ঢাকা   মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
English
ই-পেপার
ইছামতী

দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানাতে এক দিনে তিন বিভাগ সফর প্রধানমন্ত্রীর,রংপুর-রাজশাহী হয়ে রাতে চট্টগ্রামে তারেক রহমান



দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানাতে এক দিনে তিন বিভাগ সফর প্রধানমন্ত্রীর,রংপুর-রাজশাহী হয়ে রাতে চট্টগ্রামে তারেক রহমান
ছবি:সংগৃহীত
২০ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী উপলক্ষে এক দিনে দেশের তিন বিভাগ সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। একই দিনে রাজশাহীতে জনসভায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ কর্মসূচিও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

দিনব্যাপী সফরের শেষ পর্যায়ে রাতে চট্টগ্রাম নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকার ঐতিহাসিক জে এম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি। এর আগে সকালে রাজধানীর মহাখালী ও বনানী এলাকার পূজামণ্ডপও পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাসস ও ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি) সূত্রে জানা গেছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে উৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় এবং দুর্গাপূজার আয়োজন সরেজমিনে দেখতে এই সফর করেন তারেক রহমান। রাতে চট্টগ্রামের কর্মসূচি শেষে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

সকালে ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা

মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সেখানে পৌঁছানোর পর সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।

সৈয়দপুর থেকে রংপুর যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর এলাকায় আয়োজিত দুটি পথসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ তাঁকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীও তাঁদের অভিবাদনের জবাব দেন।

পাগলাপীরের পথসভায় দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পায়।

রংপুরে রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন

পথসভা শেষে রংপুর নগরীর ঐতিহাসিক রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১২টা ৫ মিনিটের দিকে মণ্ডপে পৌঁছালে মন্দির কমিটি ও পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতারা তাঁকে স্বাগত জানান।

এ সময় তিনি পূজারিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান। মণ্ডপে উপস্থিত ভক্তদের প্রতিও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

মন্দির কমিটির সভাপতি ভবতোষ সরকার বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের রংপুর জেলা শাখার সভাপতি রামজীবন কুণ্ডু এবং মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রায়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল রংপুরে তাঁর প্রথম সফর। এ কারণে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সফরকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যায়।

রাজশাহীতে জনসভা ও কৃষক প্রণোদনা কর্মসূচি

রংপুরের কর্মসূচি শেষে রাজশাহীর উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুরের পর সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতারা।

রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় অংশ নেন তারেক রহমান। মাঠটি হাজী মুহাম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ হিসেবেও পরিচিত।

জনসভায় স্থানীয় মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি আখচাষিদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ কর্মসূচির আওতায় ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির মধ্যে মোট ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষকদের আর্থিক সহায়তা এবং স্থানীয় জনসম্পৃক্ততা ছিল রাজশাহী সফরের উল্লেখযোগ্য অংশ। জনসভা শেষে তিনি নগরীর ধর্মসভা মন্দিরের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

রাজশাহী থেকে চট্টগ্রামের পথে

রাজশাহীর জনসভা ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কর্মসূচি শেষ করে সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। ইউএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে যাত্রা করেন তিনি।

সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারেক রহমান। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিএনপির নেতারা।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকার জে এম সেন হল পূজামণ্ডপের উদ্দেশে রওনা হন।

রাতে জে এম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন

রাত ৮টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জে এম সেন হল দুর্গাপূজামণ্ডপে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ ব্যানার্জি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিরা তাঁকে স্বাগত জানান।

মণ্ডপে উপস্থিত ভক্ত ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে স্বাগত জানাতে সড়কের দুই পাশে মানুষ জড়ো হন। উৎসবমুখর পরিবেশে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান স্থানীয়রা।

জে এম সেন হল চট্টগ্রামের শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর শাখা প্রায় ৪০ বছর ধরে এখানে দুর্গাপূজার আয়োজন করে আসছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্গোৎসব চলাকালে এই প্রথম কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী মণ্ডপটি পরিদর্শন করলেন।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

সম্প্রীতি ও নিরাপত্তায় সরকারের গুরুত্ব

দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে উৎসব নির্বিঘ্নে আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের বরাতে বাসস জানিয়েছে। সরকারের নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, ধর্ম ব্যক্তির নিজস্ব বিষয় হলেও সবার নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে পূজামণ্ডপগুলোর জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি, ছুটি সম্প্রসারণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার কথাও জানানো হয়েছে।

রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সরাসরি শুভেচ্ছা বিনিময় এবং শারদীয় দুর্গোৎসবে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া। একই দিনে রাজশাহীতে জনসভা ও আখচাষিদের প্রণোদনা কর্মসূচি উদ্বোধনের মাধ্যমে সফরে জনসম্পৃক্ততা ও কৃষি সহায়তার বিষয়টিও যুক্ত হয়।

দিনব্যাপী তিন বিভাগ সফর শেষে চট্টগ্রামের কর্মসূচি সম্পন্ন করে রাতে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।


আপনার মতামত লিখুন

ইছামতী

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানাতে এক দিনে তিন বিভাগ সফর প্রধানমন্ত্রীর,রংপুর-রাজশাহী হয়ে রাতে চট্টগ্রামে তারেক রহমান

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
২০ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী উপলক্ষে এক দিনে দেশের তিন বিভাগ সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। একই দিনে রাজশাহীতে জনসভায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ কর্মসূচিও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

দিনব্যাপী সফরের শেষ পর্যায়ে রাতে চট্টগ্রাম নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকার ঐতিহাসিক জে এম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি। এর আগে সকালে রাজধানীর মহাখালী ও বনানী এলাকার পূজামণ্ডপও পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাসস ও ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি) সূত্রে জানা গেছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে উৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় এবং দুর্গাপূজার আয়োজন সরেজমিনে দেখতে এই সফর করেন তারেক রহমান। রাতে চট্টগ্রামের কর্মসূচি শেষে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

সকালে ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা

মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সেখানে পৌঁছানোর পর সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।

সৈয়দপুর থেকে রংপুর যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর এলাকায় আয়োজিত দুটি পথসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ তাঁকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীও তাঁদের অভিবাদনের জবাব দেন।

পাগলাপীরের পথসভায় দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পায়।

রংপুরে রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন

পথসভা শেষে রংপুর নগরীর ঐতিহাসিক রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১২টা ৫ মিনিটের দিকে মণ্ডপে পৌঁছালে মন্দির কমিটি ও পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতারা তাঁকে স্বাগত জানান।

এ সময় তিনি পূজারিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান। মণ্ডপে উপস্থিত ভক্তদের প্রতিও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

মন্দির কমিটির সভাপতি ভবতোষ সরকার বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের রংপুর জেলা শাখার সভাপতি রামজীবন কুণ্ডু এবং মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রায়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল রংপুরে তাঁর প্রথম সফর। এ কারণে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সফরকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যায়।

রাজশাহীতে জনসভা ও কৃষক প্রণোদনা কর্মসূচি

রংপুরের কর্মসূচি শেষে রাজশাহীর উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুরের পর সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতারা।

রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় অংশ নেন তারেক রহমান। মাঠটি হাজী মুহাম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ হিসেবেও পরিচিত।

জনসভায় স্থানীয় মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি আখচাষিদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ কর্মসূচির আওতায় ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির মধ্যে মোট ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষকদের আর্থিক সহায়তা এবং স্থানীয় জনসম্পৃক্ততা ছিল রাজশাহী সফরের উল্লেখযোগ্য অংশ। জনসভা শেষে তিনি নগরীর ধর্মসভা মন্দিরের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

রাজশাহী থেকে চট্টগ্রামের পথে

রাজশাহীর জনসভা ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কর্মসূচি শেষ করে সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। ইউএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে যাত্রা করেন তিনি।

সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারেক রহমান। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিএনপির নেতারা।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকার জে এম সেন হল পূজামণ্ডপের উদ্দেশে রওনা হন।

রাতে জে এম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন

রাত ৮টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জে এম সেন হল দুর্গাপূজামণ্ডপে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ ব্যানার্জি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিরা তাঁকে স্বাগত জানান।

মণ্ডপে উপস্থিত ভক্ত ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে স্বাগত জানাতে সড়কের দুই পাশে মানুষ জড়ো হন। উৎসবমুখর পরিবেশে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান স্থানীয়রা।

জে এম সেন হল চট্টগ্রামের শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর শাখা প্রায় ৪০ বছর ধরে এখানে দুর্গাপূজার আয়োজন করে আসছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্গোৎসব চলাকালে এই প্রথম কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী মণ্ডপটি পরিদর্শন করলেন।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

সম্প্রীতি ও নিরাপত্তায় সরকারের গুরুত্ব

দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে উৎসব নির্বিঘ্নে আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের বরাতে বাসস জানিয়েছে। সরকারের নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, ধর্ম ব্যক্তির নিজস্ব বিষয় হলেও সবার নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে পূজামণ্ডপগুলোর জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি, ছুটি সম্প্রসারণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার কথাও জানানো হয়েছে।

রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সরাসরি শুভেচ্ছা বিনিময় এবং শারদীয় দুর্গোৎসবে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া। একই দিনে রাজশাহীতে জনসভা ও আখচাষিদের প্রণোদনা কর্মসূচি উদ্বোধনের মাধ্যমে সফরে জনসম্পৃক্ততা ও কৃষি সহায়তার বিষয়টিও যুক্ত হয়।

দিনব্যাপী তিন বিভাগ সফর শেষে চট্টগ্রামের কর্মসূচি সম্পন্ন করে রাতে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।




ইছামতী

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরমান চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ইছামতী