১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সংঘটিত সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের অরক্ষিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছিল। জাতির এক সংকটময় মুহূর্তে সিপাহী-জনতা জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে দেশের নেতৃত্বের দায়িত্ব অর্পণ করেছিল।
শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) রাতে অফিসার্স ক্লাব ঢাকা আয়োজিত ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করলেও স্বাধীনতার পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। একদলীয় শাসনব্যবস্থা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নানা অনিয়মের কারণে সমাজ ও রাষ্ট্রে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ব্যক্তিগত ক্ষমতালিপ্সা কিংবা নিজের উদ্যোগে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ঘটাননি। বরং জাতীয় প্রয়োজনে দেশের মানুষই তাঁকে নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত করেছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী চেতনা ও জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ৭ নভেম্বর কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একক সম্পত্তি নয়; এটি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ সর্বস্তরের মানুষের ঐতিহাসিক অর্জন। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী যেটিকে সিপাহী বিদ্রোহ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল, সেটি মূলত উপমহাদেশের প্রথম স্বাধীনতাযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই আন্দোলন ব্যর্থ হলেও ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব সফল হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো গণঅভ্যুত্থান বা রাজনৈতিক পরিবর্তন একদিনে সৃষ্টি হয় না। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ, রক্ত, গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের অর্জন কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির একক সম্পদ নয়। এর চেতনা ও অর্জন সমগ্র জাতির। তাই এই ঐতিহাসিক অর্জনের মালিকানা নিয়ে বিভাজন সৃষ্টি না করে জাতীয় ঐক্যকে প্রাধান্য দিতে হবে।
সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও ভূমিকা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব, প্রলোভন ও ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত নির্বাচিত সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে তাঁদের নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীদের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হচ্ছে বেআইনি আদেশ অমান্য করা এবং নিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করা। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সময়ে সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব যথাযথভাবে সম্পাদন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের অতীত কর্মজীবনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সিভিল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক অংশীদার এবং প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি নিজেকে এই পরিবারেরই একজন মনে করেন। অতীতে রাজনৈতিক চাপ, প্রলোভন কিংবা ভীতির কারণে সিভিল সার্ভিসের একটি অংশ ভোটারবিহীন ও রাতের আঁধারে নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এর চরম মূল্য দিতে হয়েছে সিভিল প্রশাসনকে।
ভবিষ্যতে যেন কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করা কিংবা একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে প্রশাসনকে ব্যবহার করা না হয়, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে অতীতের কলঙ্কজনক ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, পেশাদারত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসকরা (ডেপুটি কমিশনার) মাঠপর্যায়ে রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধানের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তাঁদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যাপক। এ কারণে প্রত্যেক কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগত আচরণ, পেশাগত দক্ষতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে হবে।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পর জনগণ যাঁদের ওপর আস্থা ও ম্যান্ডেট প্রদান করবে, তাঁদের হাতেই শান্তিপূর্ণভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে। ক্ষমতার পরিবর্তন গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ও অপরিহার্য প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম প্রধান শর্ত।
অফিসার্স ক্লাব ঢাকার সভাপতি ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও অফিসার্স ক্লাব ঢাকার সাধারণ সম্পাদক এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অফিসার্স ক্লাব ঢাকার ট্রেজারার ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক সচিব ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সাবেক নির্বাহী পরিচালক মসিউর রহমান, সাবেক সচিব এস এম জহিরুল ইসলাম এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সচিব মাসুদ আলমগীর হোসেন (নোবেল)। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন অফিসার্স ক্লাব ঢাকার সহসভাপতি এম এ রাজেক।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করা হয়। এরপর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন উপস্থিত অতিথিরা।
এ উপলক্ষ্যে নির্মিত একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে বক্তারা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সংঘটিত সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের অরক্ষিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছিল। জাতির এক সংকটময় মুহূর্তে সিপাহী-জনতা জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে দেশের নেতৃত্বের দায়িত্ব অর্পণ করেছিল।
শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) রাতে অফিসার্স ক্লাব ঢাকা আয়োজিত ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করলেও স্বাধীনতার পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। একদলীয় শাসনব্যবস্থা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নানা অনিয়মের কারণে সমাজ ও রাষ্ট্রে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ব্যক্তিগত ক্ষমতালিপ্সা কিংবা নিজের উদ্যোগে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ঘটাননি। বরং জাতীয় প্রয়োজনে দেশের মানুষই তাঁকে নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত করেছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী চেতনা ও জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ৭ নভেম্বর কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একক সম্পত্তি নয়; এটি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ সর্বস্তরের মানুষের ঐতিহাসিক অর্জন। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী যেটিকে সিপাহী বিদ্রোহ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল, সেটি মূলত উপমহাদেশের প্রথম স্বাধীনতাযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই আন্দোলন ব্যর্থ হলেও ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব সফল হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো গণঅভ্যুত্থান বা রাজনৈতিক পরিবর্তন একদিনে সৃষ্টি হয় না। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ, রক্ত, গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের অর্জন কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির একক সম্পদ নয়। এর চেতনা ও অর্জন সমগ্র জাতির। তাই এই ঐতিহাসিক অর্জনের মালিকানা নিয়ে বিভাজন সৃষ্টি না করে জাতীয় ঐক্যকে প্রাধান্য দিতে হবে।
সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও ভূমিকা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব, প্রলোভন ও ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত নির্বাচিত সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে তাঁদের নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীদের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হচ্ছে বেআইনি আদেশ অমান্য করা এবং নিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করা। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সময়ে সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব যথাযথভাবে সম্পাদন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের অতীত কর্মজীবনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সিভিল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক অংশীদার এবং প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি নিজেকে এই পরিবারেরই একজন মনে করেন। অতীতে রাজনৈতিক চাপ, প্রলোভন কিংবা ভীতির কারণে সিভিল সার্ভিসের একটি অংশ ভোটারবিহীন ও রাতের আঁধারে নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এর চরম মূল্য দিতে হয়েছে সিভিল প্রশাসনকে।
ভবিষ্যতে যেন কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করা কিংবা একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে প্রশাসনকে ব্যবহার করা না হয়, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে অতীতের কলঙ্কজনক ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, পেশাদারত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসকরা (ডেপুটি কমিশনার) মাঠপর্যায়ে রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধানের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তাঁদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যাপক। এ কারণে প্রত্যেক কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগত আচরণ, পেশাগত দক্ষতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে হবে।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পর জনগণ যাঁদের ওপর আস্থা ও ম্যান্ডেট প্রদান করবে, তাঁদের হাতেই শান্তিপূর্ণভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে। ক্ষমতার পরিবর্তন গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ও অপরিহার্য প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম প্রধান শর্ত।
অফিসার্স ক্লাব ঢাকার সভাপতি ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও অফিসার্স ক্লাব ঢাকার সাধারণ সম্পাদক এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অফিসার্স ক্লাব ঢাকার ট্রেজারার ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক সচিব ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সাবেক নির্বাহী পরিচালক মসিউর রহমান, সাবেক সচিব এস এম জহিরুল ইসলাম এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সচিব মাসুদ আলমগীর হোসেন (নোবেল)। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন অফিসার্স ক্লাব ঢাকার সহসভাপতি এম এ রাজেক।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করা হয়। এরপর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন উপস্থিত অতিথিরা।
এ উপলক্ষ্যে নির্মিত একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে বক্তারা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।

আপনার মতামত লিখুন