ঢাকা   মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
English
ই-পেপার
ইছামতী

বিএনপির ভূমিকা নিয়ে মুখ খুললেন হাসনাত,রাজনীতিতে নতুন আলোচনা



বিএনপির ভূমিকা নিয়ে মুখ খুললেন হাসনাত,রাজনীতিতে নতুন আলোচনা
ছবি:সংগৃহীত
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে রাজনৈতিক অবস্থান, রাষ্ট্র সংস্কার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই আলোচনায় আসছে। এরই মধ্যে বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর সমালোচনামূলক বক্তব্য নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

‘বিএনপি নিজেদের খুব চালাক মনে করে’—এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংবাদটি আলোচনায় এলেও বাক্যটির মূল ভিডিও বা নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ উদ্ধৃতি নিশ্চিত করা যায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি সরকারের ভূমিকা, রাষ্ট্র সংস্কার, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং রাজনৈতিক সুবিধা বণ্টন নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ একাধিক কঠোর মন্তব্য করেছেন।

গত ১৩ অক্টোবর রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জুলাই গণহত্যার বিচার: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, রাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেই প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন নিশ্চিত হয় না।

রাষ্ট্রকাঠামোকে ফিটনেসবিহীন গাড়ির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, গাড়ির চালক দক্ষ হলেও ইঞ্জিন, স্টিয়ারিং ও চাকা ঠিক না থাকলে সেটিকে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

ওই আলোচনা সভায় বিএনপির একটি অংশের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক থাকার অভিযোগও তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর বক্তব্যের সারকথা ছিল, বিএনপির মুখে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কথা থাকলেও দলের ভেতরে এমন কিছু রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

তবে এ অভিযোগের পক্ষে তিনি বিস্তারিত প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন কি না, প্রকাশিত সংবাদে তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টিকে হাসনাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই দেখা উচিত; প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে নয়।

বিএনপির দীর্ঘদিনের নির্যাতিত নেতাকর্মীদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মামলা, নির্যাতন ও কারাবরণের শিকার হওয়া বিএনপির অনেক নেতাকর্মী বর্তমানে প্রত্যাশিত গুরুত্ব পাচ্ছেন না।

অন্যদিকে, ৫ আগস্টের পর বিএনপিতে যুক্ত হওয়া একটি অংশ রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যবসায়িক সুবিধা ও মনোনয়নের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ বক্তব্যের মাধ্যমে হাসনাত বিএনপির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক সুবিধা বণ্টনের বিষয়টি সামনে আনেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

এর আগে ১২ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, তারেক রহমান আর সরকার পরিচালনা করছেন না এবং বিএনপি সরকার কার্যত অন্যদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। তাঁর এই মন্তব্যও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করে।

তবে পোস্টটিতে এমন মন্তব্যের পেছনে নির্দিষ্ট প্রমাণ বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল কি না, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার উল্লেখ পাওয়া যায়নি। তাই এটিকেও তাঁর রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও অভিযোগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

হাসনাত আবদুল্লাহর সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোতে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করা।

তিনি বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া, আদালতের রায় কার্যকর করা এবং পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে কেবল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিলেই চলবে না; বাস্তব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেও সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখাতে হবে।

বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনা, রাজনৈতিক সংস্কার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্য বাস্তবায়ন নিয়ে মতপার্থক্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। একদিকে বিএনপির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও সরকারের কার্যক্রম নিয়ে বিরোধী পক্ষের সমালোচনা রয়েছে, অন্যদিকে এসব অভিযোগের জবাব দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দলের।

রাজনৈতিক বক্তব্যের ক্ষেত্রে অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য এবং যাচাই করা তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি। বিশেষ করে কোনো দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাজনৈতিক সুবিধা বণ্টন কিংবা অন্য দলের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ উঠলে তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ থাকা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

ইছামতী

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


বিএনপির ভূমিকা নিয়ে মুখ খুললেন হাসনাত,রাজনীতিতে নতুন আলোচনা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে রাজনৈতিক অবস্থান, রাষ্ট্র সংস্কার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই আলোচনায় আসছে। এরই মধ্যে বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর সমালোচনামূলক বক্তব্য নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

‘বিএনপি নিজেদের খুব চালাক মনে করে’—এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংবাদটি আলোচনায় এলেও বাক্যটির মূল ভিডিও বা নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ উদ্ধৃতি নিশ্চিত করা যায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি সরকারের ভূমিকা, রাষ্ট্র সংস্কার, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং রাজনৈতিক সুবিধা বণ্টন নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ একাধিক কঠোর মন্তব্য করেছেন।

গত ১৩ অক্টোবর রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জুলাই গণহত্যার বিচার: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, রাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেই প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন নিশ্চিত হয় না।

রাষ্ট্রকাঠামোকে ফিটনেসবিহীন গাড়ির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, গাড়ির চালক দক্ষ হলেও ইঞ্জিন, স্টিয়ারিং ও চাকা ঠিক না থাকলে সেটিকে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

ওই আলোচনা সভায় বিএনপির একটি অংশের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক থাকার অভিযোগও তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর বক্তব্যের সারকথা ছিল, বিএনপির মুখে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কথা থাকলেও দলের ভেতরে এমন কিছু রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

তবে এ অভিযোগের পক্ষে তিনি বিস্তারিত প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন কি না, প্রকাশিত সংবাদে তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টিকে হাসনাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই দেখা উচিত; প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে নয়।

বিএনপির দীর্ঘদিনের নির্যাতিত নেতাকর্মীদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মামলা, নির্যাতন ও কারাবরণের শিকার হওয়া বিএনপির অনেক নেতাকর্মী বর্তমানে প্রত্যাশিত গুরুত্ব পাচ্ছেন না।

অন্যদিকে, ৫ আগস্টের পর বিএনপিতে যুক্ত হওয়া একটি অংশ রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যবসায়িক সুবিধা ও মনোনয়নের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ বক্তব্যের মাধ্যমে হাসনাত বিএনপির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক সুবিধা বণ্টনের বিষয়টি সামনে আনেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

এর আগে ১২ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, তারেক রহমান আর সরকার পরিচালনা করছেন না এবং বিএনপি সরকার কার্যত অন্যদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। তাঁর এই মন্তব্যও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করে।

তবে পোস্টটিতে এমন মন্তব্যের পেছনে নির্দিষ্ট প্রমাণ বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল কি না, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার উল্লেখ পাওয়া যায়নি। তাই এটিকেও তাঁর রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও অভিযোগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

হাসনাত আবদুল্লাহর সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোতে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করা।

তিনি বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া, আদালতের রায় কার্যকর করা এবং পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে কেবল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিলেই চলবে না; বাস্তব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেও সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখাতে হবে।

বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনা, রাজনৈতিক সংস্কার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্য বাস্তবায়ন নিয়ে মতপার্থক্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। একদিকে বিএনপির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও সরকারের কার্যক্রম নিয়ে বিরোধী পক্ষের সমালোচনা রয়েছে, অন্যদিকে এসব অভিযোগের জবাব দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দলের।

রাজনৈতিক বক্তব্যের ক্ষেত্রে অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য এবং যাচাই করা তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি। বিশেষ করে কোনো দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাজনৈতিক সুবিধা বণ্টন কিংবা অন্য দলের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ উঠলে তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ থাকা প্রয়োজন।



ইছামতী

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরমান চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ইছামতী