ঢাকা   শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
English
ই-পেপার
ইছামতি

সেলিম আল দীনের ৭৭তম জন্মবার্ষিকীতে শিল্পকলায় ‘পুত্র’ নাটক মঞ্চস্থ


অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

সেলিম আল দীনের ৭৭তম জন্মবার্ষিকীতে শিল্পকলায় ‘পুত্র’ নাটক মঞ্চস্থ
ছবি:সংগৃহীত

নাট্যাচার্য, প্রখ্যাত নাট্যকার ও নাট্যতাত্ত্বিক সেলিম আল দীনের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ স্মরণ অনুষ্ঠান, সেমিনার ও নাট্য প্রদর্শনী। শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সেলিম আল দীনের নাট্যচর্চা, দর্শন ও বাংলা নাটকে তাঁর অনন্য অবদান স্মরণ করা হয়।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এবং নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামী। তাঁর বক্তব্যে সেলিম আল দীনের নাট্যভাবনা, দেশীয় সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের মঞ্চনাটকে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বিকেলে জাতীয় নাট্যশালা ভবনের সেমিনার কক্ষে ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্বের পরিধি’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে সেলিম আল দীনের শিল্পভাবনা ও নাট্যতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেন নাট্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা।

মঞ্চে ‘পুত্র’

সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন রচিত আলোচিত নাটক ‘পুত্র’। নাটকটি পরিবেশন করে ঠাকুরগাঁওয়ের নাট্যদল নিশ্চিন্তপুর থিয়েটার। নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন সৈয়দ জাকির হোসেন ইমন।

‘পুত্র’ নাটকের কাহিনিতে উঠে এসেছে সন্তান হারানোর গভীর বেদনা, শোক, স্মৃতি ও মানুষের মানসিক টানাপোড়েন। যমুনাপাড়ের দম্পতি মাইট্টাল সিরাজ ও আবছারের পুত্র মানিক আত্মহত্যা করার পর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাকে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই মাটিতে সমাহিত করা হয় এবং যে আমগাছে সে আত্মহত্যা করেছিল, সেটিও কেটে ফেলা হয়। দুই বছর পর শীতের রাতে উষ্ণতার জন্য সেই গাছের শেকড় তুলে আগুন জ্বালালে দম্পতির মনে আবারও জেগে ওঠে সন্তান হারানোর অসহনীয় বেদনা। একপর্যায়ে তারা পোড়াতে থাকা গাছের শেকড়কেই নিজেদের সন্তান মানিক হিসেবে ভাবতে শুরু করে।

সেলিম আল দীন: বাংলা নাটকের এক অনন্য নাম

সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলা নাটকের নিজস্ব ভাষা, লোকজ ঐতিহ্য ও শেকড়ের সঙ্গে আধুনিক নাট্যচর্চার সমন্বয় ঘটিয়ে একটি স্বতন্ত্র নাট্যধারা নির্মাণ করেন। ‘কীত্তনখোলা’, ‘কেরামতমঙ্গল’, ‘চাকা’, ‘হাত হদাই’, ‘যৈবতী কন্যার মন’, ‘বনপাংশুল’, ‘ধাবমান’, ‘স্বর্ণবোয়াল’ ও ‘পুত্র’সহ অসংখ্য নাটকে তাঁর সৃজনশীলতার অনন্য স্বাক্ষর রয়েছে।

২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর সৃষ্টিশীলতা, নাট্যভাবনা ও বাংলা নাটকের প্রতি তাঁর অবদান আজও দেশের নাট্যাঙ্গনে গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।

সেলিম আল দীনের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শিল্পকলায় আয়োজিত এ স্মরণ অনুষ্ঠান ও ‘পুত্র’ নাটকের প্রদর্শনী তাঁর সৃষ্টিশীল কর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলা নাটকের শেকড় ও নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

ইছামতি

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সেলিম আল দীনের ৭৭তম জন্মবার্ষিকীতে শিল্পকলায় ‘পুত্র’ নাটক মঞ্চস্থ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নাট্যাচার্য, প্রখ্যাত নাট্যকার ও নাট্যতাত্ত্বিক সেলিম আল দীনের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ স্মরণ অনুষ্ঠান, সেমিনার ও নাট্য প্রদর্শনী। শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সেলিম আল দীনের নাট্যচর্চা, দর্শন ও বাংলা নাটকে তাঁর অনন্য অবদান স্মরণ করা হয়।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এবং নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামী। তাঁর বক্তব্যে সেলিম আল দীনের নাট্যভাবনা, দেশীয় সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের মঞ্চনাটকে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বিকেলে জাতীয় নাট্যশালা ভবনের সেমিনার কক্ষে ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্বের পরিধি’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে সেলিম আল দীনের শিল্পভাবনা ও নাট্যতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেন নাট্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা।

মঞ্চে ‘পুত্র’

সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন রচিত আলোচিত নাটক ‘পুত্র’। নাটকটি পরিবেশন করে ঠাকুরগাঁওয়ের নাট্যদল নিশ্চিন্তপুর থিয়েটার। নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন সৈয়দ জাকির হোসেন ইমন।

‘পুত্র’ নাটকের কাহিনিতে উঠে এসেছে সন্তান হারানোর গভীর বেদনা, শোক, স্মৃতি ও মানুষের মানসিক টানাপোড়েন। যমুনাপাড়ের দম্পতি মাইট্টাল সিরাজ ও আবছারের পুত্র মানিক আত্মহত্যা করার পর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাকে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই মাটিতে সমাহিত করা হয় এবং যে আমগাছে সে আত্মহত্যা করেছিল, সেটিও কেটে ফেলা হয়। দুই বছর পর শীতের রাতে উষ্ণতার জন্য সেই গাছের শেকড় তুলে আগুন জ্বালালে দম্পতির মনে আবারও জেগে ওঠে সন্তান হারানোর অসহনীয় বেদনা। একপর্যায়ে তারা পোড়াতে থাকা গাছের শেকড়কেই নিজেদের সন্তান মানিক হিসেবে ভাবতে শুরু করে।

সেলিম আল দীন: বাংলা নাটকের এক অনন্য নাম

সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলা নাটকের নিজস্ব ভাষা, লোকজ ঐতিহ্য ও শেকড়ের সঙ্গে আধুনিক নাট্যচর্চার সমন্বয় ঘটিয়ে একটি স্বতন্ত্র নাট্যধারা নির্মাণ করেন। ‘কীত্তনখোলা’, ‘কেরামতমঙ্গল’, ‘চাকা’, ‘হাত হদাই’, ‘যৈবতী কন্যার মন’, ‘বনপাংশুল’, ‘ধাবমান’, ‘স্বর্ণবোয়াল’ ও ‘পুত্র’সহ অসংখ্য নাটকে তাঁর সৃজনশীলতার অনন্য স্বাক্ষর রয়েছে।

২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর সৃষ্টিশীলতা, নাট্যভাবনা ও বাংলা নাটকের প্রতি তাঁর অবদান আজও দেশের নাট্যাঙ্গনে গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।

সেলিম আল দীনের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শিল্পকলায় আয়োজিত এ স্মরণ অনুষ্ঠান ও ‘পুত্র’ নাটকের প্রদর্শনী তাঁর সৃষ্টিশীল কর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলা নাটকের শেকড় ও নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


ইছামতি

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরমান চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ইছামতি