গৌরনদীর বাটাজোরে বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের নবখননকৃত সরিকল-বাটাজোর খালের তীরে সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
তিনি নিজ হাতে একটি নারিকেল ও একটি নিম গাছের চারা রোপণ করে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন এবং তিনিও একটি চারা রোপণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, "গাছ শুধু রোপণ করলেই কাজ শেষ হবে না। একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর যেভাবে যত্ন নেওয়া হয়, ঠিক সেভাবে এই চারাগাছগুলোরও প্রতিদিন যত্ন নিতে হবে।" পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তিনি আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর ঘোষণা দেন।
বৃক্ষরোপণ শেষে বাটাজোর বাজারে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানস্থলে যোগ দেন এবং পরিবারের নারী প্রধানদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন।
উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে দেশের ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দের আওতায় চলতি অর্থবছরেই সারা দেশে মোট ৪১ লাখ পরিবারকে এই কার্ড দেওয়া হবে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৭,০০০ করে পরিবারের নারী সদস্যরা এই সুবিধা পাবেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, নারীদের শিক্ষা সহায়তায় বর্তমান সরকার প্রথম শ্রেণী থেকে স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক (ফ্রি) করবে এবং মেধাবীদের বৃত্তি প্রদান করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনার কারণে পুরো সফরজুড়ে কোনো স্বাগত তোরণ (গেট), ব্যানার বা ফেস্টুন ব্যবহার করা হয়নি। এর পরিবর্তে গৌরনদী থেকে বরিশাল শহর পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মানবপ্রাচীর তৈরি করে তাঁকে স্বাগত জানান।
গৌরনদীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে বরিশাল শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হন, যেখানে কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে তাঁর দ্বিতীয় দফায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সাংগঠনিক সভায় যোগ দিয়ে সন্ধ্যায় তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন