বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও জোরদারে অঙ্গীকার,ঢাকা ছাড়লেন লিউ হাইশিং
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
তিন দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে ঢাকা ছেড়েছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি চীনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।
এ সময় চীনা প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় লিউ হাইশিংয়ের সম্মানে প্রাতরাশ বৈঠকের আয়োজন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারত্ব আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে উভয় পক্ষ নতুন যুগে ‘বাংলাদেশ-চীন অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়’ গড়ে তোলার কাঠামোর আওতায় দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
এ সময় দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও দলীয় পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগব্যবস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গত জুনে চীন সফরের ইতিবাচক ফলাফল নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন উভয় পক্ষ। বৈঠকে লিউ হাইশিং তাঁর বাবা এবং বাংলাদেশের সাবেক চীনা রাষ্ট্রদূত লিউ শুচিংয়ের অবদানের কথা স্মরণ করেন। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর বাবার ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
চীনের পররাষ্ট্রনীতিতে সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে লিউ হাইশিং দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে তাঁর দপ্তরের পক্ষ থেকে নিরলসভাবে কাজ করার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে চীনের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন লিউ হাইশিং। বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, রোহিঙ্গা সংকট এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে লিউ হাইশিং বিষয়টি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দেন।
একই দিন তিনি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ ছাড়া রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘হোয়্যার হিস্ট্রি ইলুমিনেটস দ্য ফিউচার: চায়না-বাংলাদেশ পলিটিক্যাল পার্টিজ প্লাস’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশ-চীন সেন্টার ফর পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজের উদ্বোধনী আয়োজনও অনুষ্ঠিত হয়।
সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার সকালে শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি জীবিকাসহায়তা বিতরণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন চীনা প্রতিনিধিদলের প্রধান।
উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান লিউ হাইশিং। তাঁর এই তিন দিনের সফরে বাংলাদেশ সরকার, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সফরটি বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন