বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোট কতটা সুষ্ঠু হবে,প্রশ্ন তুললেন নাহিদ ইসলাম
বর্তমান পরিস্থিতি
২৮ অক্টোবর ২০২৬বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনের দলীয়করণ এবং রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ী পৌরসভার রজনীগন্ধা মিলনায়তনে পাঁচ জেলার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ
নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে বলে তাঁরা মনে করছেন না। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় অন্তঃকোন্দলে কয়েক শ মানুষ আহত ও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ এখনো নিশ্চিত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনের দলীয়করণ হয়েছে এবং তা ক্রমাগত বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা করা কঠিন।
নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রস্তাব দেবে ১১ দলীয় জোট
সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এনসিপির এই আহ্বায়ক। তিনি জানান, ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের পরিবেশ উন্নত করা এবং ভোটের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে কমিশনের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব তুলে ধরা হবে।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব প্রস্তাবের ভিত্তিতেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া উচিত।
নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি
স্থানীয় সরকার নির্বাচন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, প্রশাসনের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রস্তাবগুলো কী হবে এবং নির্বাচন কমিশন সেগুলোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন