প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বাজেট ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্যের দামে কোনো উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যায়নি, যা সরকারের সঠিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনারই প্রতিফলন।
এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবাদপত্র ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তিনি দেখেছেন যে বাজেট ঘোষণার পরও চাল, ডাল, তেল, নুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। তিনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সরকার জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং সেই লক্ষ্যেই বাজেটে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক বাজেটে প্রায় ৬০টি পণ্যের ওপর আরোপিত কর ও শুল্ক প্রত্যাহার বা হ্রাস করা হয়েছে। এর ফলে আমদানি ও সরবরাহ ব্যয় কমবে এবং বাজারে ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে পণ্য কিনতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা এবং দ্রব্যমূল্যের চাপ থেকে জনগণকে স্বস্তি দেওয়া।
বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বাজেটকে “গণবিরোধী” বলে আখ্যায়িত করছে, তাদের অবস্থান জনগণের কাছে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “যে বাজেটে জনগণের প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে, সেই বাজেটও যদি তারা না মানে, তাহলে তাদের আপত্তির প্রকৃত কারণ কী?”
তিনি আরও বলেন, “যে বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়েছে, সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে—যা জনস্বাস্থ্য রক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ—সেই বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। তাহলে জনগণ সহজেই বুঝতে পারবেন তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের পেছনে কী উদ্দেশ্য কাজ করছে।”
সরকারপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধী দলের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে জনগণের কল্যাণ নয়, বরং রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের প্রচেষ্টা রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতেই তারা বাজেটসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তাদের লক্ষ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। তাদের উদ্দেশ্য একটাই—দেশের মধ্যে অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি সৃষ্টি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করা।”
তিনি জনগণকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত দেশের মানুষের কল্যাণকে সামনে রেখেই নেওয়া হচ্ছে। বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়েই সরকার দেশের অগ্রগতির ধারা বজায় রাখবে।
আপনার মতামত লিখুন