চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই সেনাবাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে। রক্ষীবাহিনীকে সামনে রেখে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল মূলত সেনাবাহিনী ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত বিপ্লব। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য আধিপত্যবাদী শক্তি সব সময়ই হুমকিস্বরূপ। তাদের ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে। তাই জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশপ্রেমিক জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, যারা চাঁদাবাজি ও দখলবাজির সঙ্গে জড়িত, তারাই আবার ৭ নভেম্বরের চেতনায় বিশ্বাসী বলে দাবি করেন। অথচ হাজার হাজার মানুষের আত্মত্যাগ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যর্থ হতে পারে না। ৭ নভেম্বরের প্রকৃত চেতনা হচ্ছে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। এই চেতনাকে ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বর্তমান সরকারের এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনীয় বিষয়ে গণভোটের আয়োজন করতে হবে, যাতে জনগণই তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সংবিধানের বিষয়ে মতামত প্রকাশের সুযোগ পায়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মুহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুছ ও মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন মহানগরী জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়রপ্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান এবং চট্টগ্রাম-১১ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শফিউল আলম।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ রেখে একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণের রায় অস্বীকার, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা, ১৯৭৩ সালের নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ এবং ১৯৭৫ সালের একদলীয় বাকশালী শাসনের মধ্য দিয়ে দেশ এক সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল। এমন প্রেক্ষাপটে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্য দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরের পাল্টা অভ্যুত্থানের পর ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে কর্নেল তাহেরসহ বিভিন্ন পক্ষের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় এবং জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। সেদিন সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও স্বকীয়তার প্রশ্নটি বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে। বর্তমান সময়েও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরী জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিদ্দিকুর রহমান, অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন ও অধ্যাপক মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, কোতোয়ালী থানা আমীর আমির হোসাইন, বন্দর থানা আমীর মাহমুদুল আলম, ডবলমুরিং থানা আমীর ফারুকে আজমসহ মহানগরী ও বিভিন্ন থানা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সভায় বক্তারা জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতান্ত্রিক অধিকার ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই সেনাবাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে। রক্ষীবাহিনীকে সামনে রেখে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল মূলত সেনাবাহিনী ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত বিপ্লব। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য আধিপত্যবাদী শক্তি সব সময়ই হুমকিস্বরূপ। তাদের ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে। তাই জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশপ্রেমিক জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, যারা চাঁদাবাজি ও দখলবাজির সঙ্গে জড়িত, তারাই আবার ৭ নভেম্বরের চেতনায় বিশ্বাসী বলে দাবি করেন। অথচ হাজার হাজার মানুষের আত্মত্যাগ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যর্থ হতে পারে না। ৭ নভেম্বরের প্রকৃত চেতনা হচ্ছে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। এই চেতনাকে ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বর্তমান সরকারের এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনীয় বিষয়ে গণভোটের আয়োজন করতে হবে, যাতে জনগণই তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সংবিধানের বিষয়ে মতামত প্রকাশের সুযোগ পায়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মুহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুছ ও মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন মহানগরী জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়রপ্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান এবং চট্টগ্রাম-১১ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শফিউল আলম।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ রেখে একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণের রায় অস্বীকার, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা, ১৯৭৩ সালের নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ এবং ১৯৭৫ সালের একদলীয় বাকশালী শাসনের মধ্য দিয়ে দেশ এক সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল। এমন প্রেক্ষাপটে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্য দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরের পাল্টা অভ্যুত্থানের পর ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে কর্নেল তাহেরসহ বিভিন্ন পক্ষের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় এবং জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। সেদিন সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও স্বকীয়তার প্রশ্নটি বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে। বর্তমান সময়েও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরী জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিদ্দিকুর রহমান, অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন ও অধ্যাপক মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, কোতোয়ালী থানা আমীর আমির হোসাইন, বন্দর থানা আমীর মাহমুদুল আলম, ডবলমুরিং থানা আমীর ফারুকে আজমসহ মহানগরী ও বিভিন্ন থানা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সভায় বক্তারা জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতান্ত্রিক অধিকার ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আপনার মতামত লিখুন