক্যালিস (দক্ষিণ আফ্রিকা) - ২০০টি ক্যাচগত আগস্টে হেডিংলিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে স্মিথকে টপকে টেস্টে সর্বোচ্চ ক্যাচের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছিলেন ইংলিশ ব্যাটার জো রুট। তবে দুই মাসের কম সময়ের ব্যবধানেই কিংসমিডে নিজের ফিল্ডিংয়ের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে সেই সিংহাসন উদ্ধার করলেন স্মিথ।উইকেটরক্ষক ছাড়া ফিল্ডারদের তালিকায় জো রুট (২২০) এখন দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছেন। ভারতের সাবেক কিংবদন্তি রাহুল দ্রাবিড় ২১০টি ক্যাচ নিয়ে তালিকার তিন নম্বরে অবস্থান করছেন। জো রুটের চেয়ে বেশ কম ম্যাচ খেলেই এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছালেন অজি তারকা স্মিথ।

ক্যাঙ্গারু শিকার করে ইতিহাসের পাতায় টাইগাররা! অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়

ক্যাঙ্গারু শিকার করে ইতিহাসের পাতায় টাইগাররা! অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো তাদের মাটিতে টেস্ট জয়ের ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এটি নিঃসন্দেহে অন্যতম স্মরণীয় ও গৌরবের দিন।ডারউইনের মারারা ওভালে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয়। জবাবে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ। তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান করেন ঐতিহাসিক ১০১ রান—অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের এটি প্রথম শতক। তাঁর সঙ্গে দলের অন্য ব্যাটারদের কার্যকর অবদানে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান তুলে ২২৮ রানের বিশাল লিড নেয়।দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ক্যামেরন গ্রিন ১০৪ রানের দুর্দান্ত শতক তুলে লড়াই ফেরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত ২৮৪ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।শেষ ইনিংসে অবশ্য শুরুতেই তানজিদ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। তবে এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি শাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। মাত্র ১৪.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। মুমিনুলের ব্যাট থেকে আসে জয়সূচক রান।বাংলাদেশের জয়ে বল হাতে বড় অবদান রাখেন হাসান মাহমুদ। ম্যাচে মোট ৯ উইকেট নিয়ে তিনি হন ম্যাচসেরা। অন্যদিকে মেহেদী হাসান মিরাজ দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ধসিয়ে দেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে পাঁচ উইকেট নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি স্পিনার হিসেবে রেকর্ড গড়েন মিরাজ।এই জয় শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়—এটি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ২৬ বছরের ইতিহাসে এক বড় মাইলফলক। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এর আগে কোনো টেস্ট জয়ের স্বাদ পায়নি বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টেই সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন বার্তা দিল টাইগাররা।দুই ম্যাচের সিরিজে এখন বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ২২ আগস্ট, ম্যাকে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায়। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর এখন টাইগারদের সামনে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের হাতছানি।অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাঘের গর্জন—এ জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের, এ জয় কোটি টাইগার-ভক্তের!

এআই-রোবোটিক্স ও সেমিকন্ডাক্টরে সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে: প্রধানমন্ত্রী

দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উচ্চমূল্য সংযোজনভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান।তিনি বলেছেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বিশ্ব প্রযুক্তি বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে সেমিকন্ডাক্টরসহ বায়োটেকনোলজি, ইলেকট্রনিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবোটিক্স খাতের বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ নভোথিয়েটারে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম এবং বায়োটেকনোলজি, ইলেকট্রনিক্স, এআই ও রোবোটিক্স (BEAR) সামিট ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী এ সামিটের আয়োজন করা হয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প শুধু প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির বিকাশেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে না, বরং এ খাত দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য উচ্চ দক্ষতাভিত্তিক ও উচ্চমূল্য সংযোজনসম্পন্ন কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও জোরদার হবে।তিনি জানান, দেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশে সরকার বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন, কর ও শুল্ক সুবিধা প্রদান, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে সহায়তা, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে। এ খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ব অর্থনীতিতে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হিসেবে নয়, বরং প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উৎপাদনের সক্ষমতাসম্পন্ন দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম এবং BEAR সামিট ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।পরে তিনি সামিটে স্থাপিত বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি, বায়োটেকনোলজি, ইলেকট্রনিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবোটিক্সের সর্বশেষ উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা, প্রযুক্তিবিদ ও অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।আয়োজকরা জানান, সামিটে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সম্ভাবনা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, বিনিয়োগের সুযোগ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, সেমিকন্ডাক্টর, এআই, রোবোটিক্স, ইলেকট্রনিক্স ও বায়োটেকনোলজির মতো উদীয়মান প্রযুক্তিখাতে বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর দেওয়া গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে। একই সঙ্গে তরুণদের জন্য তৈরি হতে পারে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের উপযোগী উচ্চ দক্ষতার কর্মসংস্থান।

