মোংলায় দুই দেশের বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্প খাতে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা
বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ এবং চীনের অবকাঠামো নির্মাণ খাতের প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিআরসিসি)। এতে বাংলাদেশের পক্ষে ইনভেস্ট বাংলাদেশের শিল্পাঞ্চল বিভাগের সদস্য সালেহ আহমেদ এবং চীনের পক্ষে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান লি চংইয়াং স্বাক্ষর করেন।
এ সময় ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেনসহ বাংলাদেশ ও চীনের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবহন, বন্দর ও লজিস্টিকস, শিল্পায়ন, জ্বালানি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, যৌথ উদ্যোগে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার করার পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনা প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর মোংলা সফরসূচিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কর্মসূচি রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মোংলা বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের এ উদ্যোগ দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, পরিবহন ও লজিস্টিকস ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত এ সমঝোতা স্মারক দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন