ঢাকা   মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
ইছামতি

কুষ্টিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছয়জন নিহত

মানবতাবিরোধী অপরাধে ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড,ট্রাইব্যুনালের ঐতিহাসিক রায়


অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

মানবতাবিরোধী অপরাধে ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড,ট্রাইব্যুনালের ঐতিহাসিক রায়

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাঁকে মোট ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় ইনু আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বিচারিক কার্যক্রম রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল জানান, মামলায় আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটি অভিযোগে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যদিও তিনটি অভিযোগে মোট ৩০ বছরের সাজা হয়েছে, তবে সব সাজা একযোগে কার্যকর হওয়ায় কার্যত তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অপরদিকে ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ থেকে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হাসানুল হক ইনু বলেন, "এটি একটি ফরমায়েশি রায়। প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে আমাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেলাম।"

এর আগে গত ২২ জুন মামলাটি রায়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়। তারও আগে ১৪ মে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়। ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ তদন্ত শুরু হয় এবং একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষ ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনে। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সম্পৃক্ততা, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় উসকানি, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে থেকে আন্দোলন দমনে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া এবং কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ।

বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ১০ জন এবং আসামিপক্ষের দুইজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে ১৩ মে শেষ হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় নিহত ছয়জন হলেন—আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, বাবলু ফরাজী এবং ইউসুফ শেখ।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।

আপনার মতামত লিখুন

ইছামতি

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


মানবতাবিরোধী অপরাধে ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড,ট্রাইব্যুনালের ঐতিহাসিক রায়

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাঁকে মোট ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় ইনু আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বিচারিক কার্যক্রম রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল জানান, মামলায় আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটি অভিযোগে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যদিও তিনটি অভিযোগে মোট ৩০ বছরের সাজা হয়েছে, তবে সব সাজা একযোগে কার্যকর হওয়ায় কার্যত তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অপরদিকে ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ থেকে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হাসানুল হক ইনু বলেন, "এটি একটি ফরমায়েশি রায়। প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে আমাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেলাম।"

এর আগে গত ২২ জুন মামলাটি রায়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়। তারও আগে ১৪ মে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়। ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ তদন্ত শুরু হয় এবং একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষ ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনে। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সম্পৃক্ততা, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় উসকানি, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে থেকে আন্দোলন দমনে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া এবং কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ।

বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ১০ জন এবং আসামিপক্ষের দুইজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে ১৩ মে শেষ হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় নিহত ছয়জন হলেন—আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, বাবলু ফরাজী এবং ইউসুফ শেখ।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।


ইছামতি

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরমান চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ইছামতি