"কর অঞ্চল-৯, ঢাকায় ৩৭ পদের আকর্ষণীয় চাকরির সুযোগ: শুধু ঢাকা জেলার স্থায়ী বাসিন্দারা আবেদন করতে পারবেন"

"কর অঞ্চল-৯, ঢাকায় ৩৭ পদের আকর্ষণীয় চাকরির সুযোগ: শুধু ঢাকা জেলার স্থায়ী বাসিন্দারা আবেদন করতে পারবেন"

কর কমিশনারের কার্যালয়, কর অঞ্চল-৯, ঢাকা-এ একাধিক পদে জনবল নিয়োগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ১৩তম থেকে ২০তম গ্রেডে ৩৭টি শূন্য পদে নিয়োগ দেবে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত নিয়ম অনুযায়ী শুধু ঢাকা মহানগর ও ঢাকা জেলার স্থায়ী বাসিন্দারা পদগুলোতে আবেদন করতে পারবেন।নিচে নিয়োগের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো:প্রতিষ্ঠানের নাম: কর কমিশনারের কার্যালয়, কর অঞ্চল-৯, ঢাকামোট শূন্য পদ: ৩৭টিআবেদনের মাধ্যম: অনলাইনআবেদনের বয়সসীমা: ১৮ থেকে ৩০ বছর (মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ১৮ থেকে ৩২ বছর)।আবেদন শুরুর সময়: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:০০ টাআবেদনের শেষ সময়: ১৪ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ০৫:০০ টাআগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে:কর অঞ্চল-৯, ঢাকা-এর নির্ধারিত ওয়েবসাইট (tax9.teletalk.com.bd) অথবা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে।ফরম পূরণের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেলিটক প্রিপেইড সিমের মাধ্যমে আবেদন ফি জমা দিতে হবে।প্রার্থীকে অবশ্যই ঢাকা জেলা বা ঢাকা মহাকালি/মহানগরের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।অনলাইনে আবেদনের সময় প্রার্থীর সদ্য তোলা ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে।পরীক্ষার ফি ও অন্যান্য নিয়মাবলি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নির্ধারিত ফরম্যাট অনুযায়ী পরিশোধ করতে হবে।(শিক্ষাগত যোগ্যতা, পদভিত্তিক পদের সংখ্যা ও বেতন স্কেল সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানতে এনবিআর বা কর অঞ্চল-৯-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও টেলিটকের পোর্টাল ভিজিট করুন।)

রাতে বিছানার পাশে ফোন রাখা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ? ঘুমের ব্যাঘাত থেকে নিরাপত্তা শঙ্কা

রাতে বিছানার পাশে ফোন রাখা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ? ঘুমের ব্যাঘাত থেকে নিরাপত্তা শঙ্কা

