৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবিতে আবারও মিরপুর অবরোধ,তীব্র যানজটে ভোগান্তি
রাজধানীর মিরপুরে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আবারও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে এ কর্মসূচি শুরু করেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সড়কে শ্রমিকেরা
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পোশাক কারখানার কয়েক শ শ্রমিক মাসিক ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তাঁদের অবস্থানের কারণে ওই এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পল্লবী ট্রাফিক জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাজিয়া আফরোজ শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কারখানাগুলোর নাম তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।
মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানান, শ্রমিকেরা ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
যানজটে দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ
মিরপুর-১০ রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত যোগাযোগকেন্দ্র। এই এলাকায় সড়ক অবরোধের ফলে আশপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, যাত্রী ও গণপরিবহনে চলাচলকারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
মিরপুর ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় যাত্রীদের বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবি কেন?
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও যাতায়াত ব্যয়ের চাপের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন বাড়ানোর দাবি নতুন করে সামনে এসেছে। শ্রমিকদের এবারের কর্মসূচির মূল দাবি মাসিক ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ।
এর আগে চলতি মাসে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন পুনর্নির্ধারণের দাবিতে বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনের খবর প্রকাশিত হয়েছে। পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্বিবেচনার জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
তবে মিরপুরের আজকের আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব কারখানার শ্রমিকদের বর্তমান বেতন, তাঁদের সুনির্দিষ্ট দাবির অন্যান্য বিষয় এবং কারখানার মালিকপক্ষের অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সমাধানের অপেক্ষায় শ্রমিকদের দাবি
শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবি এবং রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলছে।
তবে শ্রমিকদের দাবি নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, অবরোধ কখন প্রত্যাহার করা হবে কিংবা সরকার এ বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না—তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন