দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলার ২৫ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল সড়ক ও সেতু প্রকল্পের মাধ্যমে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হতে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় এই জেলাটি। প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয়ে কালবদর ও তেঁতুলিয়া নদীর ওপর নির্মিত হতে যাওয়া ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ বহুমুখী সেতু এবং সংযোগ সড়ক বাস্তবায়িত হলে ভোলার সার্বিক অর্থনীতি ও জনজীবনে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
বর্তমানে ভোলা থেকে মূলভূখণ্ডে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ফেরি ও নৌযান। সন্ধ্যা নামলেই স্পিডবোট ও লঞ্চ বন্ধ হয়ে যায়, অন্যদিকে ফেরিঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কিংবা দিনভর অপেক্ষায় কাটাতে হয় সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকদের। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভোলা থেকে বরিশালের দূরত্ব নেমে আসবে মাত্র ৩০-৪০ মিনিটে। জরুরি চিকিৎসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য বরিশাল কিংবা ঢাকার সাথে দ্রুত যোগাযোগের পথ খুলে যাবে।
প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধ জেলা হওয়ায় ভোলায় শিল্প সম্ভাবনার বিশাল দুয়ার তৈরি হয়ে আছে, তবে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় শিল্পোদ্যোক্তারা এখানে বিনিয়োগে সাহস পাচ্ছিলেন না। সড়ক পথ ও সেতু চালু হলে ভোলায় বিভিন্ন ভারী ও মাঝারি শিল্পকারখানা, কোল্ড স্টোরেজ এবং এগ্রো-প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠবে। ফলে ভোলার তরুণ সমাজের জন্য সৃষ্টি হবে বিপুল কর্মসংস্থান, কমবে ঢাকায় পরিযোজনের হার।
কৃষি ও ইলিশের অন্যতম বড় যোগানদাতা দ্বীপ জেলা ভোলা। যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে স্থানীয় কৃষক ও জেলেরা সরাসরি তাদের উৎপাদিত পণ্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বড় বাজারে দ্রুত পাঠাতে পারবেন। যাতায়াত খরচ ও সময় কমে আসায় পণ্যের সঠিক মূল্য পাবেন উৎপাদকরা।
১৭ হাজার কোটি টাকা।: কালাবদর ও তেঁতুলিয়া নদীর ওপর প্রায় ১১ কিলোমিটার (বহুমুখী সেতু)।জাতীয় সড়ক করিডোরের মাধ্যমে সরাসরি সংযোগ স্থাপন।অবকাঠামোগত এই মেগা প্রকল্প কেবল পিচ ও কংক্রিটের সেতু নয়, এটি হতে যাচ্ছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ জেলা ভোলার অবহেলিত পরিচয় মুছে নতুন সমৃদ্ধির দ্বারে পৌঁছানোর মূল সেতু বন্ধন।
আপনার মতামত লিখুন