 ঘুমানোর আগে শেষ কাজ হিসেবে ফোন স্ক্রোল করা এবং ঘুম থেকে চোখ খোলার পরই প্রথম কাজ ফোনটি হাতে নেওয়া—বর্তমানে অধিকাংশ মানুষেরই দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অনেকেই বালিশের পাশে, বিছানার পাশের টেবিলে কিংবা বালিশের নিচে ফোন রেখে ঘুমান, আবার কেউ কেউ সারা রাত ফোন চার্জে লাগিয়ে রাখেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে ফোন কাছে রাখার এই সাধারণ অভ্যাসটি ঘুমের মান নষ্ট করার পাশাপাশি গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।মোবাইল ফোন থেকে নিঃসরিত তেজস্ক্রিয়তা বা বিকিরণ (Radiation) নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা উদ্বেগ কাজ করে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বিছানার পাশে ফোন রাখলেই ক্যান্সার বা এ ধরনের গুরুতর কোনো রোগ হয়—এমন জোরালো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। মূলত স্বাস্থ্যঝুঁকির চেয়েও রাতে ফোন ব্যবহারের অভ্যাস দৈনন্দিন জীবনযাপনে বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে বিছানায় শুয়ে ফোন ব্যবহারের ফলে ঘুমের চক্র মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর পেছনে প্রধানত দুটি কারণ রয়েছে:নীল আলো (Blue Light): ফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো মস্তিষ্কে মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়, যা আমাদের ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করে। ফলে গভীর ও শান্তিতে ঘুম হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।মানসিক সচলতা: ঘুমানোর ঠিক আগমুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা খবরের আপডেট দেখার ফলে মস্তিষ্ক অতিরিক্ত মাত্রায় সক্রিয় থাকে, যা অনিদ্রা বা দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তি তৈরি করে।ঘুমের সময় ফোন কাছে রাখার সবচেয়ে বড় শারীরিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি হলো চার্জিংজনিত দুর্ঘটনা। সারারাত বালিশের নিচে বা বিছানায় ফোন চার্জে লাগিয়ে রাখলে ডিভাইসটি অতিরিক্ত গরম (Overheating) হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় নিম্নমানের চার্জার বা ত্রুটিপূর্ণ ব্যাটারির কারণে শর্টসার্কিট হয়ে বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ডের মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা ঘুমের মধ্যে মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে।ঘুমের মান উন্নত করতে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে বিশেষজ্ঞরা কিছু সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন:ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে থাকা।বিছানা থেকে দূরে বা অন্য কোনো টেবিলে ফোন চার্জে রাখা এবং কখনোই বালিশের নিচে ফোন না রাখা।রাতে ঘুমানোর সময় ফোনের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা অথবা ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ (Do Not Disturb) মোড ব্যবহার করা।

