হাজী সেলিমের কবল থেকে বধির স্কুল উদ্ধার: প্রশংসায় ভাসছেন এসিল্যান্ড শরিফুল হক ও জেলা প্রশাসন
আওয়ামী লীগ নেতা হাজী সেলিমের অবৈধ দখল থেকে অবশেষে মুক্ত হলো লালবাগের ঐতিহ্যবাহী বধির স্কুল (ঢাকা বধির হাই স্কুল) প্রাঙ্গণ। ঢাকার বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি)-এর প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় এবং লালবাগ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শরিফুল হকের সরাসরি নেতৃত্বে এই ঐতিহাসিক ও সফল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। অসহায়, বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার এই সাহসী উদ্যোগকে সর্বমহলে অত্যন্ত ইতিবাচক ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ হিসেবে সাধুবাদ জানানো হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে লালবাগের এই বধির স্কুলের জমি ও সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাটি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছিল। প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার এই পবিত্র প্রাঙ্গণটি বেদখল হয়ে থাকায় ব্যাহত হচ্ছিলো স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, থমকে গিয়েছিল শিশুদের খেলার মাঠ ও মুক্ত বাতাস। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা জেলা প্রশাসন এই জমি উদ্ধারে কঠোর অবস্থান নেয়।
বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি)-এর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও জিরো টলারেন্স নীতির ওপর ভিত্তি করে এই উচ্ছেদ অভিযানের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হয়। কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ, রক্তচক্ষু বা প্রতিকূলতার কাছে নতি স্বীকার না করে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই অনড় অবস্থান পুরো অভিযানকে সফল করতে মূল জ্বালানি হিসেবে কাজ করেছে।
প্রশংসায় ভাসছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শরিফুল হক*
এই উচ্ছেদ অভিযানের মূল নায়ক ছিলেন লালবাগ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শরিফুল হক। মাঠ পর্যায়ে উপস্থিত থেকে তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতা, সাহসিকতা ও দৃঢ়তার সাথে পুরো উচ্ছেদ প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করেন।
অভিযান সফল করতে তার প্রশংসনীয় ভূমিকাগুলো ছিল চোখে পড়ার মতো:
সাহসী নেতৃত্ব:* রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী মহলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে, স্পটে নিজে উপস্থিত থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কাজ তদারকি করেন তিনি।
আইনের শাসন ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত: ক্ষমতার অপব্যবহারের দেয়াল ভেঙে দিয়ে অসহায়, কথা বলতে না পারা প্রতিবন্ধী শিশুদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন। তার এই দৃঢ়তা প্রমাণ করেছে যে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।
উচ্ছেদ চলাকালীন যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে তিনি স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দেন। একজন দক্ষ ও জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে তার এই অ্যাকশন লালবাগবাসীর হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।
স্কুলের জমিটি সম্পূর্ণভাবে অবমুক্ত হওয়ার পর শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মাঝে যেন ঈদের আনন্দ বয়ে যাচ্ছে। এতদিন ধরে যে শিশুরা নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, আজ তাদের মুখে চওড়া হাসি।
এক আবেগঘন পরিবেশে স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান:
আমাদের এই অসহায় সন্তানদের মুখের ভাষা নেই, তাই তাদের ওপর হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করারও শক্তি তাদের ছিল না। আজ ঢাকা জেলা প্রশাসনের মাননীয় ডিসি, এডিসি মহোদয় এবং আমাদের লালবাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শরিফুল হক স্যারের সাহসী ভূমিকার কারণে এই নিষ্পাপ শিশুরা তাদের খেলার মাঠ ও শান্ত পরিবেশ ফিরে পেলো। আমরা এই প্রশাসনের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।"
লালবাগের স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, এই অভিযান শুধু একটি স্কুলকে মুক্ত করেনি, বরং সমাজের বড় বড় ভূমিদস্যু, দখলদার ও অবৈধ প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে বর্তমান প্রশাসনের একটি শক্ত ও স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। মানুষ বুক ভরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে এবং প্রশাসনের প্রতি সাধারণ জনগণের আস্থা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, উদ্ধারকৃত এই জায়গায় এখন দ্রুত শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম আরও আধুনিকায়ন করা হবে এবং তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। মাঠ পর্যায়ে মোঃ শরিফুল হকের মতো সৎ ও নির্ভীক কর্মকর্তা এবং ডিসি-এডিসি মহোদয়ের মতো দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই আজ এই পজিটিভ পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন