দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল,বঙ্গভবনে শপথ
ঢাকা, ২১ আগস্ট ২০২৬: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির প্রবীণ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
শপথ অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতির শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণের পর তিনি শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে আসীন হন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমসহ সরকারের মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এর মধ্য দিয়ে দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
২৫৫ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত
এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। মোট ৩৪৩টি ভোট পড়ে।
১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পাশাপাশি বিরোধী জোটের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে বঙ্গভবনে
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালে তিনি দলটির মহাসচিব নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনীতিতে আসার আগে তিনি শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা শেষে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৯০ সালে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর ধাপে ধাপে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন।
২০০১ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের কৃষি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
নতুন রাষ্ট্রপতির সামনে বড় দায়িত্ব
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সামনে এখন দেশের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর সমন্বয় এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ পথচলার কারণে নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির পদ সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ হওয়ায় আগামী দিনে তাঁর ভূমিকার দিকে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষেরও নজর থাকবে।
শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিএনপির দীর্ঘদিনের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। তাঁর এই দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যুক্ত হলো নতুন একটি অধ্যায়।
আপনার মতামত লিখুন