দুই দিনের বিচ কার্নিভাল উৎসবে মাতল কুয়াকাটা,আলোচনায় সাফল্য-ব্যর্থতা

দুই দিনের বিচ কার্নিভাল উৎসবে মাতল কুয়াকাটা,আলোচনায় সাফল্য-ব্যর্থতা

দীর্ঘ নয় বছর পর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল-২০২৬ ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম,খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে দুই দিনব্যাপী এই উৎসব।তবে পর্যটনকে নতুনভাবে তুলে ধরার এই উদ্যোগে সম্ভাবনার পাশাপাশি উঠে এসেছে ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা, বিচ ম্যারাথন নিয়ে অসন্তোষ,তথ্যসেবার ঘাটতি,অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ এবং সৈকতের পরিবেশদূষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আয়োজন ঘিরে একদিকে যেমন কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে, অন্যদিকে পর্যটকদের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করা এবং বড় আয়োজনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্নও তৈরি হয়েছে। ফলে কার্নিভালটির মূল্যায়নে শুধু মানুষের উপস্থিতি কিংবা বিনোদনমূলক আয়োজন নয়,পর্যটকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘমেয়াদি সুফলকেও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছে। পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি,উৎসবের প্রাণবন্ত পরিবেশ বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই কার্নিভাল ২৩ অক্টোবর সকালে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের জিরো পয়েন্টসংলগ্ন এলাকায় বিচ ফুটবল প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শুরু হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন জুঁই এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কার্নিভাল উপলক্ষে কুয়াকাটায় কয়েক হাজার পর্যটক ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে বলে জানানো হয়। বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে সৈকত ও আশপাশের পর্যটন এলাকাগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য বাড়ে। আবাসিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে কক্ষের চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং কিছু ক্ষেত্রে কক্ষসংকটের খবরও প্রকাশিত হয়।কার্নিভালকে ঘিরে পর্যটকদের এই আগমন কুয়াকাটার জনপ্রিয়তা এবং দেশীয় পর্যটন বাজারে এর সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে।তবে বিপুল জনসমাগমকে দীর্ঘমেয়াদি পর্যটন উন্নয়নে রূপ দিতে হলে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা,মানসম্মত সেবা ও পর্যটকদের আস্থার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। সাংস্কৃতিক আয়োজনে সাফল্য,স্থানীয় শিল্পীদের প্রশংসা দুই দিনব্যাপী কার্নিভালে বিচ ফুটবল,বিস ম্যারাথন, ঘুড়ি উৎসব,চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পুঁথিপাঠ,বাউলগানের আসর,ফ্যাশন শো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিচ ক্রিকেটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি রাখা হয়। পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানকেন্দ্রিক বিভিন্ন আয়োজনও ছিল। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। বিশেষ করে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উৎসবের প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। দেশের পরিচিত শিল্পীদের পরিবেশনাও দর্শকদের আগ্রহ বাড়ায়। এই আয়োজনের ইতিবাচক দিক হলো, কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি ও শিল্পীদের তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পর্যটনের সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতিকে যুক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে কুয়াকাটাকে আরও স্বতন্ত্র পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিত করার সুযোগ রয়েছে। তবে বড় আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রচারিত কর্মসূচি, অতিথিদের উপস্থিতি এবং বাস্তবে অনুষ্ঠিত কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি।এ ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছ তথ্যপ্রচার ও নির্ভরযোগ্য সময়সূচি পর্যটকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে পারে। বিচ ম্যারাথন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ কার্নিভালের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিচ ম্যারাথন।সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক পরিবেশে দৌড় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ক্রীড়া ও পর্যটনকে একত্র করার উদ্যোগটি সম্ভাবনাময় হলেও এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন অংশগ্রহণকারী। নিবন্ধন-সংক্রান্ত সহযোগিতা,প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রাপ্তি এবং অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রত্যাশিত সেবা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।তাঁদের কারও কারও দাবি, আয়োজনের আগে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বাস্তব অভিজ্ঞতা তার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এ ধরনের প্রতিযোগিতায় নিবন্ধন নিশ্চিতকরণ, অংশগ্রহণকারীদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা,নির্ধারিত সময়সূচি,পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক,চিকিৎসা ও জরুরি সহায়তা এবং পুরস্কার বা অংশগ্রহণ-সংশ্লিষ্ট উপকরণ বিতরণে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগগুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে ভবিষ্যৎ আয়োজনে সংশোধন আনা প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে আয়োজক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তথ্যসেবার ঘাটতি ও অনুষ্ঠানস্থল নিয়ে প্রশ্ন তথ্যকেন্দ্রের সেবা না পাওয়া এবং বিভিন্ন কর্মসূচির ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষের কথা উঠে এসেছে।পর্যটকদের অভিযোগ অনুযায়ী, কোথায় কোন অনুষ্ঠান হবে,কখন শুরু হবে এবং কীভাবে বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেওয়া যাবে—এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত ও সহজলভ্য তথ্যের অভাব ছিল। বড় উৎসবে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী উপস্থিত হলে তথ্যকেন্দ্র,দিকনির্দেশক সাইনবোর্ড,ঘোষণাব্যবস্থা, হালনাগাদ সময়সূচি এবং অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।এসব সেবা দুর্বল হলে পর্যটকদের সময় নষ্ট হয়,বিভ্রান্তি বাড়ে এবং আয়োজনের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনুষ্ঠানস্থলে ধারণক্ষমতা ও দর্শকদের বসার জায়গা নিয়েও অসন্তোষের কথা প্রকাশ পেয়েছে।ভবিষ্যতে দর্শনার্থীর সম্ভাব্য সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে মঞ্চ, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, বসার স্থান এবং জরুরি চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। হোটেলভাড়া ও স্থানীয় পরিবহনে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ কার্নিভাল উপলক্ষে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে আবাসন ও স্থানীয় পরিবহনের চাহিদা বেড়ে যায়।এ সুযোগে কিছু হোটেল,রেস্তোরাঁ এবং স্থানীয় যানবাহনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ সামনে এসেছে। পর্যটকদের কাছ থেকে হোটেলভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগ পাওয়া গেছে। আগে যে রুমের ভাড়া ১৫০০টাকা থেকে ২০০০টাকা ছিলো বর্তমানে ৩০০০হাজার থেকে ৪০০০হাজার টাকা এছাড়া অটোরিকশা, টমটম ও অটোভ্যানে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফের বক্তব্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।পর্যটকদের আস্থা ধরে রাখতে আবাসন ও পরিবহন খাতে স্বচ্ছ ভাড়াব্যবস্থা,অভিযোগ জানানোর সহজ পদ্ধতি এবং কার্যকর তদারকি জরুরি। নিরাপত্তায় বড় প্রস্তুতি, তবে পরিচ্ছন্নতা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদনে ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌপুলিশ,নিয়মিত পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৭০০ সদস্য মোতায়েনের তথ্য জানানো হয়েছে। এটি বড় জনসমাগম সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি। তবে পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়;পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা,নিরাপদ চলাচল,জরুরি চিকিৎসা এবং পরিবেশ সংরক্ষণও এর অংশ। কার্নিভাল ঘিরে সৈকতে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা ও সমুদ্রদূষণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশের খবরও এসেছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক, খাবারের প্যাকেট ও অন্যান্য বর্জ্য সঠিকভাবে সংগ্রহ করা না গেলে সৈকতের সৌন্দর্য ও সামুদ্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ২৫ অক্টোবর সকালে সৈকত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুধু উৎসবের পরপর পরিচালনা করলেই যথেষ্ট নয়।অনুষ্ঠান চলাকালে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন,বর্জ্য সংগ্রহকারী দল,প্লাস্টিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা দরকার। প্রশাসনের সমন্বয় ও আয়োজকদের জবাবদিহি কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন,জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ের কারণে বড় আয়োজনটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে, অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসা সমালোচনা ইঙ্গিত দেয়,ভবিষ্যৎ আয়োজনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। কার্নিভালের অর্থনৈতিক সুফল কতটা স্থায়ী হবে? কার্নিভালকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের আগমন বাড়লে হোটেল,রেস্তোরাঁ, পরিবহন,স্থানীয় খাবার, হস্তশিল্প এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।স্থানীয় শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অংশগ্রহণও তাঁদের কাজ পরিচিত করার সুযোগ করে দেয়। তবে দুই দিনের উৎসবের সাফল্য দিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কতটা পড়েছে,তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। এ জন্য পর্যটকের প্রকৃত সংখ্যা,হোটেল বুকিং, ব্যবসায়িক লেনদেন, স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং পর্যটকদের সন্তুষ্টি নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ প্রয়োজন। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ,ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য স্টল বরাদ্দ,স্থানীয় সংস্কৃতির প্রচার এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনের সুফল আরও বিস্তৃত হতে পারে

