পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তাল শিল্পাঞ্চল: অন্তত ৮০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা
পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি বৃদ্ধি করে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, অযৌক্তিক 'ব্ল্যাকলিস্টিং' (কালো তালিকাভুক্তকরণ) বন্ধ এবং ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পুনর্বাসনের দাবিতে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে তীব্র শ্রমিক অসন্তোষ ও বিক্ষোভ চলছে।
শ্রমিকদের প্রধান ক্ষোভ ও দাবির বিষয়গুলো হলো:
ন্যূনতম মজুরি:
তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন অবিলম্বে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। শ্রমিকদের ভাষ্যমতে, বর্তমান বাজারে যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, তাতে এই বেতনের নিচে সংসার চালানো সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ব্ল্যাকলিস্টিং ও হয়রানি বন্ধ:
অতীতে বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে শ্রমিকদের যে অবৈধ ও অযৌক্তিক 'ব্ল্যাকলিস্ট' করা হয়, তা চিরতরে বন্ধ করতে হবে। পুনর্বাসন: বিনা কারণে বা অতীতে চাকরিচ্যুত ও ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের দ্রুত স্ব স্ব কর্মস্থলে পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।
সাভার ও আশুলিয়া: নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর, জামগড়া ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করেন এবং সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালান।
অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও হামলা এড়াতে শারমিন গ্রুপ, হা-মীম গ্রুপ, নিউএজ গ্রুপ ও আল-মুসলিম অ্যাপারেলসসহ সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলের প্রায় ৫০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ সময় আশুলিয়ার একটি এলাকা থেকে কয়েকটি ককটেল বা হাতবোমাসদৃশ বস্তুও উদ্ধার করেছে পুলিশ। গাজীপুর ও কালিয়াকৈর:
কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর ও মৌচাক এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকায় একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গোডাউন এবং একটি পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার অন্তত ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। কোনাবাড়ী এলাকায় একটি পুলিশ বক্সেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। রাজধানীর মিরপুর:
মিরপুর এলাকাতেও শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। এর ফলে রাজধানীর অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং তীব্র জনদুভোগের সৃষ্টি হয়।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক এবং আশুলিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্পাঞ্চল পুলিশ, থানা পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি গাজীপুরের সংবেদনশীল পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং শ্রমিকদের শান্ত থাকার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন