ঢাকা   মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
English
ই-পেপার
ইছামতী

সাড়ে চার ঘণ্টায় প্রধানমন্ত্রীর ১৩ স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন,পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান উন্নয়নে কঠোর নির্দেশ



সাড়ে চার ঘণ্টায় প্রধানমন্ত্রীর ১৩ স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন,পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান উন্নয়নে কঠোর নির্দেশ
ছবি:সংগৃহীত

রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা এবং ফুটপাতের সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩টি স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে শুরু হওয়া এই পরিদর্শন চলে দুপুর ১টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত। এ সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসাসেবার মান, নাগরিক সুবিধা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে বিভিন্ন স্থানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনাগত ঘাটতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

দিনের কর্মসূচির শুরুতে প্রধানমন্ত্রী উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দেন তিনি। এরপর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ পরিদর্শন করেন।

পরবর্তী সময়ে তিনি মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার এবং সরকারি বাংলা কলেজ ঘুরে দেখেন। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট সেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন তিনি। হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনের সময় একটি কক্ষে ধূমপানের ঘটনা নজরে আসে প্রধানমন্ত্রীর। হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে তাকে ধূমপান করতে দেখেন তিনি। একই সঙ্গে কক্ষটি অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে জানানো হয়েছে।

হাসপাতালের মতো জনস্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনার মধ্য দিয়ে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

পরিদর্শন কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী যান নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।

এ সময় পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং পরিবেশ রক্ষায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর দেশ গঠনে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এ ছাড়া ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ও পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে দেখার মাধ্যমে শিক্ষার উপযোগী পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার, কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার এবং আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার পরিদর্শন করেন। আবাসিক এলাকাগুলোর পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকালে বিভিন্ন ঘাটতি তার নজরে আসে।

আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টারের পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের সময় দেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারি আবাসিক এলাকায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং নাগরিকদের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন কর্মসূচিতে ছিল মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার হকারমুক্ত ফুটপাতও। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।

নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাতের ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং পথচারীদের চলাচলের উপযোগী পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টি এ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে সামনে আসে।

সাড়ে চার ঘণ্টার এই আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। বিভিন্ন স্থানের বাস্তব পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।

পরিদর্শনের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি আবাসিক এলাকার পরিচ্ছন্নতা এবং নগরীর ফুটপাত ব্যবস্থাপনা।

বিভিন্ন স্থানে ঘাটতি চিহ্নিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিন থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় দেওয়ার ঘটনা থেকে বোঝা যায়, সমস্যা সমাধানে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নাগরিক সেবার মান উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই আকস্মিক পরিদর্শন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান যাচাইয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিকেও সামনে এনেছে।

আপনার মতামত লিখুন

ইছামতী

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


সাড়ে চার ঘণ্টায় প্রধানমন্ত্রীর ১৩ স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন,পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান উন্নয়নে কঠোর নির্দেশ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা এবং ফুটপাতের সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩টি স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে শুরু হওয়া এই পরিদর্শন চলে দুপুর ১টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত। এ সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসাসেবার মান, নাগরিক সুবিধা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে বিভিন্ন স্থানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনাগত ঘাটতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

দিনের কর্মসূচির শুরুতে প্রধানমন্ত্রী উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দেন তিনি। এরপর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ পরিদর্শন করেন।

পরবর্তী সময়ে তিনি মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার এবং সরকারি বাংলা কলেজ ঘুরে দেখেন। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট সেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন তিনি। হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনের সময় একটি কক্ষে ধূমপানের ঘটনা নজরে আসে প্রধানমন্ত্রীর। হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে তাকে ধূমপান করতে দেখেন তিনি। একই সঙ্গে কক্ষটি অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে জানানো হয়েছে।

হাসপাতালের মতো জনস্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনার মধ্য দিয়ে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

পরিদর্শন কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী যান নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।

এ সময় পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং পরিবেশ রক্ষায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর দেশ গঠনে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এ ছাড়া ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ও পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে দেখার মাধ্যমে শিক্ষার উপযোগী পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার, কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার এবং আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার পরিদর্শন করেন। আবাসিক এলাকাগুলোর পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকালে বিভিন্ন ঘাটতি তার নজরে আসে।

আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টারের পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের সময় দেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারি আবাসিক এলাকায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং নাগরিকদের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন কর্মসূচিতে ছিল মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার হকারমুক্ত ফুটপাতও। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।

নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাতের ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং পথচারীদের চলাচলের উপযোগী পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টি এ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে সামনে আসে।

সাড়ে চার ঘণ্টার এই আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। বিভিন্ন স্থানের বাস্তব পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।

পরিদর্শনের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি আবাসিক এলাকার পরিচ্ছন্নতা এবং নগরীর ফুটপাত ব্যবস্থাপনা।

বিভিন্ন স্থানে ঘাটতি চিহ্নিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিন থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় দেওয়ার ঘটনা থেকে বোঝা যায়, সমস্যা সমাধানে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নাগরিক সেবার মান উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই আকস্মিক পরিদর্শন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান যাচাইয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিকেও সামনে এনেছে।



ইছামতী

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরমান চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ইছামতী