প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি
ঢাকা প্রতিনিধি: রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আলোচনার মধ্যে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)-এর কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, দুপুর ২টার আগেই তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরই মিষ্টি পদত্যাগপত্র জমা দিতে জাতীয় সংসদে যান। দুপুর দেড়টার দিকে তিনি সংসদ ভবনে পৌঁছান এবং পরে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ঘিরে বিতর্ক
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির একটি টিনশেড ও তিনটি সেমিপাকা স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
ওই ঘটনার সঙ্গে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম জড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। তবে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
ঘটনার পর থেকেই মিষ্টির বিরুদ্ধে দলীয় ও রাজনৈতিক পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আলোচনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তাকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। নির্দেশনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনাকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে, সংসদ সদস্যের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবিধানিক ও সংসদীয় বিধি অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। সংরক্ষিত নারী আসনটি কীভাবে পূরণ করা হবে, সে বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত আসবে।
আপনার মতামত লিখুন