সংস্কার বাস্তবায়ন থেকে আইনশৃঙ্খলা—বিভিন্ন ইস্যুতে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক

সংস্কার বাস্তবায়ন থেকে আইনশৃঙ্খলা—বিভিন্ন ইস্যুতে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার বাস্তবায়ন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য দেন বলে জানানো হয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্যের বিস্তারিত ও পূর্ণাঙ্গ উদ্ধৃতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। নির্বাচনের পরিবেশ, ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয়গুলো নিয়ে জোটের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ করণীয় পর্যালোচনা করা হয় বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। এর আগে ২৩ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে জোটের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সম্ভাব্য কারচুপি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতি বন্ধ, প্রশাসনে দলীয়করণ রোধ, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদোন্নতি এবং গুম-খুন প্রতিরোধে স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবি জানান। এ ছাড়া ৩১ অক্টোবর লংমার্চ কর্মসূচি পালনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবারের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে নেতারা আলোচনার বিষয়বস্তু, রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের মূল্যায়ন এবং পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে বক্তব্য তুলে ধরেন বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংস্কার বাস্তবায়ন, নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক আলোচনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধর, চিকিৎসকদের মধ্যে আতঙ্ক

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধর, চিকিৎসকদের মধ্যে আতঙ্ক

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কক্ষের ভেতর জুয়েল হোসেন নিরব নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে। শাহেদ নামের এক ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে জুয়েলকে চেয়ার দিয়ে পেটানো হচ্ছে। এ সময় তাকে কিল-ঘুসি ও লাথি দিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। ছাত্রদল নেতা শাহেদ ও তার অনুসারীরা মিলে এই হামলা চালায়।এদিকে হামলায় গুরুতর আহত জুয়েলকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় হাসপাতাল চত্বরে ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 মহেশপুর যুবসমাজের উদ্যোগে শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্ট, প্রধান অতিথি মেহেদী হাসান রনি

