ঢাকা   মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
English
ই-পেপার
ইছামতী

সর্বোচ্চ মণ্ডপ,বরাদ্দ,ছুটি ও নিরাপত্তায় দেশজুড়ে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ



সর্বোচ্চ মণ্ডপ,বরাদ্দ,ছুটি ও নিরাপত্তায় দেশজুড়ে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
ছবি:সংগৃহীত
এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চসংখ্যক পূজামণ্ডপ, সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ, সর্বোচ্চ ছুটি, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং সর্বোচ্চ আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর বনানীতে কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ-সংলগ্ন বনানী পূজামাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষষ্ঠীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমানাধিকারের ওপর গুরুত্ব

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন, উপাসনালয় নির্মাণ এবং কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার নিশ্চিত করেছে। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার সমুন্নত রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে কেউ যেন বৈষম্য, বাধা কিংবা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’র পরিবর্তে ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি’ ব্যবহারের আহ্বান

বক্তব্যে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দবন্ধের পরিবর্তে ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি’ শব্দটি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, “আমরা কেউ এখানে সম্প্রদায় হয়ে আসিনি। দেশের আইন-কানুন বা সংবিধান কাউকে সম্প্রদায় হিসেবে চিহ্নিত করে না। আমরা সবাই বাংলাদেশের সমান অধিকারপ্রাপ্ত স্বাধীন নাগরিক।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রাজনৈতিক স্বার্থে এবং ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের অধিকারকে প্রাধান্য দিতে চায়। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করে না দেখে সমান অধিকার ও মর্যাদার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

বনানী পূজামণ্ডপের নান্দনিক আয়োজনের প্রশংসা

এবারের বনানী পূজামণ্ডপের মূল প্রতিপাদ্য ‘জলজ’। দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও উপকরণের সমন্বয়ে সাজানো মণ্ডপের নান্দনিক পরিবেশের প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উপাদানকে প্রাধান্য দিয়ে এ ধরনের আয়োজন সত্যিই অসাধারণ ও প্রশংসনীয়। এমন উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি উৎসবের সৌন্দর্য আরও বাড়ানো সম্ভব।

অনুষ্ঠানে কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং নেপালের রাষ্ট্রদূত জ্ঞানশ্যাম ভান্ডারী। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক কোরের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অন্যান্য বক্তার মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) চেয়ারম্যান ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত এবং বনানী সোসাইটির সভাপতি শওকত আলী ভূঁইয়া (দিলন)।

গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফাউন্ডেশনের সদস্য স্বপ্না ভৌমিক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়।

মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন ও ‘বোধন’ সাময়িকীর মোড়ক উন্মোচন

মহাষষ্ঠীর শুভলগ্নে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার আগমনী গান ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এ সময় মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন এবং শারদীয় বিশেষ সাময়িকী ‘বোধন’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

আনুষ্ঠানিকতা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং দেশীয় ঐতিহ্যনির্ভর সাজসজ্জায় বনানী পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে দুর্গাপূজার এই আয়োজন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সম্মিলন ঘটায়।

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নাগরিক অধিকারের বার্তা

সামগ্রিকভাবে, বনানীর মহাষষ্ঠীর অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমান নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা এবং উৎসব পালনের স্বাধীনতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় রাখা।

শারদীয় দুর্গাপূজার এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

ইছামতী

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


সর্বোচ্চ মণ্ডপ,বরাদ্দ,ছুটি ও নিরাপত্তায় দেশজুড়ে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চসংখ্যক পূজামণ্ডপ, সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ, সর্বোচ্চ ছুটি, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং সর্বোচ্চ আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর বনানীতে কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ-সংলগ্ন বনানী পূজামাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষষ্ঠীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমানাধিকারের ওপর গুরুত্ব

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন, উপাসনালয় নির্মাণ এবং কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার নিশ্চিত করেছে। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার সমুন্নত রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে কেউ যেন বৈষম্য, বাধা কিংবা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’র পরিবর্তে ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি’ ব্যবহারের আহ্বান

বক্তব্যে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দবন্ধের পরিবর্তে ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি’ শব্দটি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, “আমরা কেউ এখানে সম্প্রদায় হয়ে আসিনি। দেশের আইন-কানুন বা সংবিধান কাউকে সম্প্রদায় হিসেবে চিহ্নিত করে না। আমরা সবাই বাংলাদেশের সমান অধিকারপ্রাপ্ত স্বাধীন নাগরিক।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রাজনৈতিক স্বার্থে এবং ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের অধিকারকে প্রাধান্য দিতে চায়। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করে না দেখে সমান অধিকার ও মর্যাদার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

বনানী পূজামণ্ডপের নান্দনিক আয়োজনের প্রশংসা

এবারের বনানী পূজামণ্ডপের মূল প্রতিপাদ্য ‘জলজ’। দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও উপকরণের সমন্বয়ে সাজানো মণ্ডপের নান্দনিক পরিবেশের প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উপাদানকে প্রাধান্য দিয়ে এ ধরনের আয়োজন সত্যিই অসাধারণ ও প্রশংসনীয়। এমন উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি উৎসবের সৌন্দর্য আরও বাড়ানো সম্ভব।

অনুষ্ঠানে কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং নেপালের রাষ্ট্রদূত জ্ঞানশ্যাম ভান্ডারী। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক কোরের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অন্যান্য বক্তার মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) চেয়ারম্যান ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত এবং বনানী সোসাইটির সভাপতি শওকত আলী ভূঁইয়া (দিলন)।

গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফাউন্ডেশনের সদস্য স্বপ্না ভৌমিক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়।

মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন ও ‘বোধন’ সাময়িকীর মোড়ক উন্মোচন

মহাষষ্ঠীর শুভলগ্নে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার আগমনী গান ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এ সময় মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন এবং শারদীয় বিশেষ সাময়িকী ‘বোধন’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

আনুষ্ঠানিকতা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং দেশীয় ঐতিহ্যনির্ভর সাজসজ্জায় বনানী পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে দুর্গাপূজার এই আয়োজন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সম্মিলন ঘটায়।

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নাগরিক অধিকারের বার্তা

সামগ্রিকভাবে, বনানীর মহাষষ্ঠীর অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমান নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা এবং উৎসব পালনের স্বাধীনতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় রাখা।

শারদীয় দুর্গাপূজার এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।



ইছামতী

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরমান চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ইছামতী