হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু,নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ২৭৩; মোট প্রাণহানি ১১৬২
দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৭৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৬২ জনে।
রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। নতুন করে মৃত্যুর ঘটনায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৬২ জনে।
এদিকে, একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৮০ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ফলে দেশে সন্দেহভাজন হামের রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ২৮ জনে। পাশাপাশি, নতুন করে ৯৩ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৪২১ জনে।
হাসপাতালে ভর্তি ও সুস্থতার চিত্র
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত হাম সন্দেহে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৬৯ জন।
অর্থাৎ, সংক্রমণের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক রোগীর হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার ঘটনা পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে। শিশুদের মধ্যে হামজনিত জটিলতার ঝুঁকি থাকায় অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
হামের উপসর্গ ও করণীয়
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এর উল্লেখযোগ্য উপসর্গ। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শের মাধ্যমে এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
শিশুর শরীরে এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, খেতে বা পান করতে না পারা কিংবা অতিরিক্ত নিস্তেজ হয়ে পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকাদান নিশ্চিত করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখাও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নিয়মিত টিকাদান, আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ, যথাযথ চিকিৎসা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ১৬২ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৬৯ জন। সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সচেতন ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদন এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)।
বিষয় : মৃত্যু
আপনার মতামত লিখুন