দিল্লি বিমানবন্দরে পিস্তলের গুলি সহ আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান আটক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পিস্তলের গুলিভর্তি ব্যাগ নিয়ে ভারতে পৌঁছে গেছেন আলোচিত ব্যবসায়ী ও আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া। শাহজালালের একাধিক ভিআইপি ও ভিভিআইপি নিরাপত্তা স্তর পেরিয়ে গুলিভর্তি ব্যাগটি দিল্লি বিমানবন্দরে গিয়ে ধরা পড়ার পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মহলে। বিমানবন্দরের ইতিহাসে একে নজিরবিহীন ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি নির্ধারিত ফ্লাইটে ভারতের নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা হন। যাত্রার সময় তাঁর সাথে থাকা হাতব্যাগে ছিল একাধিক বিপজ্জনক লাইভ গোলাবারুদ (পিস্তলের গুলি)।
অবাক করার বিষয় হলো, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশমুখের আর্চওয়ে, ডিপার্চার লাউঞ্জের হেভি লাগেজ স্ক্যানিং এবং বিমানে ওঠার ঠিক আগের চূড়ান্ত নিরাপত্তা তল্লাশি—কোনো স্তরেই মেটাল ডিটেক্টর বা স্ক্যানারে এই গোলাবারুদ ধরা পড়েনি। বিমানবন্দরের সমস্ত ধাপ নিরবচ্ছিন্নভাবে পার হয়ে তিনি সম্পূর্ণ নিরাপদে বিমানে উঠে দিল্লি পৌঁছে যান।
দিল্লি ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর কাস্টমস ও এভিয়েশন সিকিউরিটির নিয়মিত স্ক্যানিংয়ে নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার ব্যাগে সন্দেহজনক বস্তু ধরা পড়ে। তাৎক্ষণিক ম্যানুয়াল তল্লাশিতে তাঁর ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয় বিপজ্জনক লাইভ গোলাবারুদ।
ঘটনার পরপরই দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে এবং সঙ্গে সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে। বাংলাদেশের একজন হাই-প্রোফাইল ব্যবসায়ী কীভাবে সমস্ত ডাবল-লেয়ার নিরাপত্তা এড়িয়ে গুলিভর্তি ব্যাগ নিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পার হলেন, তা নিয়ে দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করে।
নিয়ম অনুযায়ী, বিমানবন্দরে যাত্রীর শরীর ও সাথে থাকা প্রতিটি লাগেজ একাধিক আধুনিক স্ক্যানিং মেশিনের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা হয়। অথচ একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর ব্যাগে থাকা গুলি কোনো স্তরেই ধরা না পড়া বিশাল বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে: স্ক্যানিং মেশিনগুলো কি আদৌ সচল ছিল, নাকি কারিগরি ত্রুটি ঢাকা দেওয়া হচ্ছে? দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা কর্মীরা কি নজরদারিতে শিথিলতা দেখিয়েছিলেন, নাকি কোনো বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে এই ঘটনা ঘটেছে?
চাঞ্চল্যকর এই খবর ঢাকায় পৌঁছানোর সাথে সাথেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম শোরগোল পড়ে যায়। তড়িঘড়ি করে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট স্ক্যানারদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ওই সময়ে প্রবেশপথ ও বোর্ড ডাউন স্ক্যানিংয়ে দায়িত্বে থাকা সিকিউরিটি অফিসারদের তলব করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে এবং দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন