ইরান প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা পর্যন্ত জব্দ সম্পদ ছাড় নয়: যুক্তরাষ্ট্র
ইরান তার পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত তাদের কোনো ধরনের জব্দ করা সম্পদ ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস (Axios) এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের চলমান ও উদীয়মান কূটনৈতিক সমঝোতাটি মূলত ‘কাজের বিনিময়ে সুবিধা’ (Payment for Performance) এবং পারস্পরিক দায়বদ্ধতা ও দায়িত্ব পালনের কঠোর নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠছে।
অ্যাক্সিওসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির রূপরেখা অত্যন্ত স্পষ্ট। ইরান যতক্ষণ না পর্যন্ত চুক্তির অধীনে দেওয়া নিজেদের প্রতিশ্রুতিগুলো দৃশ্যমান ও যাচাইযোগ্য উপায়ে বাস্তবায়ন করছে, ততক্ষণ দেশটির জন্য স্থগিত রাখা কোনো সম্পদ বা অন্য কোনো অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা উন্মুক্ত করবে না ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্কিন প্রশাসনের ওই শীর্ষ কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেছেন যে, কোনো ধরনের অগ্রিম সুবিধা বা প্রণোদনা ইরানকে দেওয়া হবে না। যেকোনো ধরনের ছাড় কেবল তখনই কার্যকর হবে, যখন আন্তর্জাতিকভাবে এবং নিরপেক্ষ উপায়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে ইরান চুক্তি পুরোপুরি মেনে চলছে। ওয়াশিংটনের এই কড়া অবস্থান তেহরানের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা ব্যবসায়িক দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস (Financial Times) তাদের এক প্রতিবেদনে এই সমঝোতার দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্য নিয়ে আলোকপাত করেছে। পত্রিকাটির দাবি, মার্কিন কর্মকর্তারা বর্তমানের এই অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতাকে একটি কৌশলগত পথ বা সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
মার্কিন প্রশাসনের আশা, এই সমঝোতার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হবে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনা এবং শেষ পর্যন্ত তা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করা।
বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউসের এই 'কাজের বিনিময়ে সুবিধা' নীতি মূলত ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ বজায় রাখার কৌশলেরই অংশ। একদিকে সম্পদ আটকে রেখে ইরানকে অর্থনৈতিক চাপে রাখা, অন্যদিকে আলোচনার টেবিল খোলা রেখে পারমাণবিক কর্মসূচির লাগাম টেনে ধরা—এই দ্বিমুখী নীতিতে এগোচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটনের এই কঠোর শর্ত মেনে তেহরান তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কতটা ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
আপনার মতামত লিখুন