নূরুল আনোয়ার ওয়াকফ স্টেটের সম্পত্তি দখল ও অনিয়মের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্য
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নূরুল আনোয়ার ওয়াকফ স্টেটের কল্লা কাটা দিঘীসহ একাধিক পুকুর, কয়েক বিঘা
জমি এবং অন্যান্য সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে ড. মাহফুজ
আহমেদ ও শিহাবউদ্দীন টিটুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওয়াকফ স্টেটের অন্যান্য
মোতাওয়াল্লি ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগকারী মোতাওয়াল্লিদের দাবি, ড. মাহফুজ আহমেদ ও শিহাবউদ্দিন টিটু
দীর্ঘদিন ধরে ওয়াকফ স্টেটের সম্পদ ও ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে
নিয়ে রেখেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রথম সারির অন্যান্য মোতাওয়াল্লিদের মতামত বা
সম্মতি ছাড়াই ওয়াকফ স্টেটের বিভিন্ন সম্পত্তি পরিচালনা করা হচ্ছে এবং
আয়-ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছ হিসাব প্রদান করা হচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ অনুযায়ী, ওয়াকফ স্টেটের প্রায় অর্ধ কোটি টাকার গাছ
অন্যান্য মোতাওয়াল্লিদের অনুমতি ছাড়াই কেটে ফেলা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে
বিভিন্ন স্থানে গাছ কাটার চিহ্ন দেখা গেছে। এছাড়া কল্লা কাটা দিঘীসহ একাধিক
পুকুরে জাল ফেলে বিপুল পরিমাণ মাছ আহরণ ও বিক্রির অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব মাছের বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকার
কাছাকাছি হতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় নেতা ও টি এম লংকা ট্রান্সপোর্টের মালিক তোবারক হোসেনের
বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে তার সঙ্গে
যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, কোনো অনিয়ম বা
দখলদারিত্বের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই এবং বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানে তিনি
সহযোগিতা করবেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, ড. মাহফুজ আহমেদ ও শিহাবউদ্দীন টিটুর বিভিন্ন
কর্মকাণ্ডে শেখ মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি এবং রিয়াজ উদ্দিন মনা সহযোগিতা
করেছেন। ওয়াকফর মোতয়াল্লী জাহাঙ্গীর কবিরের এর সাথে কথা বলে জানা যায় শেখ
মোহাম্মদ একজন রোহিঙ্গা নাগরিক এবং বর্তমানে ড. মাহফুজ আহমেদের বাড়িতে
অবস্থান করছেন। এছাড়া কাজী রিয়াজ উদ্দিন মনার বিরুদ্ধে পূর্ব থেকে মামলা
রয়েছে এবং বিগত স্বৈরাচার আওয়ামীলীগের একজন দোষর বলেও দাবি করেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় স্থানীয় যুবক নিয়াজ মোর্শেদের একটি জায়গার কিছু দখল
করে ডঃ মাহফুজ আহমেদ নিজের জায়গায় যাওয়ার রাস্তা তৈরি করেছেন,এছাড়াও
মসজিদের কিছু জায়গা দখল করে মাটি উওোলন করে নিজের জমি ভরাট করেন এবং
পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন এর হস্তক্ষেপে মাটি উওোলন বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে
জানা যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওয়াকফ স্টেটের দীর্ঘদিনের একটি সামাজিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য ছিল প্রতি বছর এক দিন স্থানীয় বাসিন্দা, আত্মীয়-স্বজন ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা। অতীতে নিয়মিত এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওয়াকফ স্টেটের আয় থেকে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কোনো আয়োজন করা হয়নি এবং আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাবও প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, একাধিক মোতাওয়াল্লি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের কাছে অভিযোগ
করেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, সংসদ সদস্য তাদের অভিযোগ
শুনে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট মোতাওয়াল্লিরা ওয়াকফ স্টেটের সম্পদ, আয়-ব্যয় ও
ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষা এবং প্রকৃত
হিসাব-নিকাশ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন