ঢাকা   শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
ঢাকা   শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
ইছামতি

সাগরপথে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন বন্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর


স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

সাগরপথে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন বন্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর

বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম আয়োজিত “ফ্রম রিটার্ন টু রাইজ: স্টোরিজ অব রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড রিইন্টিগ্রেশন” শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের অর্জন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য এবং অনুষ্ঠান থেকে উঠে আসা প্রধান দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

  • আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা: যারা তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে, সেই সব মানবপাচারকারী ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় ও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

  • জনসচেতনতা বৃদ্ধি: সাগরপথে এ ধরনের অনিয়মিত ও মারাত্মক প্রবণতা ঠেকাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

২. রিক্রুটিং এজেন্সির জবাবদিহিতা ও গ্রেডিং

  • প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে, অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

  • যারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতিগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)-এর ক্ষেত্রে শুধু সদস্য সংখ্যা না বাড়িয়ে, কাজের মান অনুযায়ী মানভিত্তিক গ্রেডিং এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

৩. বিদেশফেরতদের পুনর্বাসন ও দেশের অর্থনীতি

  • প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, “রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয় ও আত্মসাৎ হয়ে যায়, অথচ অভিবাসীদের ঘামঝরা পরিশ্রমে অর্জিত অর্থই আমাদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।”

  • তিনি প্রবাসীদের অবদানকে সম্মান জানিয়ে বিদেশফেরত নাগরিকদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণ ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।


অন্যান্য বক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত:

  • ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান: নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশফেরতদের কল্যাণে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার একসঙ্গে কাজ করা অপরিহার্য, কারণ এই সমস্যাগুলো বহুমাত্রিক।

  • জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী: আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিশ্লেষণ করে দেশের মানুষকে দক্ষ শ্রমশক্তিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাঠানোর চ্যালেঞ্জ ও প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করেন।

  • ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি ইউরাতে স্মালস্কাইটে মেরভিল: অনিয়মিত অভিবাসন কমাতে বৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি এবং সচেতনতা বাড়ানোর ওপর যৌথ উদ্যোগের আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন

ইছামতি

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬


সাগরপথে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন বন্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

featured Image

বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম আয়োজিত “ফ্রম রিটার্ন টু রাইজ: স্টোরিজ অব রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড রিইন্টিগ্রেশন” শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের অর্জন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য এবং অনুষ্ঠান থেকে উঠে আসা প্রধান দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

  • আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা: যারা তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে, সেই সব মানবপাচারকারী ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় ও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

  • জনসচেতনতা বৃদ্ধি: সাগরপথে এ ধরনের অনিয়মিত ও মারাত্মক প্রবণতা ঠেকাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

২. রিক্রুটিং এজেন্সির জবাবদিহিতা ও গ্রেডিং

  • প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে, অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

  • যারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতিগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)-এর ক্ষেত্রে শুধু সদস্য সংখ্যা না বাড়িয়ে, কাজের মান অনুযায়ী মানভিত্তিক গ্রেডিং এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

৩. বিদেশফেরতদের পুনর্বাসন ও দেশের অর্থনীতি

  • প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, “রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয় ও আত্মসাৎ হয়ে যায়, অথচ অভিবাসীদের ঘামঝরা পরিশ্রমে অর্জিত অর্থই আমাদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।”

  • তিনি প্রবাসীদের অবদানকে সম্মান জানিয়ে বিদেশফেরত নাগরিকদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণ ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।


অন্যান্য বক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত:

  • ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান: নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশফেরতদের কল্যাণে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার একসঙ্গে কাজ করা অপরিহার্য, কারণ এই সমস্যাগুলো বহুমাত্রিক।

  • জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী: আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিশ্লেষণ করে দেশের মানুষকে দক্ষ শ্রমশক্তিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাঠানোর চ্যালেঞ্জ ও প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করেন।

  • ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি ইউরাতে স্মালস্কাইটে মেরভিল: অনিয়মিত অভিবাসন কমাতে বৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি এবং সচেতনতা বাড়ানোর ওপর যৌথ উদ্যোগের আহ্বান জানান।


ইছামতি

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরমান চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ইছামতি