ঢাকা   রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
English
ই-পেপার
ইছামতী

৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে রণক্ষেত্র মিরপুর-১০, শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ



৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে রণক্ষেত্র মিরপুর-১০, শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ

ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের এক দফা দাবিতে রাজধানী ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো মিরপুর এলাকায় চরম আতঙ্ক ও রণক্ষেত্রের পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং তীব্র যানজটে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল আটটা থেকে মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কাজ বর্জন করে দলবদ্ধভাবে রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁরা মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের সড়কগুলোতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। শ্রমিকদের এই আকস্মিক অবরোধের কারণে মিরপুর ১০, ১১, ১২ ও সংলগ্ন এলাকার প্রধান সড়কগুলোতে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রো স্টেশনের গেট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল থেকে চলা অবরোধের একপর্যায়ে বেলা সোয়া ১১টার দিকে পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও কঠোর অবস্থান নেয়। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটা, সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের (টিয়ারশেল) শেল এবং জলকামান থেকে পানি নিক্ষেপ করে। পুলিশের অ্যাকশনের মুখে শ্রমিকরা সাময়িকভাবে আশপাশের گলিগুলোতে সরে গেলেও দফায় দফায় আবার একত্রিত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত মিরপুর-১০ নম্বর চত্বর ও এর আশপাশের এলাকায় ত্রিমুখী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলতে থাকে। এই সংঘর্ষের সময় এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

এর আগে গত শনিবারও (৩১ অক্টোবর) একই দাবিতে মিরপুর-১০, ১১, ১২ ও কালশী এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন শ্রমিকরা। ওইদিন মিরপুর-১ এর শাহ আলী এলাকায় কিছু বিপণিবিতান ও পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল।

এদিকে পোশাক শ্রমিকদের এই তীব্র আন্দোলনের মুখে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে শ্রমিকদের বেতন পর্যালোচনার জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপন বা দৃশ্যমান কোনো সমাধান না আসায় শ্রমিকেরা তাদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবিতে অনড় থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

বর্তমানে মিরপুর ও এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন

ইছামতী

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে রণক্ষেত্র মিরপুর-১০, শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের এক দফা দাবিতে রাজধানী ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো মিরপুর এলাকায় চরম আতঙ্ক ও রণক্ষেত্রের পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং তীব্র যানজটে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল আটটা থেকে মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কাজ বর্জন করে দলবদ্ধভাবে রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁরা মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের সড়কগুলোতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। শ্রমিকদের এই আকস্মিক অবরোধের কারণে মিরপুর ১০, ১১, ১২ ও সংলগ্ন এলাকার প্রধান সড়কগুলোতে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রো স্টেশনের গেট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল থেকে চলা অবরোধের একপর্যায়ে বেলা সোয়া ১১টার দিকে পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও কঠোর অবস্থান নেয়। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটা, সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের (টিয়ারশেল) শেল এবং জলকামান থেকে পানি নিক্ষেপ করে। পুলিশের অ্যাকশনের মুখে শ্রমিকরা সাময়িকভাবে আশপাশের گলিগুলোতে সরে গেলেও দফায় দফায় আবার একত্রিত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত মিরপুর-১০ নম্বর চত্বর ও এর আশপাশের এলাকায় ত্রিমুখী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলতে থাকে। এই সংঘর্ষের সময় এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

এর আগে গত শনিবারও (৩১ অক্টোবর) একই দাবিতে মিরপুর-১০, ১১, ১২ ও কালশী এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন শ্রমিকরা। ওইদিন মিরপুর-১ এর শাহ আলী এলাকায় কিছু বিপণিবিতান ও পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল।

এদিকে পোশাক শ্রমিকদের এই তীব্র আন্দোলনের মুখে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে শ্রমিকদের বেতন পর্যালোচনার জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপন বা দৃশ্যমান কোনো সমাধান না আসায় শ্রমিকেরা তাদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবিতে অনড় থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

বর্তমানে মিরপুর ও এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।


ইছামতী

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরমান চৌধুরী
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ইছামতী