মহেশপুর যুবসমাজের উদ্যোগে শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্ট, প্রধান অতিথি মেহেদী হাসান রনি

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ১০ নম্বর নাটিমা ইউনিয়নের ইদ্রাকপুর হাইস্কুল মাঠে জমজমাট আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫-২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতাটি ঘিরে পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।মাদারতলা যুব সমাজের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মেহেদী হাসান রনি। টুর্নামেন্ট কমিটির সভাপতি মো. আফতাব উদ্দিন মাস্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ক্রীড়াপ্রেমী ও বিভিন্ন বয়সের দর্শক উপস্থিত ছিলেন।স্থানীয়রা জানান, বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে এবং প্রযুক্তির অতিরিক্ত আসক্তি থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের মাঠমুখী কার্যক্রম অত্যন্ত ফলপ্রসূ। গ্রামাঞ্চলের মাঠে ফুটবল প্রতিযোগিতা দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের বিনোদন ও মিলনমেলার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বয়সের মানুষ একত্রিত হন এবং খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য উপভোগের পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। এ ধরনের আয়োজন স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে দারুণ ভূমিকা রাখছে।খেলাধুলা কেবল শারীরিক সক্ষমতাই বাড়ায় না, বরং মানসিক দৃঢ়তা তৈরিতেও সাহায্য করে। ফুটবল খেলায় একজন খেলোয়াড়কে নিজের দক্ষতার পাশাপাশি দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গেও সুন্দর সমন্বয় করতে হয়। এর মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে দলগত সহযোগিতা, নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলি, নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন এবং জয়-পরাজয় হাসিমুখে মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়।গ্রামাঞ্চলের মাঠ থেকেই মূলত দেশের অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় তাদের ক্যারিয়ারের যাত্রা শুরু করেন। সঠিক প্রশিক্ষণ, নিয়মিত অনুশীলন এবং পর্যাপ্ত সুযোগ পেলে এই তরুণরাই ভবিষ্যতে জাতীয় বা বড় কোনো পর্যায়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। মাদারতলা যুব সমাজের মতো স্থানীয় সংগঠনগুলো এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখলে এলাকার ক্রীড়াঙ্গন আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।তবে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী মোট দলের সংখ্যা, ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল বা চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের সুনির্দিষ্ট তথ্য (যেমন: রায়পুর দল বা অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দল সম্পর্কে) আংশিক জানা গেলেও ফাইনাল ম্যাচের পূর্ণাঙ্গ স্কোরবোর্ড বা পরিসংখ্যান আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি।ইদ্রাকপুর হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টকে সফল করতে আয়োজকদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন যে, প্রশাসনের সহযোগিতায় ও নিয়মিত পৃষ্ঠপোষকতায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের টুর্নামেন্টের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে মহেশপুরের তরুণ প্রজন্ম সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের প্রতিভাবিকাশের এক সুবর্ণ সুযোগ পাবে।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধর, চিকিৎসকদের মধ্যে আতঙ্ক

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধর, চিকিৎসকদের মধ্যে আতঙ্ক

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কক্ষের ভেতর জুয়েল হোসেন নিরব নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে। শাহেদ নামের এক ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে জুয়েলকে চেয়ার দিয়ে পেটানো হচ্ছে। এ সময় তাকে কিল-ঘুসি ও লাথি দিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। ছাত্রদল নেতা শাহেদ ও তার অনুসারীরা মিলে এই হামলা চালায়।এদিকে হামলায় গুরুতর আহত জুয়েলকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় হাসপাতাল চত্বরে ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সেলিম আল দীনের ৭৭তম জন্মবার্ষিকীতে শিল্পকলায় ‘পুত্র’ নাটক মঞ্চস্থ

নাট্যাচার্য, প্রখ্যাত নাট্যকার ও নাট্যতাত্ত্বিক সেলিম আল দীনের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ স্মরণ অনুষ্ঠান, সেমিনার ও নাট্য প্রদর্শনী। শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সেলিম আল দীনের নাট্যচর্চা, দর্শন ও বাংলা নাটকে তাঁর অনন্য অবদান স্মরণ করা হয়।বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এবং নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামী। তাঁর বক্তব্যে সেলিম আল দীনের নাট্যভাবনা, দেশীয় সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের মঞ্চনাটকে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বিকেলে জাতীয় নাট্যশালা ভবনের সেমিনার কক্ষে ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্বের পরিধি’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে সেলিম আল দীনের শিল্পভাবনা ও নাট্যতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেন নাট্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা।মঞ্চে ‘পুত্র’সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন রচিত আলোচিত নাটক ‘পুত্র’। নাটকটি পরিবেশন করে ঠাকুরগাঁওয়ের নাট্যদল নিশ্চিন্তপুর থিয়েটার। নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন সৈয়দ জাকির হোসেন ইমন।‘পুত্র’ নাটকের কাহিনিতে উঠে এসেছে সন্তান হারানোর গভীর বেদনা, শোক, স্মৃতি ও মানুষের মানসিক টানাপোড়েন। যমুনাপাড়ের দম্পতি মাইট্টাল সিরাজ ও আবছারের পুত্র মানিক আত্মহত্যা করার পর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাকে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই মাটিতে সমাহিত করা হয় এবং যে আমগাছে সে আত্মহত্যা করেছিল, সেটিও কেটে ফেলা হয়। দুই বছর পর শীতের রাতে উষ্ণতার জন্য সেই গাছের শেকড় তুলে আগুন জ্বালালে দম্পতির মনে আবারও জেগে ওঠে সন্তান হারানোর অসহনীয় বেদনা। একপর্যায়ে তারা পোড়াতে থাকা গাছের শেকড়কেই নিজেদের সন্তান মানিক হিসেবে ভাবতে শুরু করে।সেলিম আল দীন: বাংলা নাটকের এক অনন্য নামসেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলা নাটকের নিজস্ব ভাষা, লোকজ ঐতিহ্য ও শেকড়ের সঙ্গে আধুনিক নাট্যচর্চার সমন্বয় ঘটিয়ে একটি স্বতন্ত্র নাট্যধারা নির্মাণ করেন। ‘কীত্তনখোলা’, ‘কেরামতমঙ্গল’, ‘চাকা’, ‘হাত হদাই’, ‘যৈবতী কন্যার মন’, ‘বনপাংশুল’, ‘ধাবমান’, ‘স্বর্ণবোয়াল’ ও ‘পুত্র’সহ অসংখ্য নাটকে তাঁর সৃজনশীলতার অনন্য স্বাক্ষর রয়েছে।২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর সৃষ্টিশীলতা, নাট্যভাবনা ও বাংলা নাটকের প্রতি তাঁর অবদান আজও দেশের নাট্যাঙ্গনে গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।সেলিম আল দীনের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শিল্পকলায় আয়োজিত এ স্মরণ অনুষ্ঠান ও ‘পুত্র’ নাটকের প্রদর্শনী তাঁর সৃষ্টিশীল কর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলা নাটকের শেকড় ও নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের মতবিনিময় সভা

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতির অন্যতম প্রধান ধারক ও বাহক যাত্রাশিল্পকে আরও সমৃদ্ধ, গতিশীল ও সংগঠিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের ঢাকা জেলা ও মহানগর শাখার আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবদের উপস্থিতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (২৬ জুলাই ২০২৬) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এ সভায় যাত্রাশিল্পের উন্নয়ন, শিল্পীদের কল্যাণ, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী যাত্রাশিল্পকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।সভায় বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদ, ঢাকা জেলার আহ্বায়ক আব্দুল গফুর এবং সদস্য সচিব আব্দুল আজিজ ফকির উপস্থিত ছিলেন।এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আহ্বায়ক দুলাল মিয়া ও সদস্য সচিব সাগর, এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার আহ্বায়ক তানসেন ও সদস্য সচিব সানাউল্লাহ উপস্থিত থেকে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ যাত্রাশিল্পী কল্যাণ পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানিত সভাপতি বাদশাহ গাজী এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলমসহ কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, যাত্রাশিল্পী, সংগঠক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।বক্তারা বলেন, যাত্রাশিল্প বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিক বিনোদনের নানা মাধ্যমের ভিড়ে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে শিল্পীদের যথাযথ মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণ, সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের যাত্রাশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।সভায় যাত্রাশিল্পের সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে শিল্পীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাত্রাশিল্পের চর্চা ও প্রসার বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী যাত্রাশিল্পকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও জনপ্রিয় করে তোলা সম্ভব হবে এবং জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশে এ শিল্প আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যাত্রাশিল্পের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সভাটি পারস্পরিক মতবিনিময় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয়।

