ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের
৬৬৬ কোটি টাকার করের ধাক্কা!
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে—এমন রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। কর পরিশোধ না করার বিষয়ে দায়ের করা রিটের রুল খারিজ করে আদালত এ নির্দেশ দেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন অর্থবছরের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের ওপর মোট ৬৬৬ কোটি টাকা করের দাবি রয়েছে।
তিন অর্থবছরের কর নিয়ে আইনি লড়াই
গ্রামীণ কল্যাণের কর-সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এনবিআরের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির আইনি বিরোধ চলে আসছে। এনবিআরের দাবি করা করের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টেও একই কর বিরোধে হাইকোর্টের একটি রায়ে গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সে সময় আদালত তিন মাসের মধ্যে ওই অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
তবে পরবর্তীতে ওই রায় প্রত্যাহারের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে ৬৬৬ কোটি টাকার কর নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের সঙ্গে এনবিআরের আইনি লড়াই নতুন করে আলোচনায় আসে।
৬৬৬ কোটি টাকার কর কেন এত আলোচিত?
গ্রামীণ কল্যাণ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠান। আর ড. ইউনূস বাংলাদেশে অন্যতম আলোচিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক উদ্যোক্তা। ফলে তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকার কর দাবির বিষয়টি শুরু থেকেই ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এনবিআরের দাবি এবং প্রতিষ্ঠানের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য নিয়েই মূলত দীর্ঘ আইনি লড়াই হয়েছে। সর্বশেষ হাইকোর্টের রায় আবারও বিষয়টিকে জাতীয় পর্যায়ের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
এখন নজর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপে
হাইকোর্টের এই রায়ের পর গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে পরবর্তী কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। একই সঙ্গে ৬৬৬ কোটি টাকার কর দাবির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কোন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেও নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।
৬৬৬ কোটি টাকার এই কর বিরোধ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দায়ের প্রশ্ন নয়; এটি দেশের করব্যবস্থা, কর আদায়ের সক্ষমতা এবং প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর-জবাবদিহি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন সামনে এনেছে।
আপনার মতামত লিখুন