মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী দেশের অর্থনীতি, সামাজিক পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটকে দেশের অন্যতম প্রধান সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বাংলাদেশে সফররত আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতকালে তিনি টেকসই ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দিতে গিয়ে বাংলাদেশের ওপর সীমাহীন চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার ও সংলগ্ন অঞ্চলগুলোর স্থানীয় অর্থনীতি, জীবিকা, এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় জনগণের সুযোগ-সুবিধা ও সম্পদের ওপর যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে, তা সামাল দেওয়া দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটে শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপানের প্রতি ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে, কেবল মানবিক সহায়তা প্রদানই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। এর জবাবে সফররত জাপানি প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংকট নিরসন ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়ায় জাপান শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটের ফলে আশ্রয়শিবিরগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং পুরো আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিকল্প কোনো সাময়িক পদক্ষেপ নয়, বরং মিয়ানমারে নাগরিক অধিকার ও মর্যাদার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিজ ভিটামাটিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই মূল সমস্যার একমাত্র স্থায়ী সমাধান।আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিশ্বনেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, বাংলাদেশ নিজের সীমিত সম্পদ নিয়ে আর বেশি দিন এই অতিরিক্ত মানবিক বোঝা বহন করতে পারবে না; তাই আন্তর্জাতিক উদাসীনতা দূর করে দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরু করাই এখন সময়ের প্রধান দাবি।