ঢাকা   মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
English
ই-পেপার
ইছামতী

সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা সময়ের দাবি: প্রধানমন্ত্রী



সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা সময়ের দাবি: প্রধানমন্ত্রী
ছবি:সংগৃহীত

সবার জন্য নিরাপদ,সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।তিনি বলেছেন,আবাসন বলতে শুধু মানুষের মাথা গোঁজার জন্য একটি ঘরকে বোঝায় না; এর সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ,উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন, সুশৃঙ্খল গণপরিবহন,উন্নত সড়ক যোগাযোগ,শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলোও সরাসরি সম্পৃক্ত।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এবারের বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘সর্বজনীন বাসস্থান,টেকসই নগরায়ণ’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,টেকসই আবাসন নিশ্চিত করার অর্থ হলো এমন একটি নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ তৈরি করা,যেখানে প্রত্যেক নাগরিক মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন।একটি ঘর নির্মাণ করলেই আবাসনের দায়িত্ব শেষ হয় না; বরং সেই ঘরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা,নিরাপত্তা, যোগাযোগ,শিক্ষা,চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।

তিনি বলেন,উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর জন্য সব নাগরিকের নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশের জন্য কাজটি অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের। তারপরও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যেতে হবে। নাগরিকদের জন্য শুধু বাসস্থান তৈরি নয়,সেই বাসস্থানকে নিরাপদ,বাসযোগ্য ও টেকসই করাই এখন সময়ের দাবি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন,বাংলাদেশের শহর,বন্দর ও নগরাঞ্চলে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি ও বসবাস বাড়ছে। রাজধানী ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে রয়েছে।দেশের অন্যান্য বড় শহরেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।এমন বাস্তবতায় সর্বজনীন আবাসন ও টেকসই নগরায়ণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

তিনি বলেন,শহরগুলোতে সবার জন্য নিরাপদ,মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা প্রয়োজন। তবে এই লক্ষ্য অর্জন সহজ নয়।এ জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তা, আবাসন খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান,বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী,পরিবেশসম্মত,নিরাপদ এবং মৌলিক নাগরিক সেবাসম্পন্ন বাসস্থান নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

পরিকল্পিত,নিরাপদ,পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলাকে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন,নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থা করাও সরকারের পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

নগরায়ণকে আরও পরিকল্পিত করতে প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা এবং উন্নয়নকে রাজধানীকেন্দ্রিকতা থেকে বের করে বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন।এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মসংস্থান ও নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি বড় শহরগুলোর ওপর অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ কমানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন,রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা দ্রুত,সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও নাগরিক সুবিধা বাড়াতে হবে।এতে শহরমুখী মানুষের চাপ কমবে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।

পরিবেশের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,আবাসন ও নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রকৃতি ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলার পাশাপাশি পার্ক, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত এলাকায় শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে ব্লকভিত্তিক আবাসন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করার কথাও জানান তিনি।

আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকারের একার পক্ষে সব দায়িত্ব পালন করা কঠিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,এ ক্ষেত্রে বেসরকারি আবাসন উদ্যোক্তা ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,সরকার পর্যায়ক্রমে গৃহীত সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হলে ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান’ শুধু একটি প্রত্যাশা থাকবে না,বরং দেশের নাগরিকদের জন্য তা বাস্তবতায় পরিণত হবে।

বিশ্ব বসতি দিবসের কর্মসূচি

বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানের আগে একটি স্বর্ণচাঁপা গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।এ সময় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের,প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর,মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.ওবায়দুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতসহ অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়।পরে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের লবিতে তিন দিনব্যাপী আবাসন মেলার আয়োজন করা হয়েছে।মেলায় রিহ্যাব,নির্মাণ খাত,ব্যাংকিং সেবা,রাজউক,স্থাপত্য অধিদপ্তর,গণপূর্ত অধিদপ্তর, নগর পরিকল্পনাসহ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার মোট ১৫৭টি স্টল রয়েছে।

জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হয়। বিশ্বজুড়ে নিরাপদ নগর ও মানসম্মত আবাসন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৯৮৬ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