হজ ক্যাম্পের প্রাণকেন্দ্রে ‘এভিয়েশন মার্কেট’,ব্যবসা ও সেবার নতুন ঠিকানা

রাজধানীর হজ ক্যাম্প,আশকোনা এলাকায় ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা হিসেবে গড়ে উঠেছে ‘এভিয়েশন মার্কেট’। বিমানবন্দরসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় দেশি-বিদেশি মানুষের নিয়মিত যাতায়াতকে কেন্দ্র করে মার্কেটটিতে তৈরি হয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সম্ভাবনাময় পরিবেশ।হজ ক্যাম্প,আশকোনার কৌশলগত অবস্থানের কারণে এভিয়েশন মার্কেটে রয়েছে ঢাকা বিমানবন্দর প্রেস ক্লাব,বিভিন্ন বেসরকারি অফিস, দেশি-বিদেশি ট্রাভেল এজেন্সি,বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুম,রেস্টুরেন্ট ও নামী-দামি খাবারের প্রতিষ্ঠানসহ নানা ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।ফলে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আনাগোনা দেখা যায় এ এলাকায়।যাত্রী ও ক্রেতাদের জন্য সুবিধাজনক অবস্থানআশকোনা ও হজ ক্যাম্প এলাকা রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র। বিমানবন্দরসংলগ্ন হওয়ায় প্রতিদিন এখানে যাত্রী, ব্যবসায়ী,চাকরিজীবী,বিদেশগামী ব্যক্তি,প্রবাসী পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলাচল রয়েছে।এই বিপুল মানুষের চলাচলকে কেন্দ্র করে এভিয়েশন মার্কেটের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পণ্য ও সেবা আরও বড় পরিসরে প্রচারের সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষ করে ট্রাভেল ও ট্যুরিজম-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ এলাকার অবস্থান বাড়তি সুবিধা তৈরি করেছে।সম্ভাবনার নতুন দ্বারসব মিলিয়ে হজ ক্যাম্প,আশকোনার ব্যস্ত পরিবেশ ও বিমানবন্দরকেন্দ্রিক মানুষের চলাচল এভিয়েশন মার্কেটের জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সঠিক পরিকল্পনা,সমন্বিত মার্কেটিং এবং নিয়মিত প্রোমোশন কার্যক্রমের মাধ্যমে মার্কেটটির ব্যবসায়িক পরিচিতি আরও বিস্তৃত করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।ঠিকানা: হজ ক্যাম্প, আশকোনা, ঢাকা।

সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে গণমাধ্যমের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

১৬ জুন: গণমাধ্যমকে দলীয় পক্ষপাত বা সরকারের তোষামোদ থেকে বেরিয়ে এসে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “সত্যকে সত্য হিসেবেই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষভাবে তথ্য পরিবেশন করা।”সোমবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও বার্তা সম্পাদকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনস্বার্থ রক্ষায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।সভায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ও মাহদী আমিনসহ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।মতবিনিময় সভায় টেলিভিশন শিল্পের বর্তমান সংকট, সাংবাদিকদের পেশাগত চ্যালেঞ্জ, চাকরির নিরাপত্তা, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা টেলিভিশন শিল্পকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পখাত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান।বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবু আবদুল্লাহ এম. ছালেহ (সালেহ শিবলী) জানান, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতেও গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও জানান, আগামী ১৮ জুন এ বিষয়ে অংশীজনদের নিয়ে একটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা দ্রুত একটি কার্যকর গণমাধ্যম কমিশন গঠন, চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।