ঢাকা   শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
ইছামতি

চট্টগ্রামের বন্যা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ‘১০ দফা অ্যাকশন প্ল্যান’, মাঠে সর্বাত্মক উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা


অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

চট্টগ্রামের বন্যা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ‘১০ দফা অ্যাকশন প্ল্যান’, মাঠে সর্বাত্মক উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা

টানা ভারী বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলের সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ১০ দফা জরুরি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন জানিয়েছেন, দুর্গত মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উদ্ধার, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তদারকিতে দুর্যোগকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মাঠে থেকে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে— চট্টগ্রাম বিভাগের বন্যাকবলিত এলাকায় ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা, যেখানে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার জন্য জিআর কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি, স্যানিটেশন, চিকিৎসাসেবা, শিশুখাদ্য এবং নিয়মিত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি উদ্ধার অভিযান জোরদারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীও কাজ করছে।

এ ছাড়া জনপ্রতিনিধিরা সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সরকার, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড ও অন্যান্য সংস্থাও একযোগে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছে।

দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে হতাহতদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন।

ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে চট্টগ্রাম-দোহাজারী ৪৭ কিলোমিটার রেলপথ প্রায় ৫ ফুট উঁচু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ স্থানে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে ড. মাহদী আমিন বলেন, সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, সমন্বিত উদ্যোগ এবং মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দ্রুত এই দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছেন এবং সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

আপনার মতামত লিখুন

ইছামতি

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬


চট্টগ্রামের বন্যা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ‘১০ দফা অ্যাকশন প্ল্যান’, মাঠে সর্বাত্মক উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬

featured Image

টানা ভারী বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলের সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ১০ দফা জরুরি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন জানিয়েছেন, দুর্গত মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উদ্ধার, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তদারকিতে দুর্যোগকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মাঠে থেকে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে— চট্টগ্রাম বিভাগের বন্যাকবলিত এলাকায় ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা, যেখানে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার জন্য জিআর কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি, স্যানিটেশন, চিকিৎসাসেবা, শিশুখাদ্য এবং নিয়মিত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি উদ্ধার অভিযান জোরদারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীও কাজ করছে।

এ ছাড়া জনপ্রতিনিধিরা সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সরকার, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড ও অন্যান্য সংস্থাও একযোগে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছে।

দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে হতাহতদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন।

ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে চট্টগ্রাম-দোহাজারী ৪৭ কিলোমিটার রেলপথ প্রায় ৫ ফুট উঁচু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ স্থানে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে ড. মাহদী আমিন বলেন, সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, সমন্বিত উদ্যোগ এবং মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দ্রুত এই দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছেন এবং সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।


ইছামতি

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরমান চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ইছামতি