৪০ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড: তারেক রহমান
লুটপাটের রাজনীতি নয়,কল্যাণের রাষ্ট্র গড়তে চাই
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের জন্য রাজনীতি না করলে মানুষের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের অধিকার ও সম্পদ আর কাউকে লুট করতে দেওয়া হবে না।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আগামী এক বছরের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, দেশের ৪০ লাখ পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড এবং ৪০ লাখ কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ধাপে ধাপে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে রাজনীতি করে এসেছে। জনগণের জীবনমান উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে যারা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, তাদের বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিগত ১৭ বছরে অর্থ পাচারের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ কীভাবে বিদেশে পাচার করা হয়েছে তা সবাই দেখেছে। সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ জনগণের কল্যাণে ব্যয় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ও পাচার বন্ধ করা গেলে সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে অর্থের কোনো ঘাটতি থাকবে না।
চলতি অর্থবছরের বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, যে বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর উদ্যোগ রয়েছে, তাকে জনবিরোধী বলা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হলে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো ব্যাহত হতে পারে। তাই গণতন্ত্র ও উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-র প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে অনেকেই দেশ ছেড়ে চলে গেলেও তিনি কখনো জনগণকে ছেড়ে যাননি।
অনুষ্ঠানে ৫০ জন নারী চা শ্রমিকের হাতে গৃহনির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা করে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া চা শ্রমিক পরিবারের ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা বৃত্তি এবং কয়েকজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে বিশেষ চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়।
পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মিফতাহ সিদ্দিকী, আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী-সহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আপনার মতামত লিখুন