অবসর জীবনে স্বস্তি ফেরাতে শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ শুরু
ঢাকা, ১৫ আগস্ট ২০২৬: দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে এককালীন ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে পর্যায়ক্রমে এ অর্থ পাঠানো হচ্ছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষক ও কর্মচারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবসর-পরবর্তী সময়ে তাদের প্রাপ্য সুবিধা যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই অর্থ বরাদ্দের ফলে দীর্ঘদিনের বকেয়া অবসর সুবিধা ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করা হচ্ছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অর্থের সংকট ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে অনেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী তাদের প্রাপ্য অর্থ সময়মতো পাননি। ফলে অবসর জীবনে তাদের অনেকে আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
নতুন এই বরাদ্দকে সেই দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের হাতে দ্রুত অর্থ পৌঁছে দিতে ব্যাংকিং চ্যানেলে সরাসরি অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলার শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে। এর মাধ্যমে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার জন্য অপেক্ষমাণ উপকারভোগীরা তাদের প্রাপ্য অর্থ হাতে পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
শিক্ষা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে তাদের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি পূরণ হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে অবসর ও কল্যাণ সুবিধা প্রদানের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তারা মনে করছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবসর ও কল্যাণ সংক্রান্ত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমের ফলে একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের পাওনা পরিশোধের পথ খুলেছে, অন্যদিকে অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক স্বস্তি ফেরার প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন