স্থানীয় নির্বাচনে কারচুপির সুযোগ নয়,সুষ্ঠু ভোটের নিশ্চয়তা দিতে চায় সরকার:মীর শাহে আলম
দেশে অবাধ,সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানিয়েছেন,স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো ধরনের সরকারি বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ থাকবে না।যোগ্য সব প্রার্থী যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন,প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারেন এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন,সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবে।
প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে সামনে রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের প্রত্যাশা,প্রার্থীদের সমান সুযোগ এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট
গত ১৩ অক্টোবর সচিবালয়ে গ্রাম পুলিশের সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন,স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার ও প্রশাসন হস্তক্ষেপ করবে না। নির্বাচন কমিশন যেভাবে দায়িত্ব দেবে, সে অনুযায়ী মাঠপর্যায়ের বেসামরিক প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
তিনি জানান,সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনকে অবাধ,সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে সরকার। এ নির্বাচন নিয়ে সরকার কোনো ধরনের বিতর্ক বা কলঙ্কের দায় নিতে চায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন,পৌরসভা,উপজেলা পরিষদ,ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদ—এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী,চলতি অর্থবছরের মধ্যে এসব নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।নির্বাচন পরিচালনার প্রস্তুতি,প্রশাসনিক সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দলীয় প্রতীক ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হওয়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থানও তুলে ধরেছেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী,আইন অনুযায়ী যোগ্যতা পূরণকারী সব বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।কোনো প্রার্থী যেন নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন এবং নির্বিঘ্নে প্রচার চালাতে পারেন,তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হবে নির্বাচনী বিধি অনুসরণ করে ভোট পরিচালনা করা।অন্যদিকে সরকারের দায়িত্ব থাকবে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া এবং নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা করা।
ভোটারদের প্রত্যাশা নিরপেক্ষ নির্বাচন
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও নাগরিক সেবার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে পৌরসভা,উপজেলা,জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের জনপ্রতিনিধিরা স্থানীয় উন্নয়ন,অবকাঠামো,নাগরিক সেবা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তাই এসব নির্বাচনে ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ, প্রার্থীদের সমান প্রচার-প্রচারণার পরিবেশ এবং ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই হবে বড় পরীক্ষা
অবাধ,সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন,প্রশাসনের নিরপেক্ষতা,আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোটারদের নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণের ওপর।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের ঘোষিত অবস্থান বাস্তবায়িত হলে ভোটারদের আস্থা বাড়তে পারে এবং স্থানীয় পর্যায়ে গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে চূড়ান্ত মূল্যায়ন নির্ভর করবে নির্বাচনের মাঠে সব প্রার্থীর সমান সুযোগ,ভোটের পরিবেশ এবং ফলাফল নিয়ে জনমতের ওপর।
সব মিলিয়ে,স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক করতে সরকারের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা এখন গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার মতামত লিখুন