ঢাকা   মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
English
ই-পেপার
ইছামতী

কড়াইলে রাজকীয় বাড়ি ও বনানীতে চাঁদাবাজি: বিতর্কে যুবদলের সাবেক নেতা শাহজাহান



কড়াইলে রাজকীয় বাড়ি ও বনানীতে চাঁদাবাজি: বিতর্কে যুবদলের সাবেক নেতা শাহজাহান

গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজধানীর গুলশান-বনানী ও সংলগ্ন কড়াইল বস্তি এলাকায় চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য ও অপরাধমূলক চক্র গড়ে তোলার বিস্তর অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মহানগর উত্তর বনানী থানা যুবদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক আহ্বায়ক শাহজাহান সরকারের বিরুদ্ধে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত, কাঁচাবাজার, স্পা-বার থেকে শুরু করে মানবপাচার (আদম সিন্ডিকেট) পর্যন্ত বিভিন্ন খাত নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্র ও গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ৫ আগস্টের পর বনানী এলাকার ১ থেকে ২৮ নম্বর সড়কের ময়লা সংগ্রহের কাজ আগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মারধর ও ভ্যান চলাচল বন্ধ করে জোরপূর্বক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় একটি চক্র। এই নিয়ন্ত্রণ বদলের নেপথ্যে যুবদলের পদবঞ্চিত নেতা শাহজাহান সরকারের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

বনানী কাঁচাবাজার, ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানপাট এবং নির্মাণাধীন ভবন থেকে নিয়মিত বড় অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে শাহজাহান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া এবং এলাকাছাড়া করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান।

অভিযোগ রয়েছে, বনানী-কাকলী এলাকার চিহ্নিত ছিনতাই চক্রের হোতা হেলাল মিয়াকে সরকার পতনের পর নিজের ছত্রচ্ছায়ায় নিয়ে যুবদলের কর্মী হিসেবে পুনর্বাসন করেছেন শাহজাহান। এছাড়া বাবুল দালালের মাধ্যমে আদম সিন্ডিকেট এবং বিভিন্ন স্পা-বার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

​এই চক্রের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ‘আওয়ামী লীগের লোক’ আখ্যা দিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানো ও পুলিশি হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কালাম ও সংবাদকর্মী স্বাধীন জানান, চক্রটির বিরুদ্ধে বনানী থানায় একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মেলেনি; উল্টো সত্য তুলে ধরায় সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা ও অপপ্রচার চালানো হয়েছে।

দলীয় কোনো পদবি না থাকা সত্ত্বেও সরকার পতনের পর শাহজাহান সরকারের রাতারাতি প্রভাবশালী হয়ে ওঠা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। কড়াইল বস্তি এলাকায় তিনি নির্মাণ করেছেন বিলাসবহুল রাজকীয় বাড়ি। স্থানীয়দের দাবি, শাহজাহানের আপন মামাতো ভাই যুবলীগ নেতা মঞ্জু এবং খালাতো ভাই স্বেচ্ছাসেবক লীগের ইউনিট সভাপতি শিপনের বিগত আমলের ব্যবসা-বাণিজ্য এখন শাহজাহানের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় ত্যাগী নেতাকর্মীদের মতে, আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসন করে তিনি নিজের আখের গোছাচ্ছেন, যা দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে।

তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন শাহজাহান সরকার। তিনি বলেন, “রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে এবং সাংগঠনিক অবস্থান নষ্ট করতে একটি মহল ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে। চাঁদাবাজি বা কোনো অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে আমার ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই।” বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নাশকতার মামলায় একাধিকবার কারাভোগ ও সাজা পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

যুবদলের স্থানীয় দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, চাঁদাবাজি, দখলদারি কিংবা দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়ে দল ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​বনানী থানা পুলিশ জানিয়েছে, চাঁদাবাজির বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

ইছামতী

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


কড়াইলে রাজকীয় বাড়ি ও বনানীতে চাঁদাবাজি: বিতর্কে যুবদলের সাবেক নেতা শাহজাহান

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image


গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজধানীর গুলশান-বনানী ও সংলগ্ন কড়াইল বস্তি এলাকায় চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য ও অপরাধমূলক চক্র গড়ে তোলার বিস্তর অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মহানগর উত্তর বনানী থানা যুবদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক আহ্বায়ক শাহজাহান সরকারের বিরুদ্ধে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত, কাঁচাবাজার, স্পা-বার থেকে শুরু করে মানবপাচার (আদম সিন্ডিকেট) পর্যন্ত বিভিন্ন খাত নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্র ও গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ৫ আগস্টের পর বনানী এলাকার ১ থেকে ২৮ নম্বর সড়কের ময়লা সংগ্রহের কাজ আগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মারধর ও ভ্যান চলাচল বন্ধ করে জোরপূর্বক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় একটি চক্র। এই নিয়ন্ত্রণ বদলের নেপথ্যে যুবদলের পদবঞ্চিত নেতা শাহজাহান সরকারের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

বনানী কাঁচাবাজার, ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানপাট এবং নির্মাণাধীন ভবন থেকে নিয়মিত বড় অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে শাহজাহান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া এবং এলাকাছাড়া করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান।

অভিযোগ রয়েছে, বনানী-কাকলী এলাকার চিহ্নিত ছিনতাই চক্রের হোতা হেলাল মিয়াকে সরকার পতনের পর নিজের ছত্রচ্ছায়ায় নিয়ে যুবদলের কর্মী হিসেবে পুনর্বাসন করেছেন শাহজাহান। এছাড়া বাবুল দালালের মাধ্যমে আদম সিন্ডিকেট এবং বিভিন্ন স্পা-বার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

​এই চক্রের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ‘আওয়ামী লীগের লোক’ আখ্যা দিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানো ও পুলিশি হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কালাম ও সংবাদকর্মী স্বাধীন জানান, চক্রটির বিরুদ্ধে বনানী থানায় একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মেলেনি; উল্টো সত্য তুলে ধরায় সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা ও অপপ্রচার চালানো হয়েছে।

দলীয় কোনো পদবি না থাকা সত্ত্বেও সরকার পতনের পর শাহজাহান সরকারের রাতারাতি প্রভাবশালী হয়ে ওঠা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। কড়াইল বস্তি এলাকায় তিনি নির্মাণ করেছেন বিলাসবহুল রাজকীয় বাড়ি। স্থানীয়দের দাবি, শাহজাহানের আপন মামাতো ভাই যুবলীগ নেতা মঞ্জু এবং খালাতো ভাই স্বেচ্ছাসেবক লীগের ইউনিট সভাপতি শিপনের বিগত আমলের ব্যবসা-বাণিজ্য এখন শাহজাহানের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় ত্যাগী নেতাকর্মীদের মতে, আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসন করে তিনি নিজের আখের গোছাচ্ছেন, যা দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে।

তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন শাহজাহান সরকার। তিনি বলেন, “রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে এবং সাংগঠনিক অবস্থান নষ্ট করতে একটি মহল ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে। চাঁদাবাজি বা কোনো অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে আমার ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই।” বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নাশকতার মামলায় একাধিকবার কারাভোগ ও সাজা পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

যুবদলের স্থানীয় দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, চাঁদাবাজি, দখলদারি কিংবা দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়ে দল ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​বনানী থানা পুলিশ জানিয়েছে, চাঁদাবাজির বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


ইছামতী

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরমান চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ইছামতী