ঢাকা   রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬
ইছামতি

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য বড় উপহার, চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’


অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য বড় উপহার, চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’
ছবি:সংগৃহীত

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য চালু হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘প্রবাসী কার্ড’। আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্ডের কার্যক্রম উদ্বোধনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করা থেকে শুরু করে বিমানবন্দর, স্বাস্থ্যসেবা, পুনর্বাসন ও সরকারি বিভিন্ন সেবায় অগ্রাধিকারসহ অন্তত ১০টি বিশেষ সুবিধা পাবেন কার্ডধারীরা।

শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলী হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানের ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যেই চালু হচ্ছে এই কার্ড। ডুয়াল কারেন্সি সুবিধাসম্পন্ন এ কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও আর্থিক লেনদেন আরও সহজ হবে। এর আগে সরকারের উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হচ্ছে প্রবাসী কার্ড।

প্রবাসী কার্ডধারীরা দেশে ও বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ, বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, বিমানবন্দরে ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সুবিধা, বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ ছাড় এবং সিগনেচার কার্ডধারীদের জন্য এয়ারপোর্ট পিক-অ্যান্ড-ড্রপ সুবিধা পাবেন।

এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় বিশেষ ছাড়, কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ দেশে আনা, প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন ও বীমা সুবিধা, জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি ও ইউটিলিটি সংযোগে অগ্রাধিকার, রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ঋণ সুবিধা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবায় বিশেষ অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা হবে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। আগামী ডিসেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে ৫০ হাজার এবং ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে দুই লাখ প্রবাসীর হাতে এ কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কার্ডটির সব কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি প্রবাসী যেন পর্যায়ক্রমে এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করে গড়ে তোলার নির্দেশও দেন তিনি।

বৈঠকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

ইছামতি

রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬


রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য বড় উপহার, চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য চালু হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘প্রবাসী কার্ড’। আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্ডের কার্যক্রম উদ্বোধনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করা থেকে শুরু করে বিমানবন্দর, স্বাস্থ্যসেবা, পুনর্বাসন ও সরকারি বিভিন্ন সেবায় অগ্রাধিকারসহ অন্তত ১০টি বিশেষ সুবিধা পাবেন কার্ডধারীরা।

শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলী হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানের ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যেই চালু হচ্ছে এই কার্ড। ডুয়াল কারেন্সি সুবিধাসম্পন্ন এ কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও আর্থিক লেনদেন আরও সহজ হবে। এর আগে সরকারের উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হচ্ছে প্রবাসী কার্ড।

প্রবাসী কার্ডধারীরা দেশে ও বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ, বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, বিমানবন্দরে ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সুবিধা, বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ ছাড় এবং সিগনেচার কার্ডধারীদের জন্য এয়ারপোর্ট পিক-অ্যান্ড-ড্রপ সুবিধা পাবেন।

এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় বিশেষ ছাড়, কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ দেশে আনা, প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন ও বীমা সুবিধা, জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি ও ইউটিলিটি সংযোগে অগ্রাধিকার, রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ঋণ সুবিধা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবায় বিশেষ অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা হবে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। আগামী ডিসেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে ৫০ হাজার এবং ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে দুই লাখ প্রবাসীর হাতে এ কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কার্ডটির সব কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি প্রবাসী যেন পর্যায়ক্রমে এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করে গড়ে তোলার নির্দেশও দেন তিনি।

বৈঠকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


ইছামতি

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরমান চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ইছামতি