ঢাকা   বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
English
ই-পেপার
ইছামতী

কালই প্রমাণ হবে নির্বাচন কমিশন মেরুদণ্ড সোজা রাখতে পারে কি না:জামায়াত নেতা



কালই প্রমাণ হবে নির্বাচন কমিশন মেরুদণ্ড সোজা রাখতে পারে কি না:জামায়াত নেতা
ছবি :সংগৃহীত
নির্বাচন কমিশন (ইসি) কতটা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে, তার পরীক্ষা হবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তাঁর ভাষায়, বৃহস্পতিবারের (২৯ অক্টোবর) নির্বাচনেই প্রমাণ হবে নির্বাচন কমিশন ‘কোমর সোজা করে দাঁড়াতে’ পারে কি না।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ, নির্বাচনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ ও উদ্বেগ তুলে ধরা হয়।

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে ভোটের পরিবেশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। জোটটির অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিভিন্ন অনিয়ম ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে তারা।

জোটের নেতাদের মতে, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে দৃশ্যমান ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু আশ্বাস নয়, ভোটের দিন নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায় ১১ দলীয় ঐক্য।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা

বৈঠকে শুধু ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন নয়, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে ১১ দলীয় ঐক্য। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন যেন অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হয়, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জোটটির পক্ষ থেকে নির্বাচন পরিচালনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তাদের আশঙ্কা, নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে জনমনে সংশয় থাকলে ভোটের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

নজর এখন বৃহস্পতিবারের ভোটে

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ভোটের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরিতে কতটা সফল হয়, তা পর্যবেক্ষণ করবে রাজনৈতিক দলগুলো।

১১ দলীয় ঐক্যের বক্তব্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাচন শুধু একটি আসনের ভোট নয়; বরং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও সক্ষমতা প্রমাণেরও গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

এখন দেখার বিষয়, ভোটের দিন নির্বাচন কমিশন কতটা দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন কি না। শেষ পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ, প্রশাসনের ভূমিকা ও নির্বাচন পরিচালনার স্বচ্ছতাই নির্ধারণ করবে এই উপনির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা।

আপনার মতামত লিখুন

ইছামতী

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


কালই প্রমাণ হবে নির্বাচন কমিশন মেরুদণ্ড সোজা রাখতে পারে কি না:জামায়াত নেতা

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
নির্বাচন কমিশন (ইসি) কতটা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে, তার পরীক্ষা হবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তাঁর ভাষায়, বৃহস্পতিবারের (২৯ অক্টোবর) নির্বাচনেই প্রমাণ হবে নির্বাচন কমিশন ‘কোমর সোজা করে দাঁড়াতে’ পারে কি না।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ, নির্বাচনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ ও উদ্বেগ তুলে ধরা হয়।

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে ভোটের পরিবেশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। জোটটির অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিভিন্ন অনিয়ম ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে তারা।

জোটের নেতাদের মতে, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে দৃশ্যমান ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু আশ্বাস নয়, ভোটের দিন নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায় ১১ দলীয় ঐক্য।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা

বৈঠকে শুধু ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন নয়, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে ১১ দলীয় ঐক্য। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন যেন অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হয়, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জোটটির পক্ষ থেকে নির্বাচন পরিচালনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তাদের আশঙ্কা, নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে জনমনে সংশয় থাকলে ভোটের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

নজর এখন বৃহস্পতিবারের ভোটে

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ভোটের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরিতে কতটা সফল হয়, তা পর্যবেক্ষণ করবে রাজনৈতিক দলগুলো।

১১ দলীয় ঐক্যের বক্তব্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাচন শুধু একটি আসনের ভোট নয়; বরং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও সক্ষমতা প্রমাণেরও গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

এখন দেখার বিষয়, ভোটের দিন নির্বাচন কমিশন কতটা দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন কি না। শেষ পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ, প্রশাসনের ভূমিকা ও নির্বাচন পরিচালনার স্বচ্ছতাই নির্ধারণ করবে এই উপনির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা।



ইছামতী

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরমান চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ইছামতী