বাবুনগর মাদ্রাসায় তারেক রহমান, হেফাজত আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট ২০২৬) চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমিরের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়। দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, ধর্মীয় শিক্ষা, কওমি মাদ্রাসা এবং সামগ্রিক সামাজিক ও জাতীয় বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মাদ্রাসায় পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন পর দেশের অন্যতম প্রাচীন এই দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রী মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রবেশের সময় শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসপূর্ণ উপস্থিতিতে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
পরে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মাদ্রাসার শিক্ষক, আলেম-ওলামা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করেন।
আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরী চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর এলাকায় অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে দেশের কওমি মাদ্রাসা ও আলেমসমাজের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক রয়েছে।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের বর্তমান আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী দেশের পরিচিত আলেমদের একজন। সাম্প্রতিক সময়ে কওমি মাদ্রাসা, ধর্মীয় শিক্ষা ও আলেমসমাজের বিভিন্ন বিষয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। এর আগে বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতেও হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বিভিন্ন দাবি ও মতামত তুলে ধরা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বাবুনগর মাদ্রাসা সফর এবং হেফাজত আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকে ঘিরে স্থানীয় আলেমসমাজ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। দেশের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আলেমসমাজের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের ক্ষেত্রে এ সাক্ষাৎকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রী মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী তিনি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
আপনার মতামত লিখুন