ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন ও চূড়ান্তে শ্রম মন্ত্রণালয়ের তৎপরতা
পোশাক শিল্পের (আরএমজি) শ্রমিকদের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া জোরদার করেছে সরকার। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের গঠন করা নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নতুন করে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
‘বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬’ (সংশোধিত ২০২৬)-এর ১৩৮ ধারার ক্ষমতাবলে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পোশাক শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের সদস্যদের নাম উল্লেখ করে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
মজুরি বোর্ডে নিরপেক্ষ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিনিধিদের যুক্ত করা হয়েছে:
নিরপেক্ষ সদস্য: ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদ (অধ্যাপক, লোকপ্রশাসন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)।
মালিকপক্ষের প্রতিনিধি:
আসিফ আইয়ুব (যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন) এবং এ বি এম সামছুদ্দিন (পরিচালক, বিজিএমইএ)। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি: আনোয়ার হোসাইন (সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল) এবং বাবুল আখতার (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশন)।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকা ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলগুলোতে পোশাকশ্রমিকরা ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন ও বিক্ষোভ পরিচালনা করে আসছিল।
মজুরি নির্ধারণের পরবর্তী ধাপসমূহ
| ধাপ | বিষয়বস্তু | সম্ভাব্য সময়সীমা |
| ১. প্রারম্ভিক বৈঠক | বোর্ড সদস্য, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের প্রথম আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা সভা। | চালু রয়েছে |
| ২. প্রস্তাব পেশ | মালিক ও শ্রমিক পক্ষ কর্তৃক আলাদা মজুরি প্রস্তাবনা জমা। | আগামী ২ সপ্তাহ |
| ৩. খসড়া ও গেজেট প্রকাশ | পর্যালোচনার ভিত্তিতে বোর্ডের প্রস্তাবিত ন্যূনতম মজুরির খসড়া গেজেট প্রকাশ। | নভেম্বর ২০২৬ |
| ৪. চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত | আপত্তি বা সংশোধন সম্পন্ন করে চূড়ান্ত বেতন কাঠামো ঘোষণা। | ডিসেম্বর ২০২৬ |
বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাক খাতে উৎপাদনশীলতা ও কারখানা পরিবেশ ঠিক রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্য একটি নতুন মজুরি কাঠামো উপহার দেওয়াই নতুন বোর্ডের মূল উদ্দেশ্য।
আপনার মতামত লিখুন