ঢাকা   শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
English
ই-পেপার
ইছামতি

জ্বালানি নিরাপত্তায় সরকারের মহাপরিকল্পনা



জ্বালানি নিরাপত্তায় সরকারের মহাপরিকল্পনা
ছবি:সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব উদ্যোগের কথা তুলে ধরে জানান, দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতার কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের কর্মপরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি। এ লক্ষ্যে নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপে ওয়ার্কওভারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ গ্যাসের সম্ভাবনা যাচাইয়ে সাইসমিক জরিপ জোরদার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জ্বালানি সরবরাহের উৎস বহুমুখীকরণেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ ক্ষেত্রে নতুন প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (PSC) ও বিডিং প্রক্রিয়া, এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একক কোনো উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করার লক্ষ্য রয়েছে।

একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনকে উৎসাহিত করতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে সরকার কেনার পরিকল্পনার কথাও সংসদে জানানো হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনায় জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো এবং অপচয় কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারের নেওয়া এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়বে, আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে একটি বহুমুখী, টেকসই ও নিরাপদ জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে সংসদে তুলে ধরা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

ইছামতি

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জ্বালানি নিরাপত্তায় সরকারের মহাপরিকল্পনা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব উদ্যোগের কথা তুলে ধরে জানান, দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতার কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের কর্মপরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি। এ লক্ষ্যে নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপে ওয়ার্কওভারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ গ্যাসের সম্ভাবনা যাচাইয়ে সাইসমিক জরিপ জোরদার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জ্বালানি সরবরাহের উৎস বহুমুখীকরণেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ ক্ষেত্রে নতুন প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (PSC) ও বিডিং প্রক্রিয়া, এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একক কোনো উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করার লক্ষ্য রয়েছে।

একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনকে উৎসাহিত করতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে সরকার কেনার পরিকল্পনার কথাও সংসদে জানানো হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনায় জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো এবং অপচয় কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারের নেওয়া এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়বে, আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে একটি বহুমুখী, টেকসই ও নিরাপদ জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে সংসদে তুলে ধরা হয়েছে।


ইছামতি

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরমান চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ইছামতি