ঢাকা   রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
English
ই-পেপার
ইছামতী

পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তাল শিল্পাঞ্চল: অন্তত ৮০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা



পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তাল শিল্পাঞ্চল: অন্তত ৮০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি বৃদ্ধি করে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, অযৌক্তিক 'ব্ল্যাকলিস্টিং' (কালো তালিকাভুক্তকরণ) বন্ধ এবং ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পুনর্বাসনের দাবিতে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে তীব্র শ্রমিক অসন্তোষ ও বিক্ষোভ চলছে। ধারাবাহিক এই আন্দোলনের জেরে সাভারের আশুলিয়া ও গাজীপুর এলাকার অন্তত ৮০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ বা অর্ধদিবসের ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শ্রমিকদের প্রধান ক্ষোভ ও দাবির বিষয়গুলো হলো:

  • ন্যূনতম মজুরি: তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন অবিলম্বে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। শ্রমিকদের ভাষ্যমতে, বর্তমান বাজারে যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, তাতে এই বেতনের নিচে সংসার চালানো সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

  • ব্ল্যাকলিস্টিং ও হয়রানি বন্ধ: অতীতে বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে শ্রমিকদের যে অবৈধ ও অযৌক্তিক 'ব্ল্যাকলিস্ট' করা হয়, তা চিরতরে বন্ধ করতে হবে।

  • পুনর্বাসন: বিনা কারণে বা অতীতে চাকরিচ্যুত ও ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের দ্রুত স্ব স্ব কর্মস্থলে পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।


  • সাভার ও আশুলিয়া: নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর, জামগড়া ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করেন এবং সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালান। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও হামলা এড়াতে শারমিন গ্রুপ, হা-মীম গ্রুপ, নিউএজ গ্রুপ ও আল-মুসলিম অ্যাপারেলসসহ সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলের প্রায় ৫০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ সময় আশুলিয়ার একটি এলাকা থেকে কয়েকটি ককটেল বা হাতবোমাসদৃশ বস্তুও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

  • গাজীপুর ও কালিয়াকৈর: কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর ও মৌচাক এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকায় একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গোডাউন এবং একটি পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার অন্তত ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। কোনাবাড়ী এলাকায় একটি পুলিশ বক্সেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

  • রাজধানীর মিরপুর: মিরপুর এলাকাতেও শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। এর ফলে রাজধানীর অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং তীব্র জনদুভোগের সৃষ্টি হয়।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক এবং আশুলিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। দীর্ঘ সময় ধরে সড়ক অবরুদ্ধ থাকায় মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। তীব্র গরমে ও দীর্ঘ যানজটে নারী, শিশু ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। অনেক চালক ও যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে দেখা গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্পাঞ্চল পুলিশ, থানা পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি গাজীপুরের সংবেদনশীল পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) মোতায়েন করা হয়েছে। কিছু স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যেখানে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও শ্রমিক আহত হন। পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশ কোথাও কোথাও মৃদু লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল (টিয়ারশেল) ব্যবহার করে।

অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং শ্রমিকদের শান্ত থাকার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

ইছামতী

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তাল শিল্পাঞ্চল: অন্তত ৮০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি বৃদ্ধি করে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, অযৌক্তিক 'ব্ল্যাকলিস্টিং' (কালো তালিকাভুক্তকরণ) বন্ধ এবং ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পুনর্বাসনের দাবিতে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে তীব্র শ্রমিক অসন্তোষ ও বিক্ষোভ চলছে। ধারাবাহিক এই আন্দোলনের জেরে সাভারের আশুলিয়া ও গাজীপুর এলাকার অন্তত ৮০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ বা অর্ধদিবসের ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শ্রমিকদের প্রধান ক্ষোভ ও দাবির বিষয়গুলো হলো:

  • ন্যূনতম মজুরি: তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন অবিলম্বে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। শ্রমিকদের ভাষ্যমতে, বর্তমান বাজারে যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, তাতে এই বেতনের নিচে সংসার চালানো সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

  • ব্ল্যাকলিস্টিং ও হয়রানি বন্ধ: অতীতে বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে শ্রমিকদের যে অবৈধ ও অযৌক্তিক 'ব্ল্যাকলিস্ট' করা হয়, তা চিরতরে বন্ধ করতে হবে।

  • পুনর্বাসন: বিনা কারণে বা অতীতে চাকরিচ্যুত ও ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের দ্রুত স্ব স্ব কর্মস্থলে পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।


  • সাভার ও আশুলিয়া: নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর, জামগড়া ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করেন এবং সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালান। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও হামলা এড়াতে শারমিন গ্রুপ, হা-মীম গ্রুপ, নিউএজ গ্রুপ ও আল-মুসলিম অ্যাপারেলসসহ সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলের প্রায় ৫০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ সময় আশুলিয়ার একটি এলাকা থেকে কয়েকটি ককটেল বা হাতবোমাসদৃশ বস্তুও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

  • গাজীপুর ও কালিয়াকৈর: কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর ও মৌচাক এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকায় একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গোডাউন এবং একটি পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার অন্তত ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। কোনাবাড়ী এলাকায় একটি পুলিশ বক্সেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

  • রাজধানীর মিরপুর: মিরপুর এলাকাতেও শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। এর ফলে রাজধানীর অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং তীব্র জনদুভোগের সৃষ্টি হয়।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক এবং আশুলিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। দীর্ঘ সময় ধরে সড়ক অবরুদ্ধ থাকায় মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। তীব্র গরমে ও দীর্ঘ যানজটে নারী, শিশু ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। অনেক চালক ও যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে দেখা গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্পাঞ্চল পুলিশ, থানা পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি গাজীপুরের সংবেদনশীল পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) মোতায়েন করা হয়েছে। কিছু স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যেখানে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও শ্রমিক আহত হন। পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশ কোথাও কোথাও মৃদু লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল (টিয়ারশেল) ব্যবহার করে।

অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং শ্রমিকদের শান্ত থাকার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


ইছামতী

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরমান চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ইছামতী