ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬: বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাতে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও আঞ্চলিক শান্তি-স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়।সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক উঠে আসে। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলটির সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংকট নিরসন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ইরানের রাষ্ট্রদূত এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংলাপ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বলে জানা গেছে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ঢাকা-তেহরান সম্পর্কের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান ও কূটনৈতিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে জ্বালানি, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতেও ইরানের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন।বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি দায়িত্ব পালন করছেন। ইরানের ঢাকাস্থ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।কূটনৈতিক মহলের দৃষ্টিতে, রাষ্ট্রপতি ও ইরানের রাষ্ট্রদূতের এই বৈঠক দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে শান্তি, সংলাপ ও মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টিও নতুন করে গুরুত্ব পেল এই সাক্ষাতে।