আপনার মতামত লিখুন

ইছামতী

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা সময়ের দাবি: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সবার জন্য নিরাপদ,সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।তিনি বলেছেন,আবাসন বলতে শুধু মানুষের মাথা গোঁজার জন্য একটি ঘরকে বোঝায় না; এর সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ,উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন, সুশৃঙ্খল গণপরিবহন,উন্নত সড়ক যোগাযোগ,শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলোও সরাসরি সম্পৃক্ত।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এবারের বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘সর্বজনীন বাসস্থান,টেকসই নগরায়ণ’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,টেকসই আবাসন নিশ্চিত করার অর্থ হলো এমন একটি নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ তৈরি করা,যেখানে প্রত্যেক নাগরিক মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন।একটি ঘর নির্মাণ করলেই আবাসনের দায়িত্ব শেষ হয় না; বরং সেই ঘরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা,নিরাপত্তা, যোগাযোগ,শিক্ষা,চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।

তিনি বলেন,উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর জন্য সব নাগরিকের নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশের জন্য কাজটি অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের। তারপরও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যেতে হবে। নাগরিকদের জন্য শুধু বাসস্থান তৈরি নয়,সেই বাসস্থানকে নিরাপদ,বাসযোগ্য ও টেকসই করাই এখন সময়ের দাবি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন,বাংলাদেশের শহর,বন্দর ও নগরাঞ্চলে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি ও বসবাস বাড়ছে। রাজধানী ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে রয়েছে।দেশের অন্যান্য বড় শহরেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।এমন বাস্তবতায় সর্বজনীন আবাসন ও টেকসই নগরায়ণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

তিনি বলেন,শহরগুলোতে সবার জন্য নিরাপদ,মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা প্রয়োজন। তবে এই লক্ষ্য অর্জন সহজ নয়।এ জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তা, আবাসন খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান,বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী,পরিবেশসম্মত,নিরাপদ এবং মৌলিক নাগরিক সেবাসম্পন্ন বাসস্থান নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

পরিকল্পিত,নিরাপদ,পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলাকে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন,নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থা করাও সরকারের পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

নগরায়ণকে আরও পরিকল্পিত করতে প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা এবং উন্নয়নকে রাজধানীকেন্দ্রিকতা থেকে বের করে বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন।এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মসংস্থান ও নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি বড় শহরগুলোর ওপর অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ কমানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন,রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা দ্রুত,সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও নাগরিক সুবিধা বাড়াতে হবে।এতে শহরমুখী মানুষের চাপ কমবে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।

পরিবেশের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,আবাসন ও নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রকৃতি ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলার পাশাপাশি পার্ক, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত এলাকায় শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে ব্লকভিত্তিক আবাসন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করার কথাও জানান তিনি।

আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকারের একার পক্ষে সব দায়িত্ব পালন করা কঠিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,এ ক্ষেত্রে বেসরকারি আবাসন উদ্যোক্তা ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,সরকার পর্যায়ক্রমে গৃহীত সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হলে ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান’ শুধু একটি প্রত্যাশা থাকবে না,বরং দেশের নাগরিকদের জন্য তা বাস্তবতায় পরিণত হবে।

বিশ্ব বসতি দিবসের কর্মসূচি

বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানের আগে একটি স্বর্ণচাঁপা গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।এ সময় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের,প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর,মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.ওবায়দুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতসহ অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়।পরে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের লবিতে তিন দিনব্যাপী আবাসন মেলার আয়োজন করা হয়েছে।মেলায় রিহ্যাব,নির্মাণ খাত,ব্যাংকিং সেবা,রাজউক,স্থাপত্য অধিদপ্তর,গণপূর্ত অধিদপ্তর, নগর পরিকল্পনাসহ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার মোট ১৫৭টি স্টল রয়েছে।

জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হয়। বিশ্বজুড়ে নিরাপদ নগর ও মানসম্মত আবাসন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৯৮৬ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।


ইছামতী

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরমান চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ইছামতী