ঢাকা   বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
ইছামতি

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিসি ফরিদার বড় উদ্যোগ: ঢাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৈরি হচ্ছে ‘ক্লিন স্কুল টিম’


অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিসি ফরিদার বড় উদ্যোগ: ঢাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৈরি হচ্ছে ‘ক্লিন স্কুল টিম’

রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আগাম সতর্কতা ও পূর্ব প্রস্তুতি জোরদার করতে ঢাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা, এডিস মশার প্রজননস্থল নির্মূল করা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনার আলোকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার জন্য পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করতে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। জেলা প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, এই নির্দেশনা পাওয়ার পরবর্তী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই কমিটি গঠন করে মাঠপর্যায়ে পুরোদমে কাজ শুরু করতে হবে।

 প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির জন্য যে মনিটরিং কমিটি বা 'ক্লিন স্কুল টিম' গঠন করা হবে, তার কাঠামো হবে নিম্নরূপ:

 সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান (অধ্যক্ষ/প্রধান শিক্ষক)।প্রতিষ্ঠানের একজন মনোনীত শিক্ষক।একজন অভিভাবক প্রতিনিধি।সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের স্যানিটারি পরিদর্শক (সিটি কর্পোরেশন এলাকা) অথবা উপজেলা পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি/ইউএনও কর্তৃক মনোনীত প্রতিনিধি।দুইজন সাধারণ শিক্ষার্থী।

 নির্দেশনা অনুযায়ী, গঠিত ‘ক্লিন স্কুল টিম’ নিয়মিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করবে এবং কোথাও যেন এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করবে।

১. নিয়মিত পরিদর্শন ও পরিষ্কার: বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, ভবন, বারান্দা, ছাদ, ড্রেন, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, খোলা জায়গা এবং যেসব স্থানে পানি জমে মশার লার্ভা জন্মাতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিষ্কার করতে হবে। ২. ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা: শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। ৩. সচেতনতা বৃদ্ধি ও পুরস্কার: শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত প্রচারণা চালাতে হবে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উৎসাহমূলক উদ্যোগ এবং পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। ৪. নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফরিদা খানম, জেলা প্রশাসক, ঢাকা।

এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, "ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা। শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি তারা যেন নিজেদের বাড়ি ও আশপাশেও একই অভ্যাস অনুসরণ করে, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন— সবার সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।"

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু কমিটি গঠন করলেই হবে না, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে নিয়মিত মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

ইছামতি

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬


ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিসি ফরিদার বড় উদ্যোগ: ঢাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৈরি হচ্ছে ‘ক্লিন স্কুল টিম’

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আগাম সতর্কতা ও পূর্ব প্রস্তুতি জোরদার করতে ঢাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা, এডিস মশার প্রজননস্থল নির্মূল করা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনার আলোকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার জন্য পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করতে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। জেলা প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, এই নির্দেশনা পাওয়ার পরবর্তী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই কমিটি গঠন করে মাঠপর্যায়ে পুরোদমে কাজ শুরু করতে হবে।

 প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির জন্য যে মনিটরিং কমিটি বা 'ক্লিন স্কুল টিম' গঠন করা হবে, তার কাঠামো হবে নিম্নরূপ:

 সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান (অধ্যক্ষ/প্রধান শিক্ষক)।প্রতিষ্ঠানের একজন মনোনীত শিক্ষক।একজন অভিভাবক প্রতিনিধি।সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের স্যানিটারি পরিদর্শক (সিটি কর্পোরেশন এলাকা) অথবা উপজেলা পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি/ইউএনও কর্তৃক মনোনীত প্রতিনিধি।দুইজন সাধারণ শিক্ষার্থী।

 নির্দেশনা অনুযায়ী, গঠিত ‘ক্লিন স্কুল টিম’ নিয়মিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করবে এবং কোথাও যেন এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করবে।

১. নিয়মিত পরিদর্শন ও পরিষ্কার: বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, ভবন, বারান্দা, ছাদ, ড্রেন, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, খোলা জায়গা এবং যেসব স্থানে পানি জমে মশার লার্ভা জন্মাতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিষ্কার করতে হবে। ২. ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা: শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। ৩. সচেতনতা বৃদ্ধি ও পুরস্কার: শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত প্রচারণা চালাতে হবে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উৎসাহমূলক উদ্যোগ এবং পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। ৪. নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফরিদা খানম, জেলা প্রশাসক, ঢাকা।

এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, "ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা। শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি তারা যেন নিজেদের বাড়ি ও আশপাশেও একই অভ্যাস অনুসরণ করে, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন— সবার সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।"

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু কমিটি গঠন করলেই হবে না, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে নিয়মিত মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে।


ইছামতি

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরমান চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ইছামতি