সাংবাদিক ইস্যুতে দুঃখ প্রকাশ, শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর
জাতীয় একটি দৈনিকের প্রকাশক-সম্পাদকসহ ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা এবং ওই পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে তিনি বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং গ্রেফতার সাংবাদিকের দ্রুত মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার রাতে প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে নানা ধরনের অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এসব পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে তার নাম ব্যবহার করে বা তার পক্ষে কেউ যেন ব্যক্তিগতভাবে মামলা, বিবৃতি কিংবা অন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং আশা করেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে ও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে তিনি গ্রেফতার হওয়া সাংবাদিকের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
এতে আরও বলা হয়, মামলার বাদী নিজেও একজন সাংবাদিক এবং বগুড়া প্রেসক্লাবের নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ। ফলে বিষয়টি ঘিরে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ, উত্তেজনা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে সবাইকে সংযম, দায়িত্বশীলতা এবং পেশাদারিত্বের পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম তার সম্পর্কে প্রচারিত তথ্য প্রকাশের আগে নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা গণতান্ত্রিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাই তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে যথাযথ অনুসন্ধান ও সত্যতা যাচাই জরুরি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজের নাম ব্যবহারের বিরুদ্ধে ডিও লেটার
এদিকে নিজের বা পরিবারের সদস্যদের নামে নতুন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ না করার অনুরোধ জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও (আধা-সরকারি) লেটার পাঠিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
গত ১ জুন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো ওই চিঠির অনুলিপি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন ব্যক্তি ও মহল তার নামে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা বা নামকরণের প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন, যা তার কাছে অনভিপ্রেত ও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়েছে। তিনি মনে করেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পরিচিতি অক্ষুণ্ণ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়ে তার নির্বাচনী এলাকা শিবগঞ্জ-মোকামতলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অর্থায়নে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বাইরে নতুন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তার বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে নামকরণ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
ডিও লেটারের শেষাংশে মীর শাহে আলম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে তার বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে নতুন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব যেন গ্রহণ বা অনুমোদন না করা হয়। পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী ও সুপ্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্বের নাম, পরিচিতি এবং ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে প্রতিমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণে ব্যক্তি-নির্ভর সংস্কৃতির পরিবর্তে ঐতিহ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় রক্ষার আহ্বানকে অনেকেই সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন