ঢাকা   বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
English
ই-পেপার
ইছামতী

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে নতুন সমীকরণ,সংসদীয় বৈঠকে গুরুত্ব পেল গুমের বিচার



তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে নতুন সমীকরণ,সংসদীয় বৈঠকে গুরুত্ব পেল গুমের বিচার
ছবি:সংগৃহীত

সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। তবে এ সরকার কীভাবে গঠিত হবে, এর ক্ষমতা ও কার্যপরিধি কী হবে এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া কেমন হবে, তা নিয়ে আরও পর্যালোচনা চলছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব পাওয়া গেছে। আইনজীবী, বিচারপতি, সম্পাদকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গুম প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি

বৈঠকে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তাঁরা নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, মামলার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং পুনর্বাসনের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুম প্রতিরোধে সংবিধানে নতুন করে কিছু যুক্ত করার প্রয়োজন নেই বলে তিনি মনে করেন। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকারের স্বীকৃতি রয়েছে এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য আইনও করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে কেউ যেন গুমের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা ও জবাবদিহি জরুরি।

তিনি আরও জানান, গুমের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আইনে বিধান রয়েছে। আদালতের নির্দেশে দায়ী ব্যক্তিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে বিক্রির মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব না হলে আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার বিধান রয়েছে।

ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার সুরক্ষায় গুরুত্ব

বৈঠকে গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে যেন আর কখনো গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সরকার কাজ করতে চায়। মানবাধিকার সুরক্ষা এবং প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির এসব আলোচনা ও প্রস্তাব পরবর্তী সময়ে কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা সংশ্লিষ্ট সংসদীয় প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।


আপনার মতামত লিখুন

ইছামতী

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে নতুন সমীকরণ,সংসদীয় বৈঠকে গুরুত্ব পেল গুমের বিচার

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। তবে এ সরকার কীভাবে গঠিত হবে, এর ক্ষমতা ও কার্যপরিধি কী হবে এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া কেমন হবে, তা নিয়ে আরও পর্যালোচনা চলছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব পাওয়া গেছে। আইনজীবী, বিচারপতি, সম্পাদকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গুম প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি

বৈঠকে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তাঁরা নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, মামলার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং পুনর্বাসনের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুম প্রতিরোধে সংবিধানে নতুন করে কিছু যুক্ত করার প্রয়োজন নেই বলে তিনি মনে করেন। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকারের স্বীকৃতি রয়েছে এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য আইনও করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে কেউ যেন গুমের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা ও জবাবদিহি জরুরি।

তিনি আরও জানান, গুমের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আইনে বিধান রয়েছে। আদালতের নির্দেশে দায়ী ব্যক্তিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে বিক্রির মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব না হলে আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার বিধান রয়েছে।

ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার সুরক্ষায় গুরুত্ব

বৈঠকে গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে যেন আর কখনো গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সরকার কাজ করতে চায়। মানবাধিকার সুরক্ষা এবং প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির এসব আলোচনা ও প্রস্তাব পরবর্তী সময়ে কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা সংশ্লিষ্ট সংসদীয় প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।




ইছামতী

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরমান চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ইছামতী