ঢাকা   শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
English
ই-পেপার
ইছামতী

চার দফা দাবিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের যৌথ সমাবেশ |চাঁদাবাজি,দখলদারত্ব,সন্ত্রাস ও সিন্ডিকেটমুক্ত নগরীর প্রত্যাশা

শাহবাগে এনসিপির বিক্ষোভ,দুই মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজধানী



শাহবাগে এনসিপির বিক্ষোভ,দুই মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজধানী
ছবি:সংগৃহীত
ঢাকা, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ চার দফা দাবি আদায়ে রাজধানীর শাহবাগে গণবিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এনসিপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলটির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে শাহবাগ এলাকায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বক্তারা স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান। একই সঙ্গে রাজধানীসহ সারা দেশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব, অনিয়ম ও বিভিন্ন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তাঁরা।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন দলটির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। এ ছাড়া  সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ,সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম,সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুমসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

চার দফা দাবিতে রাজপথে এনসিপি

সমাবেশ থেকে উত্থাপিত চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—

১. সার্বিক ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ।

২. একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের গণরায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন।

৩. মানবাধিকার ও বাক্‌স্বাধীনতাবিরোধী সব ধরনের আইন বাতিল এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী পাস না করা।

৪. জুলাই গণহত্যার বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে আদালতের রায় অবিলম্বে কার্যকর করা।

সরকারের সমালোচনায় নাহিদ ইসলাম

সমাবেশে নাহিদ ইসলাম সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট ও সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে তাঁদের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। দাবি আদায়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এনসিপির এই নেতা।

দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি সংকট নিয়ে আখতার হোসেনের বক্তব্য

সমাবেশে আখতার হোসেন দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। জ্বালানি খাতের সংকট ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

সন্ত্রাস,চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

বক্তারা বলেন, রাজধানীর সাধারণ মানুষকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব, ফুটপাত দখল এবং বিভিন্ন সিন্ডিকেটের প্রভাব থেকে মুক্ত করতে হবে। নগরবাসীর নিরাপত্তা, স্বাভাবিক জীবনযাপন, ন্যায্য অধিকার ও জনবান্ধব নগরব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

তাঁদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যেন সাধারণ মানুষের ওপর অন্যায়-অত্যাচার চালাতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

নগরবাসীর প্রত্যাশা—সন্ত্রাস ও সিন্ডিকেটমুক্ত ঢাকা

সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য ও স্লোগানে উঠে আসে একটি নিরাপদ, বাসযোগ্য ও চাঁদাবাজমুক্ত রাজধানী গড়ার প্রত্যাশা। তাঁদের আশা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব ও সিন্ডিকেটের কবল থেকে অচিরেই নগরবাসী মুক্তি পাবেন।

এনসিপি নেতারা দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাঁদের প্রত্যাশা, জনগণের ন্যায্য দাবি ও গণআকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সন্ত্রাস,চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটমুক্ত নিরাপদ ঢাকা গড়ার প্রত্যাশায় সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বলেন—জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক, নগরবাসীর মুক্তি আসুক।

আপনার মতামত লিখুন

ইছামতী

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


শাহবাগে এনসিপির বিক্ষোভ,দুই মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজধানী

প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
ঢাকা, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ চার দফা দাবি আদায়ে রাজধানীর শাহবাগে গণবিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এনসিপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলটির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে শাহবাগ এলাকায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বক্তারা স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান। একই সঙ্গে রাজধানীসহ সারা দেশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব, অনিয়ম ও বিভিন্ন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তাঁরা।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন দলটির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। এ ছাড়া  সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ,সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম,সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুমসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

চার দফা দাবিতে রাজপথে এনসিপি

সমাবেশ থেকে উত্থাপিত চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—

১. সার্বিক ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ।

২. একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের গণরায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন।

৩. মানবাধিকার ও বাক্‌স্বাধীনতাবিরোধী সব ধরনের আইন বাতিল এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী পাস না করা।

৪. জুলাই গণহত্যার বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে আদালতের রায় অবিলম্বে কার্যকর করা।

সরকারের সমালোচনায় নাহিদ ইসলাম

সমাবেশে নাহিদ ইসলাম সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট ও সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে তাঁদের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। দাবি আদায়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এনসিপির এই নেতা।

দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি সংকট নিয়ে আখতার হোসেনের বক্তব্য

সমাবেশে আখতার হোসেন দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। জ্বালানি খাতের সংকট ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

সন্ত্রাস,চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

বক্তারা বলেন, রাজধানীর সাধারণ মানুষকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব, ফুটপাত দখল এবং বিভিন্ন সিন্ডিকেটের প্রভাব থেকে মুক্ত করতে হবে। নগরবাসীর নিরাপত্তা, স্বাভাবিক জীবনযাপন, ন্যায্য অধিকার ও জনবান্ধব নগরব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

তাঁদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যেন সাধারণ মানুষের ওপর অন্যায়-অত্যাচার চালাতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

নগরবাসীর প্রত্যাশা—সন্ত্রাস ও সিন্ডিকেটমুক্ত ঢাকা

সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য ও স্লোগানে উঠে আসে একটি নিরাপদ, বাসযোগ্য ও চাঁদাবাজমুক্ত রাজধানী গড়ার প্রত্যাশা। তাঁদের আশা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব ও সিন্ডিকেটের কবল থেকে অচিরেই নগরবাসী মুক্তি পাবেন।

এনসিপি নেতারা দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাঁদের প্রত্যাশা, জনগণের ন্যায্য দাবি ও গণআকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সন্ত্রাস,চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটমুক্ত নিরাপদ ঢাকা গড়ার প্রত্যাশায় সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বলেন—জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক, নগরবাসীর মুক্তি আসুক।



ইছামতী

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরমান চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